প্রকাশনার ১৫ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

৫ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
২২শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
৭ই শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি

খুনে শীর্ষে ঢাকা, চোরাচালানে সিলেট

editor
প্রকাশিত মার্চ ২, ২০২৫, ০৯:১৩ পূর্বাহ্ণ
খুনে শীর্ষে ঢাকা, চোরাচালানে সিলেট

 

প্রজন্ম ডেস্ক:

 

দেশের থানাগুলোতে প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ মামলা হচ্ছে। এগুলোর সিংহভাগ মাদক এবং নারী-শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত। স্থান বিবেচনায় পুলিশের ঢাকা রেঞ্জে এবং ডিএমপির অধীন জেলাগুলোতে মামলার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

পুলিশ সদর দফতর থেকে পাওয়া গত কয়েক বছরের অপরাধ-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে বেরিয়ে আসে মেট্রোপলিটন ও রেঞ্জভিত্তিক অপরাধের তুলনামূলক বিভিন্ন চিত্র।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, খুনসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধের শীর্ষে আছে বাংলাদেশ পুলিশের ঢাকা মট্রোপলিটন এবং ঢাকা রেঞ্জের অধীন জেলা ও থানাগুলো। তবে চোরাচালান-সংক্রান্ত সবচেয়ে বেশি অপরাধ ঘটেছে সিলেট বিভাগে। মাদক ও বিস্ফোরক-সংক্রান্ত ঘটনা বেশি সংঘটিত হয়েছে রাজশাহীতে। আর অস্ত্র-সংক্রান্ত অপরাধের শীর্ষে আছে চট্টগ্রাম রেঞ্জভুক্ত জেলাগুলো।

 

এদিকে মামলার সংখ্যা বিবেচনায় অপরাধপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করা যায় বলে মনে করেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, মামলা বেশি হওয়ার অর্থ সেসব এলাকায় ওই ধরনের অপরাধও বেশি সংঘটিত হচ্ছে। অপরাধ বেশি হলেই ভুক্তভোগীরা আইনের আশ্রয় নিতে মামলা করেন। গত এক বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, সারা দেশের থানাগুলোতে মোট মামলার সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৭২ হাজার ৫টি। এরমধ্যে সুনির্দিষ্ট অপরাধ বিবেচনায় সর্বাধিক সংখ্যক মামলা ছিল মাদক সংক্রান্ত (৫২ হাজার ৭১৭টি)। এর পরে সর্বাধিক মামলা হয় নারী ও শিশু নির্যাতন-সংক্রান্ত (১৭ হাজার ৫৭১টি)। তৃতীয় সর্বাধিক মামলা হয় চুরি-সংক্রান্ত (৮৬৫৫টি)।

 

২০২৩ সালে সারা দেশের থানাগুলোতে মোট মামলার সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৯৫ হাজার ৪৩৬টি। ২০২২ সালে ছিল ২ লাখ ৪ হাজার ২০টি। ২০২১ সালে ছিল ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫১০টি।

 

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সর্বাধিক সংখ্যক ডাকাতির মামলা হয় ঢাকা রেঞ্জের জেলাগুলোতে (২৪টি)। খুনের ঘটনায় ঢাকা রেঞ্জের জেলাগুলোতে সর্বাধিক ৭৬টি মামলা হয়। ডাকাতির ঘটনায় সবচেয়ে বেশি মামলা হয় ডিএমপিতে (৫৪টি)। নারী-শিশু নির্যাতন-সংক্রান্ত ঘটনায় ঢাকা রেঞ্জে সর্বাধিক ২২৯টি মামলা হয়। এর পরেই হয় রাজশাহী রেঞ্জে (২০০টি)। অপহরণের ঘটনাতেও ডিএমপিতে সর্বাধিক ৩১টি মামলা হয়।

 

পুলিশ সদর দফতর থেকে পাওয়া বিভিন্ন মামলার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪ সালে সারা দেশে ৪৯০টি ডাকাতির মামলা হয়। ডাকাতির ঘটনায় সবচেয়ে বেশি মামলা হয় পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের জেলাগুলোতে-১৭৮টি। এরপর আছে চট্টগ্রাম রেঞ্জে-৮৯টি। মেট্রোপলিটন এলাকাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ডাকাতির মামলা হয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এলাকাগুলোতেÑ৪১টি। এর পরের অবস্থান গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতে-২৩টি। ওই বছর সারা দেশে ডাকাতির ৪৯০টি মামলা হয়।

 

২০২৪ সালে ছিনতাইয়ের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি মামলা হয় ঢাকা রেঞ্জে-২৭৩টি। চট্টগ্রাম রেঞ্জে ২৬৩টি এবং তৃতীয় অবস্থানে রাজশাহী ১৯টি। মেট্রোপলিটন পুলিশের মধ্যে ডিএমপিতে সর্বাধিক ২৪৮টি, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে (সিএমপি) ৯৮টি এবং জিএমপিতে ৪৬টি ছিনতাইয়ের মামলা হয়। ২০২৪ সালে সারা দেশে মোট ১ হাজার ৪১২টি ছিনতাইয়ের মামলা হয়।

 

খুনের ঘটনায় সর্বাধিক মামলা হয় ঢাকা রেঞ্জে-৮০৩টি। চট্টগ্রাম রেঞ্জে ৫৭০টি, রাজশাহীতে ৩৪৩টি। মেট্রোপলিটন সিটিগুলোর মধ্যে ডিএমপিতে সর্বোচ্চ ৩৩৯টি, সিএমপিতে ৯০টি এবং সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) ও খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) নিয়ন্ত্রণাধীন থানা এলাকায় খুনের ঘটনায় ২৪টি করে মামলা হয়।

 

নারী ও শিশু নির্যাতন-সংক্রান্ত ঘটনায় সবচেয়ে বেশি মামলা হয় ঢাকা রেঞ্জে, ২ হাজার ৯২৮টি। এর পরেই আছে রাজশাহী-২ হাজার ২৫৪টি এবং রংপুর রেঞ্জে ২ হাজার ২০০টি। চট্টগ্রাম রেঞ্জে এসব ঘটনায় মামলার সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৯৫৭টি।
মেট্রোপলিট সিটির মধ্যে নারী-শিশু নির্যাতন-সংক্রান্ত সবচেয়ে বেশি মামলা হয় ডিএমপিতে ১ হাজার ৪৬০টি।

 

২০২৪ সালে অপহরণের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি মামলা হয় ডিএমপিতে ১৩২টি। রেঞ্জগুলোর মধ্যে বেশি মামলা হয় চট্টগ্রাম রেঞ্জে ৮৮টি এবং ঢাকা রেঞ্জে ৮৬টি।

 

পুলিশের ওপর আক্রমণের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে ঢাকা রেঞ্জের অধীন জেলাগুলোতে। এসব ঘটনায় ঢাকা রেঞ্জে মামলার সংখ্যা ছিল ১৩০টি। চট্টগ্রাম রেঞ্জে ১০৪টি। মেট্রোপলিটন এলাকাগুলোর মধ্যে ডিএমপিতে মামলার সংখ্যা ছিল সর্বাধিক ৯৫টি।

 

বাসার তালা বা দরজা-জানালা ভেঙে, গ্রিল কেটে, কিংবা মাটির ঘরের মাটি কেটে ঘরে প্রবেশ করে চুরির ঘটনাগুলো সিঁধেল চুরি হিসেবে গণ্য করা হয়। এ ধরনের অপরাধের ঘটনাও সবচেয়ে বেশি ঘটছে রাজধানীতে। গত বছর সবচেয়ে বেশি সিঁধেল চুরির মামলা হয় ডিএমপিতেÑ৬০৭টি। ঢাকা রেঞ্জে সিঁধেল চুরির ঘটনায় মামলা হয় ৪৬৪টি আর চট্টগ্রাম রেঞ্জে ৪১৯টি।

 

চুরির ঘটনাতেও গত এক বছরে ডিএমপিতে ১ হাজার ৫৬৮টি মামলা হয়, যা সারা দেশে সর্বাধিক। রেঞ্জ হিসাবে সর্বাধিক চুরির মামলা হয় চট্টগ্রাম রেঞ্জে-১ হাজার ১৬৯টি।

অস্ত্র আইনে সবচেয়ে বেশি ৫১৭টি মামলা হয়েছে চট্টগ্রাম রেঞ্জে। রাজশাহী রেঞ্জে হয়েছে ৩০৬টি মামলা। ঢাকা রেঞ্জে হয় ১৩৬টি মামলা।

বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে গত বছরে সারা দেশে মোট মামলার সংখ্যা ছিল ৬১১টি। এর মধ্যে রাজশাহী রেঞ্জভুক্ত জেলাগুলোতে সর্বোচ্চ ১৯০টি মামলা হয়। এর পরে চট্টগ্রাম রেঞ্জে ৮৫টি এবং ঢাকা রেঞ্জে এ সংক্রান্ত মামলা হয় ৭৭টি।

মামলার পরিসংখ্যান বিবেচনায় মাদক-সংক্রান্ত অপরাধের দিক দিয়েও এগিয়ে ছিল রাজশাহী রেঞ্জ। এক বছরে রাজশাহী রেঞ্জে সর্বাধিক সংখ্যক মামলা হয়। এর সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ৬১৯টি। এর পরের অবস্থানে ছিল ঢাকা রেঞ্জ-৮ হাজার ১৫৭টি।

 

চোরাচালান সংক্রান্ত ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ৪৮৯টি মামলা হয় সিলেট রেঞ্জে। মামলার দিক থেকে এর পরের অবস্থানে ছিল ময়মনসিংহ রেঞ্জ-৪১৬টি, চোরাচালান-সংক্রান্ত ২৮২টি করে মামলা হয় চট্টগ্রাম এবং রাজশাহী রেঞ্জে। গত এক বছরে সারা দেশে চোরাচালান-সংক্রান্ত মোট মামলার সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৮৪টি।

গত মাসে সারা দেশে সর্বাধিক মামলা হয় মাদক-সংক্রান্ত-৪ হাজার ৩৬৮টি। এর পরে যথাক্রমে নারী-শিশু নির্যাতন-১ হাজার ৪৪০টি, চুরির মামলা ৭৯৭টি এবং খুনের মামলা হয় ২৯৪টি।

 

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পুলিশের বর্তমানে আটটি প্রশাসনিক বিভাগে আটটি রেঞ্জ এবং রেলওয়ে ও হাইওয়ে পুলিশ নামের দুইটি স্বতন্ত্র রেঞ্জ আছে। এ ছাড়া ৮টি মেট্রোপলিটন সিটিতে রয়েছে মেট্রোপলিটন পুলিশ।
ঢাকা রেঞ্জের অধীনে ১৩টি জেলা, ৯৬টি থানা ও ৪৩টি সার্কেল রয়েছে। দুইটি থানা মিলে একটি সার্কেল গঠিত হয়।

 

চট্টগ্রাম রেঞ্জের অধীনে আছে ১১টি জেলা, ময়মনসিংহ রেঞ্জের অধীনে আছে ৪টি, সিলেট রেঞ্জের অধীনে ৪টি, খুলনা রেঞ্জের অধীনে ১০টি, বরিশাল রেঞ্জের অধীনে ৬টি, রাজশাহী রেঞ্জের অধীনে ৮টি এবং রংপুর রেঞ্জের অধীনে আছে ৮টি জেলা।

Sharing is caring!