২৬ বছর ধরে শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের সনদ লিখছেন যিনি

প্রকাশিত: ৩:২১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৪, ২০২২

২৬ বছর ধরে শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের সনদ লিখছেন যিনি

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি:

নিজে পড়তে পারেননি সিলেটের স্বনামধন্য শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি)। কিন্তু এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সনদ লেখা হয় তারই হাতে। তিনি হলেন শাবিপ্রবির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আব্দুল মুহিত হেলাল।

তার বাড়ি সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলায়। পড়াশোনায় স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন সিলেট শহরের মদন মোহন কলেজ থেকে। এর বাইরে তিনি এল.এল.বি ও সম্পন্ন করেছেন। তবে নিজে না পারলেও সন্তানকে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতে চান তিনি। সন্তানের সনদটি লেখতে চান নিজ হাতে।

মো. আব্দুল মুহিত হেলাল ১৯৯৬ সাল থেকে প্রায় ২৬ বছর ধরে নিজ হাতে লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর সাময়িক ও মূল সনদ লেখেছেন। এ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট তিনবার সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ তিন সমাবর্তনেই নিজ হাতে লিখেছেন বিশ্ববিদ্যালয়, অধিভুক্ত কলেজ এবং মেডিকেল কলেজ পাশ করা শিক্ষার্থীদের সনদ।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৮ সালের ২৯ এপ্রিল। এরপর দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ২০০৭ সালের ৬ ডিসেম্বর এবং তৃতীয় ও সর্বশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি মাসে।

আব্দুল মুহিত জানান, সর্বশেষ তৃতীয় সমাবর্তনে তিনি লেখেছেন স্নাতক এবং স্নাতকোত্তরের আবেদনকৃত প্রায় ১১ হাজার শিক্ষার্থীর সনদ। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর সূত্রে, জানা যায় তিনি সমাবর্তনে খুব কম সময়ে সনদগুলো লেখা শেষ করেছেন। এত কম সময়ে সনদ একা লেখতে গিয়ে অসুস্থও হয়ে যান তিনি।

 

শাবিপ্রবিতে আব্দুল মুহিতের চাকরি শুরু হয় ১৯৯৬ সাল থেকে মাস্টার রোলে অফিস সহকারি হিসেবে। পরবর্তীতে ১ নভেম্বর ২০০০ সালে ক্যালিওগ্রাফার হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন তিনি। এরপর পদোন্নতি পেয়ে সিনিয়র ক্যালিওগ্রাফার এবং সর্বশেষ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন।

এছাড়াও বহু পুরাতন জিনিসপত্র সংগ্রহে রাখা তার শখ। সংগ্রহে রেখেছেন বহু পুরাতন মডেলের মোটরসাইকেলও। শিক্ষার্থীদের সনদ লিখতে ব্যবহার করেন দেশের বাইরে থেকে আনা দামি কলম। এ বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের নাম করা বিদ্যাপীঠ থেকে পড়াশোনা শেষ করে দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের সর্বোচ্চ এ অর্জনকে আমি সর্বোচ্চ সম্মান দিই। সেজন্যই আমার এ প্রচেষ্ঠা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মখলিছুর রহমান পারভেজ জানান, আব্দুল মুহিত তার কর্মক্ষেত্রে অত্যন্ত সততা এবং কর্মদক্ষতার সঙ্গে তার কাজ করে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন যাবত। এত বছর যাবৎ শিক্ষার্থীদের সনদ অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে তিনি লেখে যাচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে বেরিয়ে যাওয়া অনেক শিক্ষার্থীরাই হয়তো জানে না তাদের সনদ লিখার পেছনের গল্প। তারা হয়তো তার নামও জানেন না। আব্দুল মুহিত অনেক সময় অনেক অসুস্থতা নিয়েও এ কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি আরও সামনে এগিয়ে যাক আমরা সে প্রত্যাশা রাখি।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আর্কাইভ

December 2022
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com