স্বাধীনতাবিরোধীদের কথায় সংবিধান পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই: হানিফ

প্রকাশিত: ৬:০৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২০, ২০২২

স্বাধীনতাবিরোধীদের কথায় সংবিধান পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই: হানিফ

 

প্রজন্ম ডেস্ক:

যারা স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকারদের দোসর ও পাকিস্তানের আদর্শে বিশ্বাসী, তাদের কথায় সংবিধান পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ।

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, সংবিধান মেনে যদি নির্বাচনে আসেন, আপনাদের স্বাগত। আর যদি না আসেন, সেই দায়ভার আপনাদের। সংবিধানের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।

রোববার(২০ নভেম্বর) নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, জাতীয় সংসদ নিবাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। সেই নির্বাচনে সকল রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করুক সেটা আমরা চাই। নির্বাচন হবে বর্তমান সরকারের অধীনে সংবিধানসম্মত উপায়ে। বর্তমান নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করবে। নির্বাচনকে অধিক ত্রুটিমুক্ত করার কোনো পরামর্শ থাকলে দিতে পারেন। সরকার এবং নির্বাচন কমিশন অবশ্যই বিবেচনা করবে।

বিএনপিকে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা চাই দেশে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আপনারা শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করুন। আমাদের কোনো অসুবিধা নেই, কোনো বাধা নেই।

আওয়ামী লীগের এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের শক্তি বাংলার মানুষ, এদেশের জনগণ। আপনার মনে করছেন আপনাদের জনসভায় কিছু সুবিধাবাদী লোক, কর্মী গিয়েছে। এতেই মনে করছেন একেবারে গোটা দেশ আপনাদের হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া দল। বাংলার মাটির অনেক গভীরে আওয়ামী লীগের শেকড়, কোনো ভূঁইফোড় দল নয়। আওয়ামী লীগ কচু পাতার পানি নয় যে ধাক্কা দিলে টলমল করে পড়ে যাবে। আপনাদের মতো দল অন্দোলন করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করার স্বপ্ন দুঃস্বপ্নই থাকবে।

খালেদা জিয়াকে পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলার পর বহু নাটক করেছেন আপনারা। হাওয়া ভবনে বসে তারেক রহমান রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল। আজ তা প্রমাণিত হয়েছে। আলামত ধ্বংস করেছিলেন, হামলায় আহতদের চিকিৎসা নিতে দেননি। তিন ঘণ্টা থানায় বসিয়ে রেখে মামলাও নেননি। উল্টো খালেদা জিয়া সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, শেখ হাসিনাকে আবার কে মারবে যাবে। তিনি নিজেই ভ্যানিটি ব্যাগে করে গ্রেনেড নিয়ে গেছেন। কি নির্লজ্জ রসিকিতা, মিথ্যচার। তখন কোথায় ছিলো অপানদের কান্না। কোথায় ছিলো গণতন্ত্র, মানবতাবোধ। আর আজ আপনারা গণতন্ত্র, মানবতার কথা বলেন।

 

জিয়াউর রহমান কখনো মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না দাবি করে হানিফ বলেন, জিয়াউর রহমান নাকি সিলেটে যুদ্ধ করেছেন। আমি সিলেটে বহু জনসভা করেছি। সেসব জনসভায় বলেছি, এই সিলেটের রণাঙ্গনে জিয়াউর রহমান যুদ্ধ করেছে এরকম কোনো ইতিহাস থাকে জানানোর জন্য। উনি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন কোনো ইতিহাস খুঁজে পাইনি।

জিয়াউর রহমান মনেপ্রাণে পাকিস্তানের আদর্শ ধারণ করতেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, জিয়া বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ক্ষমতা দখল করেছিলেন। তার কমকাণ্ড প্রমাণ করে তিনি পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন। যার কারণে রাজাকারদের দিয়ে মন্ত্রীসভা গঠন করেছিলেন। কুখ্যাত রাজাকার গোলাম আজমকে রাজনীতির সুযোগ দিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যা ও মা-বোনের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো নিষিদ্ধঘোষিত জামায়াতকে রাজনীতির সুযোগ করে দিয়েছেন।

জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশকে এখনো পাকিস্তানের তাবেদার রাষ্ট্র বানাতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী একাত্তর সালে রাজাকার ছিল, এখনো রাজাকার আছে। তারা এখনও এ দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। ২০১৩ সালে তাদের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা কাদের মোল্লা, মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুজাহিদের ফাঁসিতে দেশের মানুষ খুশি হয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তানের পার্লামেন্টে নিন্দা প্রস্তাব পাস হয়েছিল। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরী নিসার আলী বলেছিলেন- কাদের মোল্লা, নিজামী, মুজাহিদ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পাকিস্তানের অকুতোভয় সৈনিক ছিলেন। মতিউর রহমান নিজামীকে বেসামরিক সর্বোচ্চ নেসার-ই পাকিস্তান উপাধি দেয়ার মধ্য দিয়ে প্রমাণ করেছে তারা পাকিস্তানের পক্ষের রাজনীতিক। স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরও তারা পাকিস্তানের সৈনিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না।

 

 

দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্য করে হনিফ বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা এখন শুধু বাংলাদেশের নেত্রী নন, সারা বিশ্বের মধ্যে প্রথম পাঁচজন নেতার মধ্যে একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে চিহ্নিত। সেই শেখ হাসিনার কর্মী আমরা। আওয়ামী লীগের কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোন শক্তি নেই আওয়ামী লীগকে পরাস্ত করতে পারে। বাংলাদেশের শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ বিশ্বাস করে শেখ হাসিনার নেতৃত্ব থাকলে দেশ উন্নয়ন-অগ্রগতিতে এগিয়ে যাবে।তারা শেখ হাসিনাকে আবারো রাষ্ট্রক্ষমতায় দেখতে চায়। সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে হবে।

ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি ও ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী। সম্মেলন উদ্বোধন করেন জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ এ এইচ এম খায়রুল চৌধুরী।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আর্কাইভ

December 2022
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com