সরকার ‘বালখিল্য আচরণ’ করছে: মির্জা ফখরুল

প্রকাশিত: ৩:০৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৭, ২০২২

সরকার ‘বালখিল্য আচরণ’ করছে: মির্জা ফখরুল

 

প্রজন্ম ডেস্ক:

বিএনপির চলমান কর্মসূচিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগ এনে সরকারের কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সরকারের এসব কর্মকাণ্ডকে ‘বালখিল্য আচরণ’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ফখরুল। এ সময় গত সোমবার অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির সভার সিদ্ধান্ত তুলে ধরেন বিএনপির মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে সমাবেশগুলোকে নস্যাৎ করার জন্য বালখিল্য আচরণ করছে। যে সভা চার ঘণ্টায় শেষ হয়ে যায়, সেই সভাকে তারা তিন-চার দিন ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। তাদের এই কর্মকাণ্ডকে বালখিল্য বলা ছাড়া আর উপায় নাই। তাদের উদ্দেশ্য একটাই—তারা এটাকে নস্যাৎ করতে চায়। কিন্তু জনগণের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, এটাকে বন্ধ করা যাবে না। এটা বন্ধ করা এত সহজ নয়।’

শান্তিপূর্ণভাবে জনগণের সতর্স্ফূত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা কোথাও কোনো সহিংসতা এবং পাল্টা প্রতিরোধ করিনি। এর মধ্য দিয়ে জনগণের মধ্যে একধরনের আশার সৃষ্টি হয়েছে যে, এবার হয়তো এই সরকারের পতন দেখতে পাবে। আমরা এমন কোনো কর্মসূচি নেব না, যা জনগণের ভোগান্তির কারণ হবে। আমরা আন্দোলন করছি জনগণের দাবি নিয়ে।’

ফখরুল বলেন, ‘ঢাকার সমাবেশকে কেন্দ্র করে এমন একটা আবহ তৈরি করছে, যেন মনে হচ্ছে ১০ তারিখে ঢাকায় একটা যুদ্ধ হবে। এটা তারা (সরকার) তৈরি করেছে। আমরা খুব পরিষ্কার বলেছি, এখনো বলছি, ঢাকার সমাবেশ হচ্ছে আমাদের বিভাগীয় সমাবেশ। ঢাকা থেকে আমরা পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে জনগণের আরও সামনে আসব। এটা তো চূড়ান্ত সমাবেশ নয় বা চূড়ান্ত আন্দোলনের কর্মসূচি নয়। ইচ্ছাকৃতভাবে আওয়ামী নেতা, মন্ত্রী-এমপিরা হুমকি দিচ্ছেন। তাঁরা বলছেন—ছেড়ে দেওয়া হবে না, দেখে নেওয়া হবে।’

সরকারকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নিজস্ব চরিত্র হারিয়ে ফেলেছে। তারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সম্পূর্ণভাবে আমলা ও গোয়েন্দানির্ভর একটি দলে পরিণত হয়েছে। যে কারণে বড় বড় ভুল সিদ্ধান্ত তারা নিচ্ছে। এ জন্য আমরা বলছি, সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হোক, তারা মানে মানে পদত্যাগ করুক। সেটাই তাদের জন্য মঙ্গল হবে। অন্যথায় চলমান এই আন্দোলনের ধারা যে পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছাবে, তখন কিন্তু তাদের পিছু হটার আর রাস্তা থাকবে না। সেফ এক্সিট যাকে আমরা বলি, সেটা তাদের থাকবে না, পালানোর পথ খুঁজে পাবে না।’

ধর্মঘটে অর্থনৈতিক ক্ষতি জনসমক্ষে তুলে ধরার আহ্বান
বিএনপির গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে ডাকা পরিবহন ধর্মঘটে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা জনসমক্ষে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমটির এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘সরকারের নির্দেশে পরিবহন মালিকেরা আমাদের সমাবেশের দিনগুলোতে ধর্মঘট দিয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে। ইতিমধ্যে ১০ দিন সরকার ঘোষিত ধর্মঘট পালন করেছে। এতে দেশের কী পরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে, তা অর্থনীতিবিদ ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গকে নির্ণয় করে জনসমক্ষে প্রকাশ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

ফখরুল বলেন, ‘আমরা সমাবেশ দিলেই জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হবে, মানুষের যাতায়াতের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে—এই অজুহাত দেখায় প্রশাসন। অথচ সরকার সারা দেশে অঘোষিত ধর্মঘট পালন করে সব মানুষকে দুর্ভোগের সম্মুখীন করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু কর্মকর্তা সরকারের প্রত্যক্ষ নির্দেশে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে বিরোধী মতের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার ও নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে। কোথাও নিজেরাই গুলি করে বিরোধী মতের নেতা-কর্মীদের নামে মামলা দিচ্ছে। আবার কোথাও গ্রেপ্তার করে পুরোনো মামলায় জেলে পাঠাচ্ছে। আবার কোথাও কোথাও নিজেরাই বোমা পেতে রেখে বিরোধী মতের নেতা-কর্মীদের নামে বিস্ফোরক আইনে মামলা দিচ্ছে, যা ইতিমধ্যে সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কর্মসূচিগুলো বাধাগ্রস্ত করতে সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের দলীয় সন্ত্রাসীদের দিয়ে বিরোধী মতের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষকে হত্যা, হামলা করে আহত, গ্রেপ্তারসহ সব প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।’

সারা দেশে বিএনপির নেতা-কর্মীদের আহত, নিহত ও গ্রেপ্তারের তালিকা তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির মহাসচিব অভিযোগ করেন, ‘ঢাকার সমাবেশকে বানচাল করার লক্ষ্যে মুন্সিগঞ্জে আমাদের নিরীহ নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে শহিদুল ইসলাম শাওনকে হত্যা করে। আবার বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে সাজানো মামলায় দলের সমাজসেবাবিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতনকে মিথ্যা মামলায় জেলে পাঠিয়েছে। আর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম হাওলাদার, যুবদলের সাবেক সহসভাপতি আলী আকবর চুন্নুসহ ঢাকার বিভিন্ন থানায় ইতিমধ্যে ৫০ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল (বুধবার) নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে ৫০ জন কর্মীকে আহত করেছে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আর্কাইভ

December 2022
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com