“শ্রদ্ধেয় অভিভাবকবৃন্দ ও প্রিয় ছাত্র ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা”

প্রকাশিত: ১২:০৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৭, ২০২২

“শ্রদ্ধেয় অভিভাবকবৃন্দ ও প্রিয় ছাত্র ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা”

এডভোকেট মোঃ আমান উদ্দিন:
আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি। প্রকৃতির সোন্দর্যের ভরপুর আমাদের জন্ম ভূমি। মাটে ঘাটে শস্য শ্যামলা, সুজলা- সুফলা ফল ফলদি সুস্বাদ্ব খাদ্য দিয়ে আমাদের ও পুর্বপুরুষদের লালন ভূমির নাম বাংলাদেশ।

 

 

জন্ম ভূমির প্রতিটি ধুলা বালুকে শ্রদ্ধা সম্মান করা ঈমানী দায়িত্ব।দেশ প্রেম ঈমানের অংশ।আজ থেকে ৪০/৫০ বছর পূর্বে কয়জনই বা শিক্ষিত ছিল। দলিল দস্তাবেজ দেখনে বুঝা যায় স্বাক্ষর জ্ঞান সম্পুর্ন মানুষ অতি নগন্য ছিল।

 

 

এসব অর্ধ শিক্ষিত অশিক্ষিত মানুষদের প্রচেষ্টায়ই তো কালের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রতিটি অঞ্চলে কারিগরি, বিজ্ঞান, কৃষি, পরিবেশ সহ নানাবিধ শিক্ষা প্রতিষ্টান নতুন প্রজন্মর জন্য তৈরী করে গেছেন। এসব প্রতিষ্টান থেকে যুগোপযোগী শিক্ষা গ্রহনের উদাত্ত আহবান জানিয়ে গেছেন।অতিথে যদিও আমরা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষা গ্রহন করেননি।সবার শিক্ষা গ্রহনের সুযোগ কমই ছিল। হাতে গোনা কয়টি মাত্র প্রতিষ্টান ছিল।

 

ভবিষ্যত প্রজন্ম যাহাতে সহজে শিক্ষা গ্রহন করে সমাজ বিনির্মানে অগ্রনী ভূমিকা পালন করে সোনার ছেলে হয়ে গড়ে উটে। সেজন্য যত্রতত্র প্রতিষ্টান গড়ে দিয়ে গেছেন।তাদের বিদেহী আত্মার প্রতি বিনন্ম শ্রদ্ধা এবং তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করিতেছি। এসব শিক্ষা প্রতিষ্টান থেকে প্রচুর শিক্ষার্থী তাদের মেধাও যোগ্যতার ছাপ রেখে শিক্ষিত হচ্ছে।

 

কেহ অনার্স, মাস্টার্স, ডিগ্রী অর্জন করলেন।শিক্ষক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবি হলেন।ভবিষ্যত গড়তে হলে প্রবাসে যেতেই হবে। এসব শিক্ষিত ছাত্র কে প্রশ্ন করতে চাই ডিগ্রী অর্জন করতে রাষ্ট্র আপনার পিছনে কতটাকা খরচ করেছে? রাষ্ট্রকে কি দিয়ে ঋন পরিশোধ করেছেন? কিছুই রাষ্ট্রকে দেননি।প্রচার করতে লাগলেন, এদেশে শিক্ষা দিক্ষা অর্জন করে কোন লাভ নেই।

 

 

ঘোষ ছাড়া চাকুরী হয় না। এ কথাটী কিছুটা সত্য হলেও বেশীর ভাগই মিথ্যা। চেষ্টা করার পূর্বেই বলতে শুরু করলেন, ভবিষ্যত গড়তে হলে প্রবাসে যেতে হবে। জন্ম ভূমিতে কিছু করতে চেষ্টাই করলেন না।না করে অযথা দেশের দুর্নাম করে পিতার বাড়ি ঘর বিক্রি করে প্রবাসে চেলে গেলেন।দেশে থাকা কালীন কোন কিছু করতে লজ্জা বোধ করতেন।অথচ এই সোনার ছেলেরা প্রাবাসে গিয়ে ২৪ ঘন্টাই কাজ করতে লজা বোধ করে না। যে দেশে কাজের বুয়া নেই, সে দেশে নিজেকেই রান্না, বান্না, টয়লেট, পরিষ্কার, করতে হয়।

 

 

কেহ তান্দুরী, ওয়েটার বা বাসায় খাদ্য দ্রব্য পৌছে দেওয়া বা কন্সট্রাকসনের কাজ, ফুল, বেল্ট, বিক্রি করতে কি লজ্জা লাগেনা? তখন লজ্জা গেল কোথায়? মান সম্মান কোথায় গেল? ২৪ঘন্টার মধ্যে হয়ত ৬ঘন্টা ঘুমালেন।

 

অবশিষ্ট ১৮ ঘন্টা পরিবারিক ও পেশার কাজে ব্যয় করলেন। মাইনা হয়ত কামাই করলেন ৭০/৮০ হাজার টাকা। টাকা প্রদানের মিশিন যখন বন্ধ হয়ে যাবে তখন পরিবারের কাছে সামান্যতম সম্মান থাকবে না। এটাই বাস্তবতা। ফিরে আসি বাপ-দাদার অতিথ কালের স্মৃতিময় জীবনের কথা। তাদের মধ্যে আত্বিকতার সম্পর্ক ছিল। পরষ্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ছিল। সবাই এক সাথে খেতে আনন্দ বোধ করতেন।

 

বন্যা, খরা ইত্যাদির কারনে ফসলাদি নষ্ট হয়ে যেত। প্রযুক্তির সু-ব্যবস্থা ছিল না । ১০বিঘা জমি চাষাবাদ করে ধান পেতেন যেখান ২০মন। বর্তমানে প্রযুক্তির সুবাদে ১বিঘা জমি চাষাবাদ করলে ধান উৎপাদন হয় ৪০মন।প্রতিটি ক্ষেত্রেই উন্নয়ন হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য পিতা হয়ত ১০% বিনিয়োগ করেছেন। অবশিষ্ট টাকা রাষ্ট্র বিনিয়োগ করেছেন । শিক্ষিত হওয়ার অর্থ এইনয় যে আপনি শুধু সরকারী চাকুরী করবেনই। সরকারী চাকুরী বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে অত্যন্ত সীমিত। শিক্ষিত হয়েছেন। নিজ শিক্ষাকে কাজে লাগান। পিতা-মাতার দেখানো এবং শিখানো পথে সঠিক বিনিযোগ করে কর্মক্ষেত্র তৈরী করে নিজে নিজের কাজ করুন। অন্য দশজন কে চাকুরীর সুব্যবস্থা করুন।বিশ্বের কোন দেশেই যে শিক্ষা অর্জন করে গেছেন, সেখানে চাইলেই কি সরকারী চাকুরী পাবেন? পাবেন অসম্মানজনক কাজ।তাও আবার সকালে চাকুরী আছে, বিকালে চাকুরী নেই। ছাত্রীদের স্মরন করিয়ে দিতে চাই, যে দেশে বোয়া রাখার সু ব্যবস্থানেই। সুতরাং সুখী যদি হতেচান ভালো কৃষক কে বিয়ে করলে যে সুখ পাবেন, প্রবাসী স্বামী যতই অর্থনৈতিক স্বাবলম্বি ইউক না কেন কাজের বোয়া কিছুতেই রাখবে না? যে জাতি যত বেশী শিক্ষিত সে জাতি ততবেশী উন্নত। পূর্বপুরুষরা বলতেন, বাংলাদেশে শুধু কেরাসিন আর লবণ বাদে সব কিছু নিজস্ব প্রযুক্তি তে উৎপাদন সম্ভব। বিশ্বের এমন একটি দেশ দেখান যেখানে সব কিছু উৎপাদন হয়। তাদের খাদ্য সামগ্রী আমদানি নির্ভর। টাকা থাকলে সব কিছু পাওয়া যায়। আর আমাদের দেশে টাকা ছাড়া সামান্য শ্রম বাড়ির পশ্চিম বা পূর্ব পাশে ব্যয় করলে সবকিছু পাওয়া যায়। যেমন সৌদি আরব বা দুবাই বা মধ্যপ্রাচ্যে একটি গাছ জীবিত রাখতে হলে সকাল,দুপুর,রাত্রিতে পানি দিতে হয় নিজেস্ব ব্যবস্থাপনায়। বাংলাদেশে কি গাছটি বাচাতে পানি দিতে হয়? না। সুতরাং অনিশ্চত ভাল ভবিষ্যত জীবন গড়ার স্বপ্ন নিয়ে শিক্ষিত জনগোষ্টী দেশ ত্যাগ করলেন। এতে কি দেশের বিরাট ক্ষতি হয়ে গেল না? দেশে যদি বিদেশের ৪/১ ভাগ শ্রম দিলে সোনার বাংলা হতে মাত্র সময়ের ব্যাপার। তাই আমরা শপথ করে বলি, ’’আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসী’’। সোনার ছেলেরা দেশে পরিশ্রমী হয়ে সোনার বাংলা গড়ব এই হউক শিক্ষিত যুব সমাজের অঙ্গিকার।

লেখকঃ সভাপতি, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বিয়ানীবাজার, সিলেট।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com