“মানুষ”

প্রকাশিত: ৭:০৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২২

“মানুষ”

এডভোকেট মোঃ আমান উদ্দিন :
হযরত আলী (রাঃ) বলেন ‘অন্যের নিকট হাত পাতার ফলে মানুষের সর্বোত্তম সম্পদ বিনষ্ট হয়ে যায়।‘’ সে হচ্ছে আত্মমর্যাদা বোধ।

হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন, মানুষ একে অপরের ভাই। এক ঘন্টা যদি গরিব লোকের দুঃখ মোচনের জন্য ব্যয় করা হয় তবে তা ছয় মাস মসজিদে বসে ইবাদত করার সমান।ডেল কার্নেগীর ভাষায়, ভুল করা কোন সমস্যা নয়, কারন যে ভুল করে না সে মানুষ নয়।

পিতার ঔরষে এবং মাতার গর্ভে ১০মাস ১০দিন থাকার পর ভূমিষ্ট হলেন মানুষের কুলে । জন্মের পর কিন্তু কোন বিশেষ গোষ্টী বা সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন না। বয়স বাড়ার সাথে সাথে পিতা-মাতা যে ধর্মের অনুসারী, সেই ধর্মের ধর্মীয় শিক্ষা দ্বারা শিক্ষা নিতে শুরু করলেন। ভাল মন্দ বোঝার যোগ্যতা অর্জন করলেন। উৎফুল্ল মনে পিতা-মাতা শিশু সন্তানটি কে বড় করলেন।

সামাজিক শিক্ষা এবং একাডেমিক শিক্ষা দিলেন। উভয় শিক্ষা যদি অন্তরে লালন এবং পালন করতে শিখেন তাহলে সৃস্টির শ্রেষ্ট মানুষ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ক’জনই বা এ গুন অর্জন করতে শিখেছি। ব্যাকরনের ভাষায় কাল ৩ প্রকার।

অথিত বর্তমান এবং ভবিষ্যত কাল।প্রাপ্ত বয়ষ্ক হওয়ার পুর্বে পর্যন্ত কালকে অতিথ কাল বলে।অতিথ কাল হচ্ছে শিশুদের জন্য উৎকৃষ্ট সময়।কারন এই সময়টা শুধু অথিতের শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। যেতে পারলে হয়ত সফলতা ভোগ করা সম্ভব।অনাগত ভবিষ্যত জীবনটা শুরু হবে নানাবিধ শারিরিক দুর্বলতা পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যা, আল্লাহর প্রতি ভীতি এবং অথিত বর্তমান সময়ের স্মৃতিচারন এবং এবং কায়মনো বাক্যে ক্ষমা চাওয়া।

কারও হক তসরুপ, দুনিয়ার জীবনে ঘোষ, দুর্নিতি, অনিয়ম করে থাকলে, এদের মালিকদের নিকট অর্জিত সম্পদ থেকে জীবদ্দশায় ফেরাৎ দেওয়া।সুযোগ হলে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া। বেশী করে মৃত্যুর কথা স্মরন করা এবং খালিছ নিয়তে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা।কোরআন হাদিসের ভাষায় কাল ২ প্রকার। ইহাকাল এবং পরকাল। ইহাকাল মানে দুনিয়ার ৬০/৭০ বছরের জিন্দেগী। কিন্তু পরকাল হচ্ছে অন্তন্তকাল।সে কালের কোন শেষ নেই ।অপকম করে থাকলে সূর্য আপনার মাথায় উপরে চলে আসবে। দুনিয়ার কোন অবৈধ উপার্জন পরকালে কোন কাজে আসবে না।বরঞ্চ সাফ বিচ্ছু হয়ে অন্তন্তকাল যন্ত্রনা ভোগ করতে হবে। আর পাপ তো আর গোপন রাখার কোন ব্যবস্থা নেই।

কেননা আল্লাহ পরিষ্কার ঘোষনা দিয়েছেন, ‘’জীবদ্দশায় পাপ পূন্যের হিসাব লিপিবদ্ব করে রাখার জন্য ২জন ফেরেশতা সার্বক্ষনিক দায়িত্ব পালন করে থাকেন।‘’ ফেরেশতা দ্বয়ের নাম কিরামান-কাতেবিন। দুনিয়ার অন্য কোন স্বাক্ষী পরকালে কোন কাজে আসবে না।

সুতরাং প্রাপ্ত বয়ষ্ক হওয়ার সাথে সাথে জ্ঞান অর্জন করুন। যে জ্ঞান ইহাকাল ও পরকালের কাজে আসবে। শয়তান ও তো আল্লার সৃষ্টি। সে প্রতিমুহুর্তে তাকে অনুসরন করার প্ররোচনা দিবে। ঘোষনা দিবে কত জ্ঞানী। প্রথভ্রষ্ট হয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিলেন। খ্যাতি পেলেন জ্ঞান পাপী।

 

সুতরাং ক্ষনস্থায়ী জীবনটা হয়ে গেল বিষ বাষ্পে ভরপুর। অন্তন্তকাল সেই বিষ বাষ্পে কাতরাবেন। কিন্তু কোন শয়তান সাহায্য করতে এগিয়ে আসবে না। লাক্বড় দাদা, পৈদাদা, দাদা, এদের সবার ও তো দাদা ছিলেন।কিন্তু চিন্তা করে দেখেন কোন ক্ষমতাধর দাদাতো আর অনন্ত কালবাচেননি, বাচবেন ও না। আপনি আমি কেহ বাচব না। অবৈধ উপায়ে হাজারও কোটি উপার্জন করলেন। নির্মান করলেন বিলাশ বহুল অট্রালিকা।কিন্তু মারা যাওয়ার পর খোদা চাইলে দুনিয়াতে প্রাসাদ এবং আত্মীয় স্বজনকে একটি বার দেখে আসার সুযোগ করে দিলেন।ঘরে আসার পর দাবী করলেন এ সবই তো আমি করেছি।কিন্তু ঘরের একটি মানুষও তো চিনবে না। বরঞ্চ পাগল উপাধি দিয়ে তাড়িয়ে দিবে। খেতাব পেলেন পাগল।

আমার দেখা একটি ঘটনা পাঠক সমাজ কে অবহিত করতে চাই। পদবী অফিস সহকারী।আয়কর অফিসে চাকুরী করেন। বেতন সর্বসাকুল্য আট হাজার টাকা। চাইলে অবৈধ ভাবে আশি হাজার টাকা আয় করার সুযোগ আছে। কিন্তু করেননি। বেচারার উত্তর আমার তো আট হাজার টাকা সুন্দর ভাবে সংসার চলে।ঘর ভাড়া দিতে হয় না। উত্তারাধীকারী সূত্রে দুই রোমের একটি ঘর টিনশেডের আছে। ছেলে মেয়ে ৩জন। ছেলে এবং একমেয়ে সরকারী মেডিকেল কলেজে এবং অপর মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে অধ্যয়নরত। কোন ঋণ এবং অসুখ পরিবারে নেই। অপরদিকে একই অফিসের বড় কর্মকর্তা। পদবী বিভাগীয় কমিশনার। বেতন তো আর জানার সুযোগ নেই। কেননা জিজ্ঞাসাকরলে হয়ত মনে কিছু করে ফেলতে পারেন। জনৈক ব্যক্তি কমিশনার কে ৩লক্ষ টাকা ঘুষ দিলেন। ঐ ব্যক্তিকে বললেন এটাকা কি দরগাহে দিচ্ছেন? ভদ্রলোক বিপদে।প্রতিবাদ না করে, আস্তে আস্তে বললেন স্যার গরু ছাগল জায়গা বিক্রি করে এটাকা………। কিন্তু কমিশনার এর লাজ লজ্জার ভালই নাই।

কমিশনার কে জিজ্ঞাসা করলাম, ছেলে মেয়ে কয়জন? যদিও আমার সব জানা। তখন কমিশনার বললেন ভাই একমাত্র মেয়ে সংসারে আছে। বললাম সে কি ম্যাডিকেল বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িতেছে? আমতা-আমতা করে উত্তর। না ভাই সে-সিরিয়াছ অসুস্থ। তাকে সাপ্তাহে ৩/৪ দিন স্পেশালিষ্ট ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হয়। বলুনতো তাকে কি টাকায় সুখী করতে পেরেছে? না। তার বডি ল্যাংগুয়েজ থেকে বুঝতে পারলাম, আগুনের লেলিহান শিখায় জলতেছে।সুতরাং টাকা কড়ি দিয়ে সুখ শান্তি কেনা যায় না।প্রকৃত মানুষ হলে এবং ছেলে মেয়েদের প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করে যেতে পারলে ইহকাল যেমন সুখী তদ্রুপ পরকালে সুখী হবেন বলে দাবী করতেই পারেন।

যেমনঃ হযরত মৌলানা ফারুকী (বরুনী), হযরত মৌলানা আব্দুল লতিফ চৌধরী ফুলতলি, হযরত মৌলানা জুনায়েদ বাবুনগরী, হযরত মৌলানা ফজলুল হক আমিনী, হযরত মৌলানা আব্দুর রশীদ তর্ক বাগীশ, হযরত মৌলানা আজিজুল হক, হযরত মৌলানা হফেজ্জী হুজুর প্রমুখ। তাঁদের পরিবার কে নিয়ে কি চিন্তা করা যায় না? তাঁহারা যে ফুলবাগান তৈরী করে গেছেন। অন্তন্ত কাল তাদের সেই সাজানো ফুলবাগান থেকে আতরের খোশবো বের হতেই থাকবে।তাদের জীবনটা হবে ধন্য। ইহকালে যেমনি সম্পানী ছিলেন, অনুরুপ পরকালে সম্মানী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী। সুতরাং মানুষ কে মানুষত্ব উপহার দিন।ক্ষমতা ক্ষনস্থায়ী কিন্তু গুন চীরস্থায়ী। যেমনঃ সদ্য অবসরে যাওয়া জেনারেল আজিজ এবং অবসরে যাওয়ার প্রস্ততিতে বেনজির। হায় আল্লাহ নিরীহ মানুষজনের আহাজারি কি কবুল হয়ে গেল?
লেখকঃ সভাপতি, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বিয়ানীবাজার, সিলেট।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com