হাওরের যেসব এলাকায় এখনো পৌঁছেনি ত্রাণ

প্রকাশিত: ৪:২৮ অপরাহ্ণ, জুন ২২, ২০২২

হাওরের যেসব এলাকায় এখনো পৌঁছেনি ত্রাণ

হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যনগরে বন্যা পরিস্থিতি আগ্রাসী রূপ ধারণ করেছে। লক্ষাধিক মানুষ বন্যাকবলিত। অনেকের ঘরবাড়ি বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। কোথাও কোথাও মানুষ ঘরের চালে, উঁচু কোনো স্থানে, বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রে ও স্কুল কলেজের দালানে গবাদি পশু নিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। খাবার পানির সঙ্কট তো আছেই। এছাড়াও মধ্যনগরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কোনো কোনো জায়গায় মানুষ না খেয়ে দিনাতিপাত করছে। নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের দুর্ভোগ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।

জানা গেছে, বন্যাদুর্গত মধ্যনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরকারি ত্রাণ বরাদ্দের পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় একবারেই অপ্রতুল। তবে বেসরকারি ত্রাণ তৎপরতা খুব একটা চোখে পড়েনি। ত্রাণ তৎপরতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন এলাকার বানভাসি মানুষ।

এখনো উপজেলার যে অঞ্চলগুলোতে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছেনি, সেগুলো হলো বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের বুড়িপত্তন, মির্জাপুর, আদর্শগ্রাম, হামিদপুর, সাহাপুর, নয়ানগর, রৌহা, কাউহানি, চাপাইতি মাকরদি, চান্দালীপাড়া, মোহাম্মদ আলীপুর, ঢুলপুশি, বাট্টা, দক্ষিণউড়া, ঘাসী, চামরদানী ইউনিয়নের কাহালা, বিশারা, দরাফপুর, কামারগাঁও, সাজদাপুর, লইনপাড়া, বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের বাঙালভিটা, বাকাতলা, রূপনগর, ঘিলাগড়া, আন্তরপুর, কার্তিকপুর, রামপুর, কলতাপাড়া, কালাগড়, মোহনপুর, জামালপুর ও সাউদপাড়া।

বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের গন্দিরগাঁও কমিউনিটি ক্লিনিকে আশ্রয় নেওয়া বন্যা দুর্গত মানুষেরা জানান, বানের পানিতে তাদের ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। সেইসঙ্গে ঘরে রাখা ধান চাল পানিতে ভেসে গেছে। যার ফলে তারা কোনো মতে দিনাতিপাত করছেন। সরকারি-বেসরকারি যেকোনো উদ্যোগে তারা কিছু ত্রাণ পেলে উপকৃত হবেন।

স্থানীয়রা বলছেন, বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে যেগুলো দেওয়া হচ্ছে ত্রাণসামগ্রী খুবই অপ্রতুল। ত্রাণের জন্য হাহাকার করছেন লোকজন। কিন্তু কেউই ত্রাণ নিয়ে আসছে না। বসতঘরে পানি থাকায় চুলায় আগুন জ্বালানোর মতো পরিস্থিতি নেই। শিশু খাদ্যেরও তীব্র সংকট রয়েছে।

বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের বুড়িপত্তন গ্রামের রফিকুল ইসলাম রিয়াজ বলেন, আমার গ্রামের ৬০-৬৫টি ঘর বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। এখন পর্যন্ত আমাদের গ্রামে কোনো ত্রাণ সহায়তা পৌঁছেনি। যার ফলে মানুষ খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছে। তাই সরকার ও সমাজের ধনবান ব্যক্তিদের কাছে আমার গ্রামের মানুষের জন্য সহায়তা চাচ্ছি।

ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনতাসির হাসান বলেন, আমরা পর্যায়ক্রমে সব জায়গাতেই ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছি। যেসব এলাকায় ত্রাণ পৌঁছেনি, সেসব এলাকায় শিগগিরই আমরা ত্রাণ পাঠানোর ব্যবস্থা করব।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com