জোর করে বিয়ে দিতে চান ব্রিটিশ কিশোরীর মা : ওসমানীনগরে তোলপাড়

প্রকাশিত: ৯:১০ অপরাহ্ণ, জুন ১৮, ২০২২

জোর করে বিয়ে দিতে চান ব্রিটিশ কিশোরীর মা : ওসমানীনগরে তোলপাড়

 

স্টাফ রিপোর্টার:

সিলেটের ওসমানী নগরের ১৫ বছরের এক ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কিশোরীকে তার মা জোর করে বিয়ে দিতে চাচ্ছেন। কিশোরী এতে রাজি নয় এবং সে ইংল্যান্ডে ফিরে যেতে চায়। এজন্য উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে ওই কিশোরী। হাইকোর্ট বিস্তারিত শুনে আইনজীবীকে এ বিষয়ে যথাযথ আবেদন নিয়ে আসতে বলেছেন।

বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি সাহেদ নূর উদ্দিনের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত বৃহস্পতিবার এ পরামর্শ দিয়েছেন।

 

এদিকে ওই কিশোরীকে অপহরণের অভিযোগে সিলেটের ওসমানী নগর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। মামলায় কিশোরীকে আশ্রয় দেওয়া সমাজ সেবিকা শারমিন আক্তারসহ তার পরিবারের ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ওই ৭ আসামিকে আগাম জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগাম জামিনের ওই শুনানিতেই কিশোরীকে ইংল্যান্ডে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে আলাদা আবেদন করতে বলেছেন আদালত।

কিশোরীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট পূর্ণিমা জাহান বলেন, মেয়েটির বয়স ১৫ বছর। তার মা চাচ্ছেন এখনই বিয়ে দিতে। কিন্তু ওই কিশোরী রাজি নয়। বিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদ করায় তার মা তাকে বেশ মারধর করেন। তখন সে বাসা থেকে পালিয়ে তার মেয়ে বন্ধুর বাসায় আশ্রয় নেয়। বান্ধবীর মা শারমিন আক্তার একজন সমাজ সেবিকা। তিনি কিশোরীকে আশ্রয় দেন এবং আইনজীবী নিয়োগ, ব্রিটিশ হাই কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগসহ নানা ধরনের সহযোগিতা করছেন। এ কারণে শারমিন আক্তারসহ তার পরিবারের ৭ সদস্যের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা করেছেন কিশোরীর মা। হাইকোর্ট তাদের সবাইকে আগাম জামিন দিয়েছেন। জামিন শুনানির সময় আমি হাইকোর্টের সামনে পুরো ঘটনা বলেছি। তাকে জোর করে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টার কথা বলেছি। সে ব্রিটিশ নাগরিক। ওই দেশে সে চলে যেতে চায়, সে কথা বলেছি। আদালতকে ১৫ বছরের কিশোরী বলেছে, সে স্বেচ্ছায় তার বান্ধবীর পরিবারের সঙ্গে রয়েছে। নিজের আত্মরক্ষার জন্য সে বান্ধবীর পরিবারে আশ্রয় নিয়েছে। সে মায়ের কাছে থাকতে চায় না। ইংল্যান্ডে চলে যেতে চায়।

সব শুনে আদালত বলেছেন, যেহেতু আজকের মামলাটি আগাম জামিনের। তাই এসব বিষয় নিয়ে আলাদা একটি আবেদন করতে বলেছেন। তখন আদালত বিষয়টি দেখবেন।

আইনজীবী আরও বলেন, গত সপ্তাহে লন্ডন লোয়ার কোর্ট অব জাস্টিস বাংলাদেশের ব্রিটিশ হাই কমিশনকে অনুরোধ করেছেন মাহমুদার বিষয়টি বাংলাদেশের আদালতে নজরে আনার। মাহমুদাকে ইংল্যান্ডে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করেছেন। লন্ডনের কনসার্নড অথরিটি যারা বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ নিয়ে কাজ করে তারা বেশ কিছু অর্ডার সেখানকার আদালত থেকে নিয়েছেন।

 

অ্যাডভোকেট পূর্ণিমা জাহান বলেন, কিশোরীর বয়স ১৫ বছর। সে এখনও মাইনর। তাই এখানে অনেকগুলো ব্যাপার আছে। তার কাস্টডি কে নেবে। ইংল্যান্ডে গিয়ে সে কার কাছে থাকবে। তার স্কুলের বিষয় আছে। ইংল্যান্ড সরকার তার সেফটি ও সিকিউরিটির জন্য কী ধরনের ব্যবস্থা নেবে। সবগুলো বিষয় কোর্টের নজরে আনব।

ওই কিশোরীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সিলেটের ওসমানী নগরের বাসিন্দা ব্রিটিশ নাগরিক তার বাবা ৬টি বিয়ে করেছেন। তার মা সবার ছোট। বাবার বয়স ১০০ বছর পার হয়ে গেছে। বাবার বিট্রিশ নাগরিকত্বের সুবাদে কিশোরীও ইংল্যান্ডের নাগরিক। জন্মের পর থেকে কিশোরী ইংল্যান্ড ও বাংলাদেশে আসা যাওয়ার মধ্যে ছিলেন। কিশোরী ও তার আইনজীবীর দাবি, তার মা এক পুরুষের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছে। কিশোরীকে বিয়ে দিয়ে তার মা লাভবান হতে চান। কিশোরী কোনোভাবেই তার মার কাছে ফেরত যাবে না। মায়ের কাছে থাকা সে নিরাপদ মনে করছে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আর্কাইভ

June 2022
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com