“ভোটের দিনে রাজা রানীদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা”

প্রকাশিত: ১:৪২ অপরাহ্ণ, জুন ৫, ২০২২

“ভোটের দিনে রাজা রানীদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা”

এডভোকেট মোঃ আমান উদ্দিন:
আমেরিকার স্থাপতি, গনতন্ত্রের প্রবক্তা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন। পেশায় ছিলেন রাজমিস্ত্রী। তিনি বলেছেন “Government of the people, By the people, of the people” অর্থাৎ জনগনের জন্য সরকার, জনগনের দ্বারা সরকার, জনগনের জন্য সরকার। এ নীতি বাক্যের সাথে যদি একমত হন, তাহলে সকল সচেতন প্রার্থীগন কে বলব, বলপ্রয়োগের চিন্তুা বাদ দিয়ে অন্তত ভোটের দিন শান্তি পূর্ন ভাবে রাজাদের ভোট প্রয়োগে সার্বিক সহযোগীতা করুন।

 

 

 

সকল অপশক্তি মোকাবিলা করে রাজাগন তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে সহযোগীতা করুন। তাদের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিগন পাবেন শ্রদ্ধা, সম্মান, ভালোবাসা। নির্বাচিত প্রতিনিধিগন আবার নির্বাচিত হতে হলে রাজাদের সাথে দেওয়া সকল প্রতিশ্রæতি বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকবেন। রাজাদের দিবেন শ্রদ্ধা, ভালোবাসা। কেননা ভোটের রাজাদের অদৃশ্য শক্তি দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিগনের হাত-পা, মূখ বাধা। পুন: নির্বাচিত হওয়ার আশায় দূব্যর্বহার থেকে থাকবেন বিরত। নির্বাচিত প্রতিনিধিগন পাবেন সম্মান। সেবাই ধর্ম।

 

 

 

প্রতিশ্রæতি দিয়ে আসলেন সকল মানুষই আইনের দৃষ্টিতে সমান। কেননা গরিব, ধনী, শিক্ষিত, অশিক্ষিত, অন্যান্য অসহায় খেটে খাওয়া মানুষ তাদের সকলেরই ভোট মাত্র ১টি। উচু নিচু করার কোন সুযোগ নেই। আব্রাহাম লিংকনের ভাষায় জনপ্রতিনিধি শিক্ষিত, অশিক্ষিত বা অর্ধ শিক্ষিত লোকের প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন শুধু, সৎ, নিষ্টাবান, ত্যাগী, জনদরদী ব্যাক্তির। উচ্চ শিক্ষিত হলে ভাল। তাবে সামাজিক শিক্ষা যদি না থাকে তাহলে তাদের দ্বারা ভোটের রাজাগন হবেন অপনির্যাতিত শিক্ষিত প্রতারকের চেয়ে, অশিক্ষিত অথচ সৎ, নিষ্টাবন ত্যাগী, জনগনের দাবী আদায়ে থাকবেন অগ্রভাগ। সুশিক্ষায় শিক্ষিত এবং সামাজিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী ব্যক্তিকে নির্বাচিত করতে পারলে আমজনতাকে ভবিষ্যত ৫ বৎসর কষ্ট করতে হবে না।

ভোটের রাজাগনকে বলতে চাই, প্রত্যেক নাগরিকের ভোট কিন্তু একটি। একটির অধিক চিন্তা করলেই হবেন, অপমানিত। অবৈধ ভোট দেওয়ার চেষ্টা করলেন। যেমন: ১টি নাম্বার নিয়ে ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করলেন। পুলিং অফিসার জিজ্ঞাসা করলেন আপনার নাম, পিতার নাম কি? উত্তর সঠিক দিতে পারলেন না। ভোট কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হল। লজ্জাবোধ যদি থেকে থাকে তাহলে হবেন চরম অপমানি। কেন্দ্রে অহেতুক ঝামেলা সৃষ্টি করলেন। আপনার পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করলেন। বিজয়ী প্রার্থীকে নির্বাচিত হওয়ার পর বললেন, একাই ৩০/৪০টা ভোট দিয়েছি। সুশিক্ষায় শিক্ষিত হলে বলবেন আপনাকে তো একটি ভোটের অধিক ভোট দিতে বলিনি। হলেন মর্মহত, গুনাহগার এবং ৩০/৪০ জনের অবৈধ ছেলে বা মেয়ে। করলেন, কবিরা গুনাহ। ভোটের রাজা থেকে হলেন নিকৃষ্ট শ্রেনীর প্রজাতি।

কেন অবৈধ ভোট দেওয়ার চেষ্টা করবেন? কেন গুনাহ গার হবেন? কেন অবৈধভাবে অন্যের ছেলে মেয়ে হয়ে ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে যাবেন? কেন অন্যায় কাজে লিপ্ত হবেন? কেন নির্বাচনের আচরন বিধি ভংগ করলেন? এসব প্রশ্নের উত্তরে বলতে চাই যেহেতু ভোটের দিনের রাজা, সেহেতু রাজার মান মর্যাদা রক্ষা করতে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিবেন। ভোট একটি পবিত্র আমানত। এই আমানতের সুরক্ষা করা ঈমানী দায়িত্ব।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সৎ লোকের শাসন চায়। অসৎ, কালোবাজারি, কালোটাকার মালিক ইত্যাদি শ্রেনীর মানুষকে নির্বাচিত না করতে ম্যাসেঞ্জারের ভূমিকা পালন করে থাকেন। “সুজন” বলেথাকে সৎ লোককে নির্বাচিত করতে। অসৎ লোককে ভোট প্রদানে বিরত থাকতে প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের বলতে চাই, সৎ যোগ্য প্রার্থীকে ভোট কেন্দ্রে নিরাপদে যাতে ভোটের রাজাগন তাদের ভোট প্রদানে কোন অপশক্তির দ্বারা বাধা গ্রস্থ না হন। প্রার্থী কোন বিঘœ সৃষ্টি করতে না পারে তার সুব্যবস্থা করা। ঐদিন যেহেতু আপনারা শিক্ষিত রেফারীবা বিচারক। নির্বাচন কমিশন কতৃক অসীম ক্ষমতাপ্রাপ্ত অপশক্তি বা অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে, সম্পূর্ন নিরপেক্ষ থেকে ভোটের রাজাদের ভোট প্রয়োগে সক্রিয় সহযোগীতা করা ঈমানী দায়িত্ব। ক্ষমতা ক্ষনস্থায়ী কিন্তু চারিত্রিক গুনাবলী চিরস্থায়ী। কোন অপশক্তির কালো হাতের ছোয়া যেন স্পর্শ না করে। ভোটের অধিকার প্রতিষ্টিত করলেন, কর্মকর্তাগন হবেন সম্মানীত। ভোটের রাজাগন হবেন উপকৃত। ভোট প্রয়োগ বা অধিকার প্রতিষ্টার সক্রিয় সহযোগীতা করার জন্য জনগন আজীবন মনে রাখবে সৎ কর্মকান্ডের জন্য।

বিতর্র্কিত ভোট ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের দিনের ভোট রাতে নিয়ে “হুদা” কমিশনকে জনগন পর্চা, দুর্গন্ধ যুক্ত, ডাস্টবিন এর সাথে তুলনা করে উপহাস করে বলে “কিরে বিয়ানীবাজারে ২০২২ জুনের ১৫ তারিখের নির্বাচন কি দিনে হবে নাকি রাতে হবে? আশাকরব, দিনের ভোট দিনেই স্বচ্ছতার সাথে হবে। কর্মকর্তাগন সেই অপবাদ থেকে বেরিয়ে এসে স্বত স্ফুর্ত জনতার রায়কে বাস্তবায়নে সক্রিয় সহযোগীতা চায় বিয়ানীবাজার (পৌরবাসী)। স্মরন করিয়ে দিতে চাই বিয়ানীবাজার পৌরসভার সংশ্লিষ্ট রির্টানিং কর্মকর্তার বিতর্কিত কর্মকান্ডের জন্য ৩৬ জন প্রার্থী, ভোটার ও সমর্থনকারীগন ক্ষুদ্ধ। প্রার্থীগন অনেক কষ্ট করে আপীল নিষ্পত্তিকারী কর্মকর্তার সহযোগীতায় সকল প্রার্থীই বৈধতা পেয়েছেন। কিন্তু বিতর্কিত থেকে গেলেন সংশ্লিষ্টি রিটানিং কর্মকর্তা। মৌখিক ভাবে আপিল নিষ্পত্তিকারী কর্মকতা ও জেলা প্রশাসক রিটানিং কর্মকর্তার অযাচিত আচরনের বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। ১৫ জুন ২০২২ তারিখে সুষ্ট, সুন্দর, স্বচ্ছতার সাথে জনগন নির্বিঘেœ ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে শান্তিপূর্ন ভাবে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট প্রদান নির্বাচন সংশ্লিষ্ট আইনশৃংঙ্গলা বাহিনী, প্রিসাইডিং অফিসার, রিটানিং কর্মকর্তা তথা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সতর্ক থাকবেন।
লেখক, সভাপতি-সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন, বিয়ানীবাজার, সিলেট।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com