সর্বোচ্চ আদালত নিজের বিবেককে কি প্রশ্ন করা যায় না?

প্রকাশিত: ৩:১৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৯, ২০২১

সর্বোচ্চ আদালত নিজের বিবেককে কি প্রশ্ন করা যায় না?

এডভোকেট মোঃ আমান উদ্দিন:
হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর উপর প্রথম আয়াত নাযিল হয়েছে, “ইকরা”। এর অর্থ হল- পড়। কার নামে? তোমার সৃষ্টিকর্তার নামে। শোকরিয়া আদায় করলেন’ আলহামদুলিল্লাহ আর শেষ বক্তব্য দিয়েছেন। “আল ইয়াত্তমা আকমালতু লাকুম, দ্বিনুকুম, ওয়াআতমামতু লাকুম দ্বি-নাত্তঁ। পবিত্র কোরআন শরিফের বর্ণনা মোতাবেক সৃষ্ঠি জগতে ১৮ হাজার মখলুকাত সৃষ্টি করেছেন সৃষ্টি কর্তা। শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছেন “মানুষের স্বত্বা বা তাকওয়াকে”। যেহেতু মানুষের “রুহ বা স্বত্বা বা তাকওয়া” অনন্তকাল জীবিত, সেহেতু পরমকরুনাময়ের কাছে এসব গুনাবলীই বিচার্য হবে পরকালে। “একজন পুর্নাঙ্গ সুস্থ মানুষের বর্ণনা তুলে ধরছি: চোখ বন্দ করে দেখুন, দুনিয়ার কি কিছু দেখা যায়? জিহবায় যদি স্বাদ না গ্রহন করে; তাহলে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে ভাল খাওয়ার দিলে ও খাইতে চাইবে না মন, নাক যদি ঘ্রান নিতে না পারে তাহলে ভাল মন্দ যাচাই করার কি যোগ্যতা রাকে? মাথার ভিতরে সৃষ্টিকর্তার প্রদত্ত যে সব যন্ত্রাংশ নির্দিষ্ট স্থানে রক্ষিত আছে, সে সব অঙ্গ প্রতজ্ঞ স্বয়ংক্রিয় ভাবে কাজ না করে তাহলে কি প্রকৃত জ্ঞান বা সত্ত অর্জন সম্ভব? মুখ মন্ডলের গঠন যদি সুরুচি সম্পূর্ন না হয়, চাইলে কি পরিবর্তন করতে পারতেন? প্রস্বাব পায়খানার স্থানগুলো যথাযথভাবে যদি কাজ না করে; তাহলে দুনিয়ার সব শক্তির সহযোগীতা নিয়ে কি স্থায়ীভাবে স্বাভাবিক করা সম্ভব? হাত-পা যদি নিজের সত্তা নিয়ে চলাচলে সক্ষম না হয়, তাহলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বা ধন, সম্পত্তির মাধ্যমে স্বাভাবিক চলাচলে সাহায্য করতে পারবে কি? এসব নিয়ামতের একটিতে ক্রটি বিচ্যুতি দেখা দিলে দুনিয়ার সকল শক্তি দিয়ে সচল করা কি সম্ভব? আল্লাহ যদিও শ্রেষ্টত্ব দিয়ে মানুষ হিসাবে সৃষ্টি করেছেন। এর চেয়ে বড় নিয়ামত কি হতে পারে? আল্লাহর শ্রেষ্টাত্ব ধরে রাখতে হলে তাকওয়া, স্বত্ত বা পরহেজগার হতে হবে। আর এসব গুন অর্জন করে যেতে পারলে পরকালের জীবন শান্তিময় হতে পারে। তা কিন্তু হবে অনন্তকাল। পরম করুনাময় সৃষ্টি করার সময় জিজ্ঞেস করে তো কাউকে সৃষ্টি করেন নাই। দেহাবশেষ নেওয়ার সময় কি জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন আছে? না, কিছুতেই না। রসুল (সাঃ) কে আজরাইল (আঃ) জিজ্ঞেস করে জান কবজ করেছেন। রসুল (সাঃ) বলেছিলেন, আমার উম্মতের কি হবে? উত্তর আল্লাহ বলেছিলেন, সকলের জিম্মাদার আমি নিজে। সকল নবী রসুলই নফছি নফছি বলেছেন। একমাত্র হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন, ইয়া উম্মতি, ইয়া উম্মতি। এখানে থেকেই কি অনুমান করা যায় না; আমরা আখেরী নবী তাজদারে মদিনা জনাব মোহাম্মদ (সাঃ) এর উম্মত হয়ে কি গৌরবান্বিত? কোরআন শরিফ নাযিল হয়েছে আখেরী নবী তাজদারে দোয়ালম সৎ পথের পথ প্রদর্শক সর্বগুনে গুনান্বীত হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর উপর। ১১৪টি সুরা। জিবরীল (আঃ) এর মাধ্যমে এই ১১৪টি সূরা নাযিল হয়েছে। যার একটি আয়াত ও পরিবর্তন যোগ্য নহে। অন্যান্য নবী রাসুল গন আফসোস করে বলেছেন, আমরা নবী না হয়ে, আখেরী নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর উম্মত হওয়ার জন্য আফসোস করেছেন, প্রায় ১৪০০ বছর পূর্বে যে সব বর্ণনা কোরআন শরিফে বর্নিত হইয়াছে, সে সব বর্ননার আলোকেই নতুন নতুন সৃষ্টি হচ্ছে।

 

যেমন: বিজ্ঞানী নিউটন, আইনষ্টাইন, গ্যালিলিও প্রমুখে বিজ্ঞানীরা গবেষনা করে অনেক কিছুই আবিষ্কার করেছেন। একটি আবিষ্কারের শেষ হলেই আরেকটি আবিষ্কারের ক্ষেত্র তৈরী হয়। সুতরাং এর শেষ কোথায় তা কিন্তু বলতে পারেন নাই। বিজ্ঞানী নিউটন আফসোস করে বললেন “God Knows” অর্থ্যা আবিষ্কারের শেষ কোথায় তা কিন্তু একমাত্র আল্লাহই জানেন। বর্তমান বিশেষ মানব প্রদত্ত উপাধী সৈয়দ, চৌধুরী, তালুকদার, কৃষান, মৎসজীবি উপাধী প্রদান করা হয়ে থাকে। ঐ উপাধিগুলো কিন্তু মানুষ্য সৃষ্ট। অনৈক্যের ক্ষেত্র তৈরীর একমাত্র মাধ্যম। সৈয়দ, চৌধুরী বা অন্য সম্প্রদায়ের লোকজনকে কি দাফন কাফন বা সমাহিত করার জন্য মাঠির বিকল্প অন্য কোন সম্মান জনক বস্তুতে সমাহিত করা হয়ে থাকে। না, কিছুতেই না। সবাই একমায়ের ও এক মাঠির সন্তান।

 

আলাদা বিবেচনা করা হবে। “দুনিয়াবি সফরের সময় তার রেখে যাওয়া আমলনামার মাধ্যমে”। অতি আদর যতেœ শরীর পরিছন্ন, সুন্দর, পরিপাঠি করে রাখলেন। কিন্তু শরিরের কোন অংশই তার নিজর ইচ্ছা ব্যতীত চলে না, চলবে ও না। এর নামই আল্লাহ সর্ব শক্তিমান।

 

প্রধানমন্ত্রী বললেন “লা কুম দ্বি নুকুম, ওয়াল ইয়াদিন” যার যার ধর্ম যার যার। এটা কি ধর্ম নিরপেক্ষতার নির্দশন নহে? উত্তরে হযরত মাওলানা ওলিপুরিসহ ওলামায়ে কেরামগন বললেন বাংলাদেশে কিছু হিন্দু মার্কা মুসলমান আছে। যারা কোরআনের সঠিক অর্থ না জেনে জ্ঞানীর পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করে। একমাত্র আরবী ভাষার একটি শব্দের প্রতি শব্দ ৪০/৪৫টি। ক্ষেত্র বিশেষ এগুলা প্রকৃত আলেমগন ব্যাখ্যা করার অধিকারী। সেজন্য রসুল (সাঃ) বলে গেছেন ওলামাগনকে “আল ওরাছাতুল আম্বিয়া” হিসাবে ইসলাম ধর্মে স্থান করে দিয়েছেন। অন্য কোন ভাষার একটি শব্দের প্রতিশব্দ ২/৪টি হতে পারে। আইনের ভাষায় যদি জজ সাহেব বলেন, “জামিন মনজুর হল……না”।

 

আসামী পক্ষ যখন হল পর্যন্ত শুনল আনন্দে উদ্বেলিত কিন্তু না শুনার পর হতাশ। ডাঃ এনায়েত উল্লাহ আব্বাসীর সালে টকশুতে তে ডাঃ জাফর উল্লাহ চৌধুরী মুরগি কবির গংরা অতি সহজেই হার মেনেছেন। এবং বলেছেন ধর্মীয় জ্ঞান আহরন করা উচিত। শিখতে তো আর লজ্জার কিছু নেই। না জেনে মুর্খের মতো জগাখিচুড়ি যুক্তি উপস্থাাপন করে অহেতুক সমাজে ধর্মীয় বিভ্রান্তি ছড়িয়ে ভাইরাল হয়ে বাপ-দাদা চৌদ্দ গোষ্ঠীকে কেন গালিগালাজ শুনিয়ে জারজ সন্তানের খ্যাতি নিতে চান? ঠাকলু মুরাদ ভাইরাল হয়ে কি পেয়েছে? অবশ্য শুনেছি সে নাকি অনৈতিক কাজের ডাক্তার। পড়াশুনা করে ডাক্তারের উপাধি অর্জন করে নাই। হালের রাজনীতিতে তাদের সংখা প্রায় ৯০ শতাংশ। প্রকৃত রাজনীতিবীদরা কুনটাশা। বর্তমান সময়ের প্রভাব শালী রাজনীতিবীদদের মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা করে তার পাপিয়া গয়রোরা যা ইচ্ছা তা……………………………।

লেখক: সভাপতি, সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন, বিয়ানীবাজার, সিলেট।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

January 2022
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com