‘খালেদা জিয়া গৃহিনী থেকে অন্যায়ের সাথে আপোসহীন, দেশনেত্রী, গনতন্ত্রের মা, অতঃপর প্রধানমন্ত্রী’

প্রকাশিত: ১:১৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১, ২০২১

‘খালেদা জিয়া গৃহিনী থেকে অন্যায়ের সাথে আপোসহীন, দেশনেত্রী, গনতন্ত্রের মা, অতঃপর প্রধানমন্ত্রী’

এডভোকেট মোঃ আমান উদ্দিন :

মানুষ মরনশীল। জন্মিলে মরিতে হবে এটা অবধারিত। জন্মের পর সুস্থ বিবেক সম্পূর্ন প্রতিটি মানুষ তার কর্মের মাধ্যমে আজীবনের জন্য বেঁচে থাকতে চায়। বেগম জিয়া বাংলাদেশের মাটিতে আজীবনের জন্য ইতিহাস হয়ে গেছেন। খালেদা জিয়া জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে। জাতির ক্রান্তিকালীন সময়ে দেশকে কিভাবে নেতৃত্ব দিয়ে জীবন যুদ্ধে জয়ী হতে হয়, সে উদাহরন হয়ে গেছেন। এককথায় বলা যায়, বিভিন্ন জরিপের তত্ত উপাত্ত থেকে জাতির সুস্থ বিবেক সম্পূর্ন ৯০ ভাগ মানুষ শ্রদ্ধার সাল স্মরনে দোয়া, মিলাদ’ মাহফিল ইত্যাদি ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করছে। অমৃত্যু বেচে থাকার যাবতীয় ক্ষেত্র তৈরী করে যাচ্ছেন বেগম জিয়া। দলীয় নেতৃবৃন্দকে বলব, দেশপ্রেমিক নেত্রীকে দেশে থাকতে দিন, যদি মৃত্যু আসন্ন হয়। জনগন কিন্তু তাদের নেত্রীকে অতিরিক্ত শ্রদ্ধা সম্মান করে। তার বহি; প্রকাশ ১৯৯১-২০০৮ইং পর্যন্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেছিলেন প্রতিবার ৫টি আসনে। একটি আসনেও ও পরাজিত হননি।

 

 

বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নির্বাচন করে বিজয়ী হওয়া কি সামান্য ব্যাপার ? না ! মোটেও না। সেজন্য জনগন ইতিমধ্যে তাকে অবিসংবাদিত নেতা হিসাবে খ্যাতি দিয়েছে। যেমনটি বাংলার অবিসংবাদিত সর্বজন শ্রদ্বেয় নেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানিকে দিয়েছেন। দলমত নির্বিশেষে সবাই টাঙ্গাঁইলের সন্তোষে গিয়ে কবর জিয়ারত করে তার রুহের মাগফেরাত কামনা করে থাকে। বিশ্বের ইতিহাসে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া উর রহমান ইতিহাস স্থাপন করে গেছেন।

 

 

কেননা তাঁর জানাজায় লোক সমাগম দেখে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ অভিভুত! সেজন্য তার গঠিত দল আজীবন জনগনের হৃদয়ের মনিকোঠায় স্থান করে নিয়েছে। জিয়াউর রহমানের আদর্শের প্রতি আস্থা ও ভালোবাসা দিয়ে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন বেগম জিয়া। ব্যাক্তিগতভাবে স্বামীকে শ্রদ্ধা সম্মান ভালোবাসা দেখিয়েছেন। সেজন্য হয়তো আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসি হওয়ার দাবিদার করে রেখেছেন। যেখানে অন্য নেত্রীদের ক্ষেত্রে এ গুনাবলি দৃশ্যমান হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে অন্য নেত্রীদের বেলায় অভজ্ঞা পরিলক্ষিতে হয়েছে। সেক্ষেতে বেগম জিয়া সফল।

 

বংশ মর্যদা তো আর একদিনে তৈরী করা যায়না। বেগম জিয়া ফেনীর অভিজাত পরিবারে জন্মগ্রহন করেছেন। তার পরিবারের সকলে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত। পারিবারিক শিক্ষায় দিক্ষিত। সুতরাং ভাল বংশের মেয়ে পারিবারিক ঐতিহ্য রক্ষা করতে গিয়ে খারাপ কিছু করতে পারে না। পারবেও না। সেজন্য তার পরিবার পাত্রস্ত করার জন্য বগুড়ার বুনেদি পরিবারের সন্তান, তৎকালীন অভিভক্ত ভারত বর্ষের নামকরা প্রতিষ্ঠান কলকাতার রেসিডেন্সি কলেজ থেকে উচ্চ শিক্ষার শিক্ষিত মেজর জিয়ার সাথে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। স্মরন করিয়ে দিতে চাই বেগম জিয়ার শ্বশুড় ভারতবর্ষের সবোচ্ছ কর্মকতা ছিলেন। যেহেতু উভয় পরিবারই সম্ভান্ত সেহেতু বিবাহত্তের সংবর্ধনার আয়োজন করেছিলেন, তৎকালীন কন্টিনেন্টাল হোটেল পরবর্তীতে শেরাটন হোটেলে। এখান থেকে তাদের উভয় পরিবারের মন মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। তখনকার সময়ে কয়জনই বা কন্টিনেন্টাল হোটেলে অনুষ্ঠান করার সামর্থ্য ছিল। আরেকটু স্মরন করিয়ে দিতে চাই, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া উর রহমানের ছেলে তারেক রহমানের সাথে ডাঃ জোবায়দা রহমানের বিয়ে হয়। তাঁর পিতা মাহবুব আলী খান ছিলেন সাবেক নৌবাহিনীর প্রধান। তারেক জিয়ার জ্যাটালী আইরিন খান জাতিসংঘের মানবাধিকার কর্মী হিসাবে কর্মরত। রতনে রতন চেনে, উইপোকায় চিনে ছেড়া কম্বল। সেখানেও বেগম জিয়ার পরিবার সফল। আরাফাত রহমান কোকা (মরহুম) তাকে বিয়ে দিয়েছেন সেনাবাহিনীর উচ্চ পদস্থ কর্মকতা মেজর জেনারেল (অব:) সাদেকের মেয়ের সাথে। বেগম জিয়া ছেলেদের বিয়ে দিতে ভিন্ন দেশে ইহুদি খৃষ্ঠান বা অন্যর্ধমে শিক্ষিত মেয়েকে খোজতে হয়নি। বংশ মর্যাদা ভাল হলে এভাবেই আত্মীয়তা হয়। এখানে আপসোসের কিছু নেই।

 

 

 

অতীত অভিজ্ঞতা বলে আরাফাত রহমান কোকো মারা যাওয়ার পর জাতিকে ভুুল বার্তা দেওয়ার জন্য ক্যামেরা ঠ্রায়াল হয়েছে। হয়তবা খোদা না করুক বেগম জিয়া মারা গেলে ক্যামেরা ট্রায়ালের প্রস্ততি নিয়ে রেখেছেন! এসব ভন্ডামি প্রতারনা না করাই ভাল। কেননা জাতি আস্থার সাথে বেগম জিয়াকে স্মরণ করবে। এখানে মায়াকান্না করে লাভ নেই। প্রতারনা করতে করতে একদিন হয়ত প্রতারনার উপর নোবেল পুরষ্কার পেতে পারেন। ১৯৮৬ সাল থেকে আজ পর্যন্ত যত বেঈমানী, প্রতারনা, বিশ্বাসঘাতকতা, লোকচুরি, ইত্যাদি করেছেন জাতি কিন্তু জানে। বলতে পারে না। বলার ক্ষেত্র ও তো নেই। যদি সুযোগ হয় তাহলে…………………..?

 

 

নেতৃবৃন্দকে বলব ! যদি আল্লাহর হুকুম হয়ে যায়, তাহলে যেখানেই বেগম জিয়া যান না কেন তার মৃত্যু হবে। এখানে টানাহেচড়া করে কোন লাভ নেই। স্বাভাবিক ভাবেই তার বিছারায় মরতে দিন। ইতি মধ্যে বেগম জিয়া কর্ম কৌশলের কারনে ইতিহাসের অভিচ্ছেদ্য অংশ। এখন হয়ত তিনি কিছুই বলতে পারছেন না। নেতাকর্মীরা আবেগ তাড়িত হয়ে ভিন্ন দেশে নিয়ে চিক্যিসা করাতে চাচ্ছেন। এটা না করে আল্লাহর দরবারে কায়োমনো বাক্যে দোয়া করুন, হে আল্লাহ আমাদের প্রান প্রিয় নেত্রীকে সুস্থ করে দাও। আমীন।

লেখকঃ সভাপতি, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বিয়ানীবাজার ও কলামিষ্ট।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

January 2022
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com