বিয়ানীবাজারে ভেস্তে গেছে স্কুলভিত্তিক সততা স্টোর কার্যক্রম

প্রকাশিত: ১০:৪৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৯, ২০২১

বিয়ানীবাজারে ভেস্তে গেছে স্কুলভিত্তিক সততা স্টোর কার্যক্রম

 

মিলাদ জয়নুল:

লেখাপড়ার পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের সততার মনোভাব সৃষ্টি করতে বিয়ানীবাজার উপজেলার বেশ কয়েকটি উচ্চ বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় চালু করা হয়েছিল মালিক বিহীন সততা ষ্টোর।

কিন্তু সততা ষ্টোরগুলো চালু হওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থীদের অসততা ও শিক্ষকদের অনিহার কারণে তা আর আলোর মুখ দেখেনি। বর্তমানে স্কুলগুলোর সংশ্লিষ্ট কক্ষের দরজার সামনে শুধু ঝুলছে সততার ওই অবশিষ্ট সাইনবোর্ড। আবার কোনো কোনো স্কুল একদিনের জন্যও সততা স্টোর চালুই করেনি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত প্রায় ৪ বছরে আনুষ্ঠানিক ভাবে উপজেলার কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাত্রা শুরু হয় দোকানদার বিহীন সততা ষ্টোর। অবশ্য এসব সততা স্টোর চালু করতে মূল ভূমিকা রাখে বিয়ানীবাজারের দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি (দুপ্রক)।

ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি তাদের সৎ মনোভাব গড়ে তুলতে এই উদ্যোগ হাতে নেয়া হয়। এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সামান্য কিছু আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়। কিন্তু কয়েক মাস না যেতেই ওই সকল স্কুলের শিক্ষকদের অনাগ্রহে সততা স্টোরের কার্যক্রম ভেস্তে গেছে।

সৎ মানুষ গড়ার লক্ষ্যে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘সততা স্টোর’ করার উদ্যোগ গ্রহণ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। স্কুল ক্যাম্পাসে প্রতিষ্ঠিত এই স্টোরে থাকবে খাতা, কলম, পেন্সিল, ই-রেজার, স্কেল, জ্যামিতি বক্স, রঙ পেন্সিলসহ শিক্ষা সামগ্রী এবং চিপস, বিস্কুটসহ বিভিন্ন খাবার। যার ক্রেতা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। থাকবেনা বিক্রেতা। এ ছাড়া দোকান পরিচালনা কমিটির অনুমোদনক্রমে অন্যান্য পণ্যও রাখা হবে। সব পণ্যের দাম হবে বাজার মূল্যের সমান। ক্রেতারা তাদের পছন্দমতো পণ্য নিয়ে নির্দিষ্ট বক্সে টাকা জমা দেবে। দোকানের পুঁজির ব্যবস্থা করবে পরিচালনা পর্ষদ।

 

সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে একই চিত্র। বিয়ানীবাজার পৌরশহরের প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্টান পিএইচজি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে সতাতা স্টোর যাত্রা শুরু করে। এখন ওই কক্ষ তালা দেয়। শুধুমাত্র সাইনবোর্ড ঝুলছে। কক্ষের ভিতরে থাকা থাকগুলো খালি পড়ে আছে। দীর্ঘদিন থেকে ব্যবহার না হওয়ায় এগুলোতে ধূলা জমে গেছে। বিয়ানীবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অসীম চন্দ তালুকদার জানান, তার বিদ্যালয়ে উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি থেকে ১০ হাজার টাকা অনুদান দিয়ে সততা স্টোর চালু করা হয়। প্রথমদিকে এটি ভালো চললেও গত দুই বছরে করোনার কারণে সততা স্টোরের তালা খোলা হয়নি। এখন মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে।

এদিকে বিয়ানীবাজারের অন্তত: ১৫টি উচ্চ বিদ্যালয়ে এখনো সততা স্টোর চালু করা হয়নি। সেইসব স্কুলের শিক্ষার্থীরা সততা স্টোর সম্পর্কে কিছুই জানেন না। বাংলাদেশ মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির যুগ্ম মহাসচিব ও পূর্ব মুড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খালেদ আহমদ জানান, তাঁর স্কুলে সততা স্টোর পরিচালনার জন্য একজন শিক্ষকের নেতৃত্বে একটি কমিটি ছিল। করোনা পরিস্থিতির কারণে এখন সেই স্টোর বন্ধ। মালামাল বিক্রির টাকা দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকের কাছে আছে।

স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাধিক ছাত্র-ছাত্রীরা বলেন, সততা ষ্টোর চালু হওয়ায় সেখানে আমাদের প্রয়োজনীয় খাতা-কলম ও কিছু খাবার কিনে খেতে পারতাম। কিন্তু শিক্ষকদের অবহেলা এবং কিছু অসৎ ছাত্র-ছাত্রীদের কারণে চালু হওয়ার পর দু’একমাসও তা টেকেনি। বর্তমানে দোকানদার বিহীন সততা ষ্টোরটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আমরা পুনরায় সততা স্টোর চাই।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মৌলুদুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান উন্নয়নের পাশাপাশি তাদের সততার মনোভাব থাকটাও জরুরী। সে লক্ষে স্কুল জীবন থেকে তাদের সততার মনোভাব হিসাবে গড়ে তুলতে সততা ষ্টোর প্রতিষ্ঠা করা হয়। তবে সততা স্টোর কার্যক্রমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আগ্রহ থাকাটাও জরুরি। মূলত সততা স্টোরে শিক্ষকদের আগ্রহ না থাকার কারনেই অনেক প্রতিষ্ঠানে এর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।

বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাআশিক নূর বলেন, সততা স্টোর মূলত শিক্ষার্থীদের জন্য সততা ও নৈতিকতার প্রশিক্ষণকেন্দ্র। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া পর্যন্ত সততা স্টোর থেকে পণ্য কিনে শিক্ষার্থীরা যে শিক্ষা পাবে, তাতে তাদের মনের মধ্যে সততার বীজ বপন হবে। যা পরবর্তী শিক্ষাজীবন, কর্মজীবনে সততার আলোকরশ্মি ছড়াবে।

উল্লেখ্য যে, সততা স্টোরের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করে দোকানের জন্য প্রাথমিক পুঁজি সংগ্রহ করে বিনিয়োগ করবে। যে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিচালনা পর্ষদ নেই, সেখানে প্রধান শিক্ষক কর্তৃক মনোনীত তিনজন শিক্ষককে নিয়ে গঠিত কমিটি তা পরিচালনা করবে। এ কমিটি সততা স্টোরের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও তদারক করবে। ওই কমিটি মাসে অন্তত একবার বৈঠক করে হিসাব যাচাই ও ক্রয়যোগ্য সামগ্রীর তালিকা করে প্রয়োজনীয় অর্থ স্টোর পরিচালনা কমিটির কাছে দেবে। এই উদ্যোগকে কার্যকর করতে দুদক প্রতিটি উপজেলায় একটি বালক একটি বালিকা বিদ্যালয়ে আর্থিক সহায়তাও দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছিল।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আর্কাইভ

January 2022
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com