সুবর্ণজয়ন্তীর আলোচনায় তোফায়েল বললেন ‘গর্বের’ কথা

প্রকাশিত: ৯:৩৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৪, ২০২১

সুবর্ণজয়ন্তীর আলোচনায় তোফায়েল বললেন ‘গর্বের’ কথা

প্রজন্ম ডেস্ক:

সুবর্ণজয়ন্তীর সংসদে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও অগ্রযাত্রার কথা বলতে পারা কতটা গর্বের, সেই কথা বললেন আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ, যিনি বাংলাদেশের প্রথম সংসদেরও সদস্য ছিলেন।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বুধবার সংসদের বিশেষ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের সময় শেষ। আমার গর্ব যে, আমি সংসদে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করতে পারছি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলার দুর্লভ সুযোগ পেয়েছি।”

এ বছরের ২৬ মার্চ বাংলাদেশ উদযাপন করেছে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। ১৬ ডিসেম্বর উদযাপন করবে বিজয়ের ৫০তম বার্ষিকী।

এ উপলক্ষেই বুধ ও বৃহস্পতিবার সংসদে এই বিশেষ আলোচনার আয়োজন হয়। সংসদে এই সাধারণ আলোচনার জন্য প্রস্তাব তোলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার আগে স্মারক বক্তৃতা দেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, “পাকিস্তানিরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে পারেনি, করেছে বাঙালিরা। মীর জাফররা কোন কোন দেশের প্ররোচনায় বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে?

“বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে আজও পাকিস্তানিদের দাসত্ব করতে হত। এখন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করছেন। আন্তর্জাতিক বিশ্বে তিনি বাংলাদেশকে মর্যাদার আসনে আসীন করেছেন।”

তোফায়েল বলেন, “আজকে গ্রামে অন্ধকার নেই, আলোকিত। রাস্তাঘাট পাকা। গ্রাম এখন শহরে রূপান্তরিত হয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে। পাকিস্তানের বুদ্ধজীবীরা এখন বলেন, পাকিস্তানকে সুইডেন নয়, বাংলাদেশ বানিয়ে দাও।”

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, “বঙ্গবন্ধু মানে বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু মানে স্বাধীনতা। বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে এখনো পাকিস্তানিদের গোলাম হয়ে থাকতে হত। মানুষকে নিজের জীবনের চেয়ে বেশি ভালবাসতেন বঙ্গবন্ধু। তিনি জীবনে কারো কাছে মাথা নত করেননি।”

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার জন্য জিয়াউর রহমান এবং খন্দকার মোশতাক আহমেদের মরণোত্তর বিচার দাবি করেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য বেনজীর আহমেদ।

তিনি বলেন, “বিশ্ববাসীর কাছে তাদের তুলে ধরা হোক, জিয়া পাকিস্তানি এজেন্ট ছিল। সে আবার পাকিস্তান কনফেডারেশনে যেতে চেয়েছিল।”

জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, “আজকে বুদ্ধিজীবীরা গণতন্ত্রের কথা বলে। টকশোতে গেলে গণতন্ত্রের কথা শুনতে হয়। যেদিন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হল, সেদিন গণতন্ত্র কোথায় গেল? শিশু রাসেলকে ‍যখন হত্যা করা হল তখন কোথায় গণতন্ত্র ছিল? এইসব ধান্দাবাজরা এখনও আছেন।

“দেশ স্বাধীন না হলে পদ্মা সেতু হত না। কর্ণফুলী টানেল হত না। আমরা এমপি হতাম না। এত লোক সচিব হত না।”

জাতীয় পার্টির আরেক সাংসদ সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা বলেন, “জাতির পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে শুধু দেশকে পিছিয়ে দেওয়া হয়নি, সাম্প্রদায়িক পাকিস্তানি রাজনীতি বিষ ফল রোপণ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক দুর্গা পূজার সময় আমরা সেটা দেখেছি।

“বাংলাদেশের ৫০ বছরে আমরা চাই দুর্নীতিমুক্ত, সাম্প্রদায়িকতাবিহীন দেশ। আমরা আশা করি, বাংলাদেশে যাতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পায়।“

এর আগে তোফায়েল আহমেদ সরকারের উন্নয়নের কথা বলতে গিয়ে ‘বাংলাদেশের সকল গ্রাম শহরে পরিণত হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেন।

পরে বক্তব্য দিতে দাঁড়িয়ে সেই প্রসঙ্গ ধরে গণফোরামের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ বলেন, “আসলে আমি বলবো বাংলাদেশের সকল গ্রাম শহর হয় নাই…।

“তোফায়েল আহমেদ ডাকুসর ভিপি ছিলেন। আমাকেও নেত্রী (শেখ হাসিনা) ডাকসুর ভিপি বানিয়েছিলেন, ছাত্রলীগের সভাপতি বানিয়েছিলেন। তোফায়েল আহমেদ যে সুযোগ সুবিধা পেয়েছেন, সেই সুযোগ দিয়ে তিনি তার গ্রামকে শহরে রূপান্তরিত করেছেন। আমরা সেই সুযোগ পাইনি। আমাদের গ্রামকে শহরে রূপান্তরিত করতে পারিনি। বাংলাদেশের সকল গ্রামকে শহরে পরিণত করতে হবে।”

জাতীয় পার্টির (জাপা) শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, “বঙ্গবন্ধু কয়েকবার দেশ স্বাধীন করেছেন। প্রথমবার যুদ্ধ ঘোষণা করে। দ্বিতীয়বার বিভিন্ন দেশে ঘুরে স্বীকৃতি আদায় করে। আর তৃতীয়বার, যখন ইন্দিরা গান্ধীকে বললেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতের সেনা তুলে নেওয়ার জন্য।”

স্বাধীনতার ৫০ বছর পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ‘ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “এসব প্রতিষ্ঠান কার্যকর করতে হবে। আমরা বিভাজিত জাতি চাই না। আমরা শাহবাগ-হেফাজত চাই না। এক জাতি চাই। অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈষম্যহীন জাতি চাই।”

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

December 2021
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com