কই ! প্রতিদিন পুরুষ নির্যাতিত হচ্ছে, তাদের সুরক্ষার জন্য কি কোন আইন করা যায় না ?

প্রকাশিত: ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২, ২০২১

কই ! প্রতিদিন পুরুষ নির্যাতিত হচ্ছে, তাদের সুরক্ষার জন্য কি কোন আইন করা যায় না ?

এডভোকেট মোঃ আমান উদ্দিন:
সৃষ্টি কর্তার ইচ্ছায় অর্ধেক করিয়াছেন নারী আর অর্ধেক তার নর। মা-জাতি এমনিতেই সম্মানিত। কারণ তাদের পায়ের নীচে সন্তানের বেহেশত। কেননা তারা ১০ মাস ১০ দিন গর্ভ ধারন করে। বাচ্চাদের লালন পালনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে এবং পুরুষরা তাদের ছায়সঙ্গী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

 

বর্তমান সময়ে প্রকৃত পক্ষে নারীরাই মূলত পুরুষদের শাসন করে থাকে। কেননা তাদের অভিযোগ মাননীয় আদালত সাদরে গ্রহণ করে। তাদের সুরক্ষার জন্য নারী নির্যাতন, যৌতুক নিরোধ আইন, পারিবারিক আইন সহ নানা আইন আছে। তাহারা পুরুষদের চেয়ে অনেকটা সচেতন।
একটু এদিক-সেদিক হলেই পুরুষরাই জেল-জুলুম সহ এসব আইনের মাধ্যমে তাদেরকেই জেল ঝুলুম খাঠতে হয়। অথচ প্রকৃত পক্ষে অধিকাংশ পুরুষের কোন দোষ নেই।

 

প্রায় ক্ষেত্রে শিক্ষিত মেয়েরা একাধিক পরকিয়া করে থাকে। বাধা দিলেই পুরুষদের উপর নেমে আসে আইনের খড়গ। অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবতার আলোকে তার কথিত প্রেমিককে দিয়ে হত্যা পর্যন্ত হতে হয় পুরুষকে। আধুনিক প্রযুক্তির সুবাদে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই মেয়েরা পরকীয়ায় ব্যস্ত থাকে। অথচ শাস্তির সম্মুখীন হতে হয় ছেলেদের। একাধিক সন্তানাধিকে রেখে পালিয়ে যায় পর-পুরুষের সাথে। সম্প্রতি উদাহরণ হিসাবে বলতে চাই বর্তমানে যিনি ক্রিকেটার নাসিরের স্ত্রী তামিমা, সে কিন্তু তার পূর্বের স্বামী রাকিব কে তালাক না দিয়ে একটা মেয়ে সন্তানকে রেখে নাসিরের সাথে স্বগৌরবে ঘর সংসার করিতেছে।

 

অথচ তার পূর্বের স্বামী আইনগত কোন প্রতিকার পাইতেছে না। আইনের দৃষ্টিতে প্রথমে তার পূর্বের স্বামীকে তালাক দিতে হয়। তালাকের কার্যকারিত সম্পুর্ন হলে সে অন্যত্র বিবাহ করতেই পারে। শুনেছি ইতিপূর্বে ক্রিকেটার নাছিরের স্ত্রী একাধিক পর পুরুষের সাথে তার বৈধ বিবাহকে বিচ্ছে না করে প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে বিয়ে করেছে।

 

 

অথচ তার পূর্বের স্বামী তাকে তার পারফরম্যানস গঠনের জন্য সার্বিক সহযোগীতা করে প্রতিষ্ঠিত করল। ক্রিকেটার নাসিরের স্ত্রী বর্তমানে সৌদি এয়ার লাইনস এর কেবিন ক্রু এর চাকুরী করিতেছে। অথচ সে অভাবী সংসারের মেয়ে ছিল। তার কেরিয়ার গড়তে তিলে তিলে তাকে শিক্ষিত করল, একটা মেয়ে জন্ম নিল কিন্তু কাউকে কিছু না বলে স্ব গৌরবে প্রচার মাধ্যমে ঢাক ঢোল বাজিয়ে অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ক্রিকেটার নাছির কে বিয়ে করল। একটা কন্য সন্তান কে ত্যাগ করে কি আনন্দে দিন যাপন করিতেছে। দুঃখে দুঃখে কন্যা সন্তানটি তার পিতার নিকট মাতৃহারা অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করিতেছে। আর তার পূর্বের স্বামী আইনের সহযোগীতার জন্য আদালতের ধারে ধারে ঘোরপাক খাচ্ছে। রাকিব বিচার পাবে কিনা তা কিন্তু আল্লাহই ভাল জানেন। কি নির্মম উপহাস !

 

 

যৌতুক দেওয়া এবং তা গ্রহন করা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। আগেকার দিনে শুনা যাইত পুরুষরাই স্ত্রীর পিত্রালয় থেকে যৌতুক গ্রহন করত। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে স্ত্রীরাই বা তার পিতা মাতারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে যৌতুক গ্রহন করে থাকে। যেমন স্বামীর মহরানা দেওয়ার সামর্থের উপর মহন বা স্বর্নালংকার ও আনুষাঙ্গিক জিনিস পত্র দিতে হত।

 

কিন্তু ইদানিং কালে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য আ ইউরোপের বিবাহের উপযুক্ত কোন মেয়ে নিয়ে আসলে ছেলে পক্ষকে ৫০/৬০ লক্ষ টাকা নগদ এবং স্বর্নালংকার প্রদান করতে হয়। অথচ ছেলে পক্ষের এত টাকা নগদ দেওয়ার সামর্থ নেই। লোভের বশবর্তী হয়ে ছেলে পক্ষ বাধ্য হয়ে বাড়ী ঘর বিক্রি করে কনে পক্ষের আবদার পূর্ন করে থাকে। এখানে মেয়ে চাইলে প্রতিবাদ করতে পারত। আমি কি পণ্য হয়ে গেছি? কিন্তু প্রতিবাদ করেনি। তার অভিভাবক বিবাহ পরর্বতী এবং গন্তব্যে পৌঁছার পর তাদের আয়ের উৎস হিসাবে বেছে নিয়েছে। ছেলে-বা ছেলের অভিভাবকরা কনে পক্ষের অভিভাবকদের খারাপ গালি দিতে শুনা যায়। অনেক সংসার ভেঙ্গেঁ যায়। মূলতৎ এখানে কোন হৃত্যতাপূর্ন আত্মীয়তাই হয়নি। শুধু উদ্দেশ্য হাসিল হয় ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে। হওয়াত কথা ও নহে। কারন ছেলে পক্ষ তাদের গায়ের চামড়া বিক্রি করে ৫০/৬০ লক্ষ টাকা পরিশোধ করেছে।

 

শুধু যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বাহ ইউরোপ প্রবেশ করার জন্য। সারাটা জীবন উভয় পরিবারের মধ্যে মতোবিরোধ লেগেই থাকে। স্বামী মন খোলে শশুড়-শাশুড়ী ও তার স্ত্রী কে সম্মান দেয় না। না দেওয়ারই কথা। এখানে টাকার সাথে আত্মীয়তা হয়েছে। ভাল বংশের ছেলে বা মেয়ের সাথে বিবাহ হয় নাই। অনেক গরু ছাগলের সাথে যেভাবে দাম দর হয় সেভাবে বর্তমান সময়ে প্রবাসী মেয়েদেরকে দাম ধর করে বিয়ে দিয়ে থাকেন মেয়ে পক্ষের আত্মীয়তার। এখানে মেয়ের ইচ্ছা অনিচ্ছা কোন বালাই নেই। প্রতিবাদী মেয়ে হলে এ অন্যায় দাম দরের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারত। কিন্তু নেয়নি।

 

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় মহরানা ৫০/৬০ লক্ষ টাকা দেওয়ার পর মেয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোথাও যাওয়ার পর ছেলের নিকট যথাযত ভাবে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দেয়। ক্ষেত্র বিশেষ অভশিষ্ট প্রাপ্র মহরানার জন্য পারিবারিক আদালতে মামলা করে ফেলে মেয়ে পক্ষ। ছেলে পক্ষ ভিখারী হয়ে রাস্তায় নেমে মানবেতর জীবন যাপন করতে দেখা যায়। বাড়াবাড়ী করলে নারী নিযার্তন, যৌতুক নিরোধ আইন, ইত্যাদির মাধ্যমে উপযুক্ত শাস্তি ভোগ করতে হয় ছেলে পক্ষকে।

সময়ের দাবী এক্ষেত্রে কঠিন আইন প্রণয়েনের মাধ্যমে সরকারকে ছেলেদের সুরক্ষার ব্যবস্তা করা এবং মেয়ে পক্ষের অযৌতিক মহরানার দাবী রোধে প্রয়োজনীয় আইন করা। অনেক প্রবাসী মেয়েদের অভিভাবকরা তাদেরকে পন্য হিসাবে ব্যবসার অংশ হিসেবে অসৎ উদ্দেশ্যে কাড়ি কাড়ি টাকা কামানোর হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করিতেছে। যা মোঠেও কাম্য নহে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মেয়ে পক্ষই যৌতুক হিসাবে উপঢৌকনের নামে যৌতুক গ্রহন করে।

পীঠের চমড়া বিক্রি করে, এসব উপঢৌকন দিয়ে থাকে ছেলে পক্ষ। যা শাস্তি যোগ্য অপরাধ। সরকারের নিকট জোর দাবী এসব কোমল মতি ছেলেদের জীবন মান উন্নয়নের স্বার্থে পুরুষ নির্যাতন রোধে কঠোর আইনের বিধান করা সময়ের দাবী। এক্ষেত্রে কাবিনের মহরানাই সাক্ষ ধরে বিচার করা যাইতে পারে। মেয়ে এবং তার অভিভাবকদের। মেয়েদের যৌবনকাল মাত্র ৪০/৪৫ বছর। কিন্তু ছেলেদের যৌবন কাল মৃত্যুর পূর্ব পযন্ত। মেয়েদের প্রজনন ক্ষমতা শেষ হয়ে যায় ৪০/৪৫ বছর বয়সের মধ্যে। কিন্তু ছেলেদের প্রজনন ক্ষমতা থাকে ৮০/৯০ বছর বয়স পর্যন্ত। শরিয়তের বিধান মোতাবেক ছেলে চাইলে ৪ টি বৈধ বিয়ে করতে পারে। কিন্তু মেয়েরা পারে না।

 

 

তবে মেয়েরা ৪০/৪৫ বছরের মধ্যে যে সব সন্তানদের মা হবে, সে সব সন্তান কিন্তু মায়ের বাধ্যই থাকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে। মায়ের অধিকার ও বেশী। কারন সে জনম দুঃখিনি মা, ১০ মাস ১০ দিন গর্ভ ধারন করেছেন। অনেক কষ্ঠে কোলে কাকে আদর যন্ত করেন মা-ই সন্তানদের মানুষ হিসাবে গড়ে তুলেছেন সেখানে পিতার ভুমিকা গৌন।

লেখক, সভাপতি, সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন, বিয়ানীবাজার, সিলেট।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আর্কাইভ

December 2021
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com