প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ম মানায় অনীহা

প্রকাশিত: ৩:২৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৩, ২০২১

প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ম মানায় অনীহা

প্রজন্ম ডেস্ক:

দেশ বা দেশের বাইরে ভ্রমণে গেলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে জানানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে সচিবদের। বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন কমিটিতে রাখতে মন্ত্রণালয় এবং বিভাগগুলোকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মতি নিতে হয়। প্রশাসনে এ ধরনের নীতিমালাগুলো মানার ক্ষেত্রে দেখা দিয়েছে বেজায় অনীহা।

 

এমনকী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব বিবরণী চাওয়া হলেও এ বিষয়েও নেই খুব একটা সাড়া।

 

সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, সরকারের সিনিয়র সচিব/সচিবদের ব্যক্তিগত কিংবা দাপ্তরিক কাজে দেশের অভ্যন্তরে ও বিদেশে ভ্রমণসূচি যথাসময়ে এ বিভাগে প্রেরণ করা হচ্ছে না। এতে রাষ্ট্রাচারসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজে বিভিন্ন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

 

প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ম-কানুন মানার প্রতি এ অনীহায় একদিকে যেমন দেখা দিচ্ছে সমন্বয়হীনতা, অন্যদিকে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে সরকারি কাজ-কর্মে। এজন্য সম্প্রতি নিয়ম মানতে কর্মকর্তাদের বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছে নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ।

 

জানা যায়, কোথাও ভ্রমণের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে জানানোর কথা থাকলেও সেই নিয়ম মানছেন না সরকারের সিনিয়র সচিব থেকে শুরু করে অন্য সচিবরা। তাই সচিবদের দেশের ভেতরে ও বাইরে ভ্রমণের তথ্য আবশ্যিকভাবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে জানানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডার ও অন্য ক্যাডার থেকে আসা উপ-সচিব ও এর ওপরের পর্যায়ের কর্মকর্তারা পদায়ন সংক্রান্ত তথ্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পিএমআইএস (পারসোনাল ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম-ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি) ডাটাবেজে পাঠাচ্ছেন না। এতে সরকারি কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে, তাই এই কর্মকর্তাদের নিজ উদ্যোগে তথ্যাদি হালনাগাদ রাখার অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

 

বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন কমিটিতে রাখতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মতি নেওয়ার বিধান থাকলেও সেটি মানা হচ্ছে না।

 

যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা বেশি। তাদের মাইন্ডসেট অনেক পরিবর্তন হয়েছে। কারণ প্রতিনিয়ত মনিটরিং হচ্ছে। আমাদের এপিএ (বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি) আছে, কে এগিয়ে থাকবে এগুলো নিয়ে প্রতিযোগিতা হচ্ছে। যার কারণে ওই রকম স্কোপ নেই। দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে নোট করে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

 

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, যে কোনো সময়ের তুলনায় এখন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা বেশি। তাদের মাইন্ডসেট অনেক পরিবর্তন হয়েছে। কারণ প্রতিনিয়ত মনিটরিং হচ্ছে। আমাদের এপিএ (বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি) আছে, কে এগিয়ে থাকবে এগুলো নিয়ে প্রতিযোগিতা হচ্ছে। যার কারণে ওই রকম স্কোপ নেই। দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে নোট করে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

 

না জানিয়ে সচিবদের ভ্রমণের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চাকরিবিধি অনুযায়ী সচিবদের এই সুযোগ নেই। তাকে অবশ্যই জানাতে হবে। যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই জানাতে হবে। যদি কেউ এটা করে থাকেন, তিনি নিয়ম ভেঙেছেন। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ চিঠিও দিয়েছে।

 

সম্পদের হিসাব দেওয়ার বিষয়ে ফরহাদ হোসেন বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজ নিজ ডিপার্টমেন্টে সম্পদের হিসাব দেবেন। অনেকে জমা দিচ্ছেন। আমাদের তাগাদা দেওয়া আছে ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পদের হিসাব জমা দিতে হবে। এটাই আমরা বলে দিয়েছি।

 

 

ভ্রমণের তথ্য জানাচ্ছেন না সচিবরা
কাজে সমন্বয়ের সুবিধার্থে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা সচিবদের দেশের ভেতরে ও দেশের বাই ভ্রমণের ক্ষেত্রে তা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে জানানোর নিয়ম রয়েছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব/সচিবদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানায়, কোনো মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রশাসনিক প্রধানরা এই নিয়ম মানছেন না। তাই ভ্রমণের তথ্য আবশ্যিকভাবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে জানানোর নির্দেশনা দেওয়া হয় ওই চিঠিতে।

 

‘সিনিয়র সচিব/সচিবগণের ভ্রমণসূচি প্রেরণ’ বিষয়ে চিঠিতে বলা হয়, ‘সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, সরকারের সিনিয়র সচিব/সচিবদের ব্যক্তিগত কিংবা দাপ্তরিক কাজে দেশের অভ্যন্তরে ও বিদেশে ভ্রমণসূচি যথাসময়ে এ বিভাগে পাঠানো হচ্ছে না। এতে রাষ্ট্রাচারসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজে বিভিন্ন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।’

‘যেহেতু রাষ্ট্রীয় সব গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান ও কর্মসূচিতে সরকারের সিনিয়র সচিব/সচিবদের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে সেহেতু দেশের অভ্যন্তরে ও বিদেশে তার ভ্রমণসূচি এ বিভাগে পাঠানো নিশ্চিত করা আবশ্যক।’

বিষয়টি অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে সচিবদের নির্দেশনা দেওয়া হয় ওই চিঠিতে।

 

 

ডাটাবেজে পদায়নের তথ্য দিতে অনীহা

পদায়ন সংক্রান্ত তথ্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পিএমআইএস ডাটাবেইজে পাঠাতে অনীহা বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডার ও অন্য ক্যাডার থেকে আসা উপ-সচিব ও তার ওপরের পর্যায়ের কর্মকর্তাদের। তাই কর্মকর্তাদের নিজ উদ্যোগে তথ্যাদি হালনাগাদ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

 

গত ১৯ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের লোকপ্রশাসন কম্পিউটার কেন্দ্র (পিএসিসি) থেকে এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব, সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব/সচিব (অধীন সব কর্মকর্তাকে জানানোর অনুরোধসহ), বিভাগীয় কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি দেওয়া হয়।

 

চিঠিতে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের লোকপ্রশাসন কম্পিউটার কেন্দ্র বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারভুক্ত সব কর্মকর্তা, উপ-সচিব ও এর ওপরের পর্যায়ের অন্যান্য ক্যাডার কর্মকর্তাদের চাকরি সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যাবলি পিএমআইএসের ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা হয়। কর্মী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় এই তথ্য ব্যবহার করা হয়। পিএমআইএস ডাটাবেজে সংরক্ষিত তথ্যাবলি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অনেক কর্মকর্তার পোস্টিং সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ না থাকায় সরকারি কার্যক্রম সম্পাদনে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।

 

এতে আরও বলা হয়, কর্মকর্তাদের যোগদানপত্রের পৃষ্ঠাঙ্কন, অব্যাহতিপত্র পিএসিসিতে যথাসময়ে না পাঠানোর ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বদলি/পদায়নকৃত পদ, সঠিক যোগদানের তারিখ ও আগের পদের অব্যাহতির তারিখ এন্ট্রি করা সম্ভব হয় না। এ কারণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চাহিদামতো কর্মকর্তাদের বিভিন্ন পদে দায়িত্বপালনের মেয়াদ সঠিকভাবে সরবরাহ করা যাচ্ছে না।

 

পিডিএসে তথ্য হালনাগাদ রাখা একটি চলমান প্রক্রিয়া, তথ্য হালনাগাদ কিংবা ভুল তথ্য দিলে এর দায়ভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ওপরই বর্তায় বিধায় সব কর্মকর্তাকে স্ব-উদ্যোগে তথ্যাদি হালনাগাদ রাখার অনুরোধ জানানো হয় চিঠিতে।

 

 

সম্মতি ছাড়াই মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের রাখা হচ্ছে কমিটিতে

বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন কমিটিতে রাখতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মতি নিতে হবে। এতে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হওয়ায় তা নিরসনে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রণালয়/বিভাগের সিনিয়র সচিব ও সচিবদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

 

এতে বলা হয়, সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মতি ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগ এবং অধিদফতর বা সংস্থার মাধ্যমে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকসহ মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ ব্যাপারে না জানার কারণে তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা।

 

‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর সিডিউল-১ (অ্যালোকেশন অব বিজনেস অ্যামং দ্য ডিফারেন্ট মিনিস্ট্রিস অ্যান্ড ডিভিশন) অনুযায়ী, বিভাগ ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ের সাধারণ প্রশাসন ও আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কার্যপরিধিভুক্ত। এক্ষেত্রে মাঠ প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত কোনো কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মতি নেওয়ার আবশ্যকতা রয়েছে।’

 

চিঠিতে আরও বলা হয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মতি ও মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া অধিদফতর বা সংস্থা সরাসরি এ ধরনের কোনো কমিটি গঠন সমীচীন নয়। এর আগে এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পরিপত্র জারি করা হয়েছে।

 

এমতাবস্থায় কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগের কোনো কমিটি গঠনকালে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক বা মাঠ প্রশাসনের অন্য কোনো কর্মকর্তাকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হলে পরিপত্র অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মতি নেওয়ার জন্য বলা হয় ওই চিঠিতে।

 

 

সম্পদের হিসাব: সাড়া নেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের

‘সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯’ অনুযায়ী পাঁচ বছর পরপর সরকারি চাকরিজীবীদের সম্পদ বিবরণী দাখিল ও স্থাবর সম্পত্তি অর্জন বা বিক্রির অনুমতি নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এ নিয়ম মানছেন না। এ বিষয়ে সরকারেরও কোনো তদারকি নেই বললেই চলে।

 

এই প্রেক্ষাপটে বিধিমালাটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সম্পদ বিবরণী দাখিল ও স্থাবর সম্পত্তি অর্জন বা বিক্রির নিয়ম মানতে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব বা সচিবদের কাছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ২৪ জুন চিঠি দেওয়া হয়।

 

মন্ত্রণালয়ের ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯’-এর বিধি ১১, ১২ ও ১৩-তে সরকারি কর্মচারীদের স্থাবর সম্পত্তি অর্জন, বিক্রয় ও সম্পদ বিবরণী দাখিলের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সুশাসন নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী উল্লিখিত বিধিগুলো কার্যকরভাবে কর্মকর্তাদের অনুসরণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে জোর নির্দেশনা দিয়েছেন।

 

এমতাবস্থায়, ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’-এর আওতাভুক্তদের নিয়ন্ত্রণকারী প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়/দপ্তর/অধীনস্থ সংস্থায় কর্মরত সব সরকারি কর্মকর্তার সম্পদ বিবরণী দাখিল, ওই সম্পদ বিবরণীর ডাটাবেইজ তৈরি ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে স্থাবর সম্পত্তি অর্জন ও বিক্রির অনুমতি নেওয়ার বিষয়ে ‘সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯’-এর ১১, ১২ ও ১৩ বিধি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে প্রতিপালনের মাধ্যমে জরুরিভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে জানানোর নির্দেশনা দেওয়া হয় চিঠিতে।

 

এছাড়া সরকারি কর্মচারীর জমি/বাড়ি/ফ্ল্যাট/সম্পত্তি ক্রয় বা অর্জন ও বিক্রির অনুমতির জন্য আবেদনপত্রের নমুনা ফরম ও বিদ্যমান সম্পদ বিবরণী দাখিলের ছকও চিঠির সঙ্গে পাঠানো হয়।

 

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তাদের অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব দেওয়ার নির্দেশনা দেয়। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ দিয়েছে। কোনো কোনো মন্ত্রণালয় হিসাব দেওয়ার সময়ও বেঁধে দেয়। কিন্তু মন্ত্রণালয়গুলোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখনো হিসাব জমা দেননি।

 

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় গত ১৫ সেপ্টেম্বর সম্পদের হিসাব জমা দেওয়ার সময় বেঁধে দিলেও সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে জানা গেছে, ওই সময়ের মধ্যে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী হিসাব জমা দেননি।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com