বিয়ানীবাজারে ঝরে গেছে ২ হাজার শিক্ষার্থী

প্রকাশিত: ২:৩৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৩, ২০২১

বিয়ানীবাজারে ঝরে গেছে ২ হাজার শিক্ষার্থী

 

মিলাদ জয়নুল:

 

করোনা সংক্রমণরোধে দেড় বছরের বেশি সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বিয়ানীবাজার উপজেলায় প্রায় ২ হাজার শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। এই সময়ে বিয়ে হয়েছে প্রায় শতাধিক ছাত্রীর। কিছু ছাত্র প্রবাসে চলে গেছে। আর প্রাথমিক-মাধ্যমিক পড়ুয়া প্রায় ১২ভাগ শিক্ষার্থী স্কুলে আসছেনা।

 

করোনা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হওয়ায় বিদ্যালয় খুললেও শিক্ষার্থী উপস্থিতি কম। তবে কিছু দিন গেলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিতি সংখ্যা বাড়বে বলে আশা শিক্ষকদের।

 

প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিয়ানীবাজার উপজেলায় প্রাথমিক-মাধ্যমিক স্তরের কতভাগ শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে, এ নিয়ে জরিপ চালাচ্ছে একটি বেসরকারি এনজিও। আপাতত: তাদের হিসাব অনুযায়ী এই দুইস্তরের প্রায় ১২ ভাগ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রোমান মিয়া জানান, বিয়ানীবাজারে করোনার পূর্বেই স্বাভাবিকভাবে ঝরে পড়ার হার ছিল ৩ ভাগ। করোনাকালে তা বৃদ্ধি পেয়েছে। সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা টিটু দে বলেন, বিয়ানীবাজারে বাইরের জেলার যে সকল শিক্ষার্থী ছিল তারা এখান থেকে চলে গেছে। তবে বাল্যবিয়ের কারণে উপজেলায় ঝরে পড়ার সংখ্যা নেই বললেই চলে।

 

বিয়ানীবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অসীম চন্দ তালুকদার বলেন, তার বিদ্যালয়ের প্রায় ৩০ভাগ শিক্ষার্থী আর আসছেনা। বিদ্যালয়ে পুরো পাঠদান হলে এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। তিলপাড়া ইউনিয়নের দাসউরা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান জানান, তার বিদ্যালয়ে প্রায় ৫ ভাগ শিক্ষার্থী অনুপস্থিত রয়েছে। এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।

 

 

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মৌলুদুর রহমান বলেন, সঠিক জরিপ এখনো পাওয়া না গেলেও প্রায় ১০ভাগ শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে বলে অনুমান করছি। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্টান ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, টাকা-পয়সা সংক্রান্ত কারণে যারা বিদ্যালয়ে আসছেনা, তাদের ফি মওকুফ করা দেয়া হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার যে ক্ষতি হয়েছে, তা আমরা সাধ্যমতো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করবো।

 

 

‘করোনার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধের পরে আবারও স্কুলে আসতে পেরে ভালো লাগছে। কিন্তু মন খারাপও হচ্ছে। কারণ, আমাদের অনেক বান্ধবীর বিয়ে হয়ে গেছে। এখন তাদের পড়ালেখা বন্ধ। তারা খুব ভালো ছাত্রী ছিল। তাদেরকে খুব মিস করি।’ এমন কথা জানান বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ফারজানা আক্তার। তিনি বলেন, আমার অনেক সহপাঠির বিয়ে হয়ে গেছে।

 

বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম বলেন, দ্বাদশ শ্রেণীতে মোট ১২শ’ শিক্ষার্থী ছিল। করোনা পরবর্তী সময়ে তাদের মধ্য থেকে ১২৫৭জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছে। অন্যদের কারো বিয়ে হয়ে গেছে, কেউ আবার বিদেশ চলে গেছে। করোনা মহামারিতে শিক্ষাখাতে অনেক ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানকার অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। আগে বিদ্যালয় যেমন প্রাণচাঞ্চল্য ছিল, সেই পরিবেশটা আর নেই। অনেক ছাত্রীর বিয়ে হয়ে গেছে। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

 

একই প্রতিষ্টানের ছাত্র এমরান হোসেন বলেন, ‘আগে আমাদের অনেক বন্ধু ছিল। সবাই একসঙ্গে ক্লাস করেছি। কয়েকজন বেশ ভালো ছাত্র ছিল যাদের অনেকেই আজ স্কুলে নেই।’

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আর্কাইভ

October 2021
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com