ইউপি নির্বাচন: বিয়ানীবাজার আওয়ামীলীগে ২শ’ ভোটের ‘নতুন লড়াই’

প্রকাশিত: ১:২৪ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১১, ২০২১

ইউপি নির্বাচন: বিয়ানীবাজার আওয়ামীলীগে ২শ’ ভোটের ‘নতুন লড়াই’

 

মো. বেলাল আহমদ/ মো. মিসবাহ উদ্দিন :

 

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে নতুন লড়াইয়ে নেমেছেন বিয়ানীবাজারের বিভিন্ন ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে আগ্রহী সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তৃণমুলের নেতাকর্মীদের ভোটের মাধ্যমে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থীর নাম কেন্দ্রে পাঠানোর সিদ্ধান্তে উপজেলার ইউপিগুলোতে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ঘুম হারাম। সম্ভাব্য প্রার্থীদের এমন স্নায়ুবিক প্রতিযোগীতায় ‘বেশ মুডে’ আছেন বিভিন্ন ওয়ার্ডের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা। দীর্ঘ সময় থেকে অপমান-লাঞ্চনায় নীরব থাকা ওয়ার্ডের দায়িত্বশীলরা এবার ক্ষোভ ঝাড়ছেন, মুখ খুলছেন প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নিয়ে। আর চেয়ারম্যান পদে আগ্রহী প্রার্থীরা অনুনয়-বিনয় করে মান ভাঙ্গানোর চেষ্টা করছেন, বাড়ি-বাড়ি যাচ্ছেন মিষ্টি-ফলমুল-উপহার নিয়ে।

 

জানা যায়, আগামী নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে বিয়ানীবাজার উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্টিত হতে পারে। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে তৃণমুলে ভোট (!) করার সিদ্ধান্ত নেয় সিলেট জেলা আওয়ামীলীগ। স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে ধরে নিয়ে এবং দলীয় বিশৃংখলা ঠেকাতে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য মোহাম্মদ জাকির হোসেন। তিনি বলেন, দলীয় প্রতীক গ্রহনযোগ্য ব্যক্তির হাতে তুলে দেয়া হবে। বিতর্কের উর্দ্ধে যিনি থাকবেন এবং যার মাঠপর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা আছে তিনিই হবেন ইউনিয়নে নৌকার কান্ডারী।

 

এদিকে ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের শৃংখলা এবং নির্বাচনী বার্তা দিতে আগামী ২৩ অক্টোবর জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ বিয়ানীবাজারে বর্ধিত সভা করবেন। এই সভায় কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত এবং দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের রুপরেখা জানিয়ে দেয়া হবে বলে অপর আরকেটি সূত্রে জানা গেছে। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে উপজেলার সবক’টি ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক শৃংখলার বার্তা জানিয়ে বিজয়ের পথও বাতলে দেয়া হবে।

 

উপজেলা আওয়ামীলীগের বিভিন্ন সূত্র জানায়, প্রতিটি ওয়ার্ডের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী বাছাইয়ে ভোট দিতে পারবেন। এমন হিসেবে প্রতিটি ইউনিয়নে ২০জন করে ১০টি ইউনিয়নে ২শ’ ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এখনকার সময়ে এই ভোটারদের কদর আকাশচুম্বি। শেওলা ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভোর থেকে প্রতিদিন একেকজন প্রার্থী ২-১বার আসেন। ফোন করে জানতে চান শারীরিক-পারিবারিক কোন সমস্য আছে কিনা? প্রার্থীদের এমন আচরণে কখনো রাগ ওঠে আবার কখনো ভালো লাগে। লাউতা ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডের সভাপতি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাদের ইউনিয়নে নৌকা প্রত্যাশী প্রার্থীর সংখ্যা বেশী। তাদের যোগাযোগে নিজে খুব আনন্দিত।

 

যদিও ‘ভোটের আগে এমন ভোট’ নিয়ে মন ভালো নেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের। তারা জেলার এমন সিদ্ধান্তকে বাঁকা চোখে দেখছেন। এতে বাড়তি পরিশ্রম আর টাকা খরচ হবে। কারণ এই ভোটেও নিজের যোগ্যতা প্রমাণে কিছু সংখ্যক ভোটারদের টাকা-পয়সা দিতে হবে। তাই চেয়ারম্যান প্রার্থী অনেকের মন খারাপ।

 

বিয়ানীবাজার উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে প্রায় অর্ধশতাধিক প্রার্থী নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে চান। তবে যারা টানা দুই মেয়াদে চেয়ারম্যান ছিলেন, এমন প্রার্থীরা এবার বাদ যাবেন-এ ধরণের অসমর্থিত সূত্রের খবরে নবাগত প্রার্থীদের কারো মুখে আছে হাসির ঝিলিক।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

December 2021
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com