বিশ্ব ডাক দিবস: চিঠি লেখা বিয়ানীবাজারবাসীর কাছে এখন গল্প-ইতিহাস!

প্রকাশিত: ১১:৪১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৯, ২০২১

বিশ্ব ডাক দিবস: চিঠি লেখা বিয়ানীবাজারবাসীর কাছে এখন গল্প-ইতিহাস!

 

স্টাফ রিপোর্টার:

 

ফজলুল হকের বাবা ও ভাই প্রবাসে থাকার সূত্র ধরে তিনি প্রতিমাসেই একাধিকবার ডাকঘরে আসতেন। চিঠি এসেছে কি-না জানতে কিংবা ডাক বাক্সে চিঠি ফেলার জন্য তাকে আসতে হতো। বিয়ানীবাজার উপজেলার কসবা গ্রামের ফজলুল হকের দুই ভাই এখানো প্রবাসে থাকেন। কিন্তু গত কয়েকবছরেও তাদের সঙ্গে চিঠির মাধ্যমে যোগাযোগ হয়নি। তিনি জানান, এখন মোবাইল ফোনেই চিঠির কাজ সেরে নেয়া যাচ্ছে।

 

প্রবাসে থাকা বাবা ও চাচাদের চিঠি সংগ্রহের জন্য ডাকঘরের লাইনে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতার কথা বললেন পৌরশহরের নবাং গ্রামের মোস্তাক আহমদ। বাবা-চাচাদের পাশাপাশি স্বজনদের কাছেও প্রতিনিয়ত চিঠি লিখে ভালোমন্দ খোঁজ রাখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেক কিছুর মতো চিঠি লেখাটাও উঠে গেছে। গত কয়েক বছরের মধ্যেও কাউকে চিঠি লেখা হয়নি বলে জানান তিনি।’

 

ডাকঘর যে ১১টি সেবা দেয় এর মধ্যে চিঠি পৌঁছানোর সেবা অন্যতম। চিঠি নিয়ে একটি জনপ্রিয় গান হলো, ‘ডাক পিয়নের হাজারো চিঠির ভিড়ে, তোমার চিঠি আসবে কিগো আমার কাছে ফিরে? কোথায় আছো নাকি হারিয়ে গেছো প্রলয়ও ঝড়ে।’ চিঠির গুরুত্বের কথা এ গানে খুবই স্পষ্ট।

 

তবে ৯ অক্টোবরের বিশ্ব ডাক দিবসকে সামনে রেখে খোঁজ নিয়ে গিয়ে জানা গেল, বিয়ানীবাজারবাসীর কাছে চিঠি এখন শুধুই গল্পে, স্মৃতিতে, ইতিহাসে। সাধারণ মানুষ এখন আর খুব একটা চিঠি লিখেন না বলে ডাকঘরে এখন ইনভেলাপ (চিঠির খাম), পোস্টকার্ড বিক্রি একেবারেই উঠে গেছে। ইনভেলাপের দাম বাড়লেও কদর একেবারে নেই বললেই চলে। শুধুমাত্র সরকারি কিছু কাজে এর ব্যবহার হচ্ছে। অথচ বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিলি করতে দেখলেই পিয়নের কাছে জানতে চাওয়া হতো কোনো চিঠি এসেছে কি-না। চিঠি লেখার জন্যও গ্রামে লোক থাকত। একইভাবে কেউ চিঠি পড়েও দিতেন।

 

লাউতা ইউপি চেয়ারম্যান মো. গৌছ উদ্দিন বলেন, ‘আমার কাছে অনেকেই আসতেন চিঠি লিখে দিতে কিংবা পড়তে। গত কয়েক বছর ধরেই চিঠি লিখতে বা পড়ানোর জন্য কেউ আসে না। মূলত প্রযুক্তির সুবিধার কারণে চিঠির প্রচলন উঠে গেছে।’

 

ডাকঘর সূত্রে জানা যায়, সেখানে চলতি মাসে কয়েকটা ইনভেলাপ বিক্রি হয়েছে। দুই টাকার ইনভেলাপ দাম বেড়ে পাঁচ টাকা হলেও এর কদর এখন শূন্যের কোঠায়। কয়েক বছর আগেও এখানে দৈনিক ৭০-৮০টি ব্যক্তিগত চিঠি এসেছে। কিন্তু এখন শুধুমাত্র কিছু অফিসিয়াল চিঠি আসে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডাকঘর সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী বলেন, ‘ডাকঘরগুলো এখন মূলত সঞ্চয়পত্র বিক্রি নির্ভর হয়ে পড়েছে। আগে যেমন চিঠির জন্য লাইন থাকতো এখন মাসের শুরুর দিকে সঞ্চয়পত্রের লাভের জন্য গ্রাহকরা এসে লাইন ধরেন। মূলত আধুনিকার ছোঁয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মোবাইল ফোনে যেখানে প্রতি সেকেন্ডেই বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে থাকা স্বজনদের খবরও নেওয়া যাচ্ছে সেখানে দিনের পর দিন মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয় বলে কেউ চিঠির দ্বারস্থ হবেন না সেটাই স্বাভাবিক।’

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

December 2021
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com