যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাস দমনের জন্য সৌদি আরবে কি হামলা চালানো প্রয়োজন?

প্রকাশিত: ১:১১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১

যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাস দমনের জন্য সৌদি আরবে কি হামলা চালানো প্রয়োজন?

এডভোকেট মোঃ আমান উদ্দিন:
যুক্তরাষ্ট্র ও তার সতীর্থদের প্রধান কাজ হচ্ছে মুসলিম দেশগুলোতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। সংখ্যাগরিষ্ট মুসলিম জনগোষ্টীর সমন্বয়ের ৫৭টি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত। ইসলাম ধর্মের অনুসারীর সংখ্যা প্রায় দু’শ কোটি। কিন্তু পরাশক্তিধর রাষ্ট্র সমূহ তাদের আধিপত্য বিস্তারে সবসময় মুসলিম দেশ সমূহকে জঙ্গিঁবাদ, উগ্রবাদ, সন্ত্রাসবাদ ইত্যাদি তকমা দিয়ে মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে। অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্র তৈরি করে থাকে। তাদের প্রধান কাজই হচ্ছে মুসলমানদের মধ্যে অনৈক্য তৈরি।

 

 

স্ব-জাতি হওয়া স্বত্তে¡ও নিজেদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে হাজার হাজার কোটি টাকার অস্ত্র বিক্রি করে থাকে। সে লক্ষ্যকে বাস্তবায়ন করতে তেল সমৃদ্ধ দেশ সমূহ মধ্যপ্রাচ্যকে ।

 

১৯৯০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রিগ্যান ও তার প্রশাসন মুসলমানদের আধ্যাত্মিক পূন্য ভূমি, শান্তির জনপদ, হাসান, হোসেন (রা:) এর স্মৃতি বিজড়িত, হযরত আলী (রা:) ও ইসলামের অনেক খলিফা যে ভূমিতে শায়িত, বিনা উস্কানীতে বিশ্বের অন্যতম তেল সমৃদ্ধ দেশ ইরাকে হামলা চালিয়ে সাদ্দাম প্রশাসনকে নির্মুল করে রাষ্ট্রটি অগ্নিকুন্ডে পরিনত করেছে।

 

 

বিশ্বের মানচিত্রে শান্ত ইরাককে অশান্ত করেছে। পশ্চিমা বিশ্বের মুসলিম বিদ্বেষীরা। শুধু তাই নয়, এর পূর্বেও ইরাক ইরানকে দিয়ে যুদ্ধ করিয়েছে। নেপথ্যে থেকেছে দুই পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন অস্ত্র বিক্রি করছে। কুয়েতকে ইরাক কর্তৃক দখলের দোহাই দিয়ে তাদের সামরিক ঘাটি বসিয়ে নিবিঘেœ অস্ত্র ব্যবসা চালিয়ে আসছে বিনা বাধায়।

 

 

মিশর, সিরিয়া, ইয়েমেন, লিবিয়া, আফগানিস্তান, তাজিকিস্তান, ইরান, পাকিস্তান, তুরষ্ক সহ মুসলিম রাষ্ট্র সমূহে বিবেদ তৈরীর ষড়যন্ত্রই তাদের পররাষ্ট্র নীতির মুল লক্ষ্য। যখন যে সব রাষ্ট্রের সাথে বন্ধুত্বের প্রয়োজন তখন বন্ধু সেজে তাদের রক্ষার জন্য সহযোগীরা তাদের হাত বাড়ায়। সহজ সরল মুসলমান ও তাদের প্রস্তাবে সাড়া দেয়।

 

 

নিকট অতীতে সৌদি আরবে প্রায় বারো হাজার কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির চুক্তি করল ট্রাম্প প্রশাসন। অস্ত্র কি তাদেরই ভাতৃপ্রতিম দেশ ইয়েমেন, কাতার সহ এসব মুসলিম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ব্যবহার করবে? ইসরাইলের সাথে মুসলিম রাষ্ট্র সমূহের ভ্রমনের নিষেধাজ্ঞা ছিল। ট্রাম্প প্রশাসন সে নিষেধাজ্ঞা তুলে দিয়েছে।

 

মুসলমানদের প্রথম কিবলা আল-আকসা মসজিদ জোরপূর্বক ইসরাইল দখল করে রেখেছে। ফিলিস্তিন ও জেরুজালেমের উপর নির্বিচারে ইসরাইল সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তাদের মদদ দিচ্ছে পশ্চিমা বিশ্বের মুসলিম বিদ্বেষীরা। কিন্তু মুসলিম রাষ্ট্র সমূহ “ফিলিস্তিন-জেরুজালেম এবং মুসলমানদের পবিত্র ভূমি মসজিদে আল-আকসার পবিত্র ধর্ম-কর্ম পালনে বাঁধা দিচ্ছে” কেন ইসরাইল, অন্যায়ভাবে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করিতেছে, তার প্রতিবাদ জানাতে ব্যর্থ হচ্ছে মুসলিম রাষ্ট্র সমূহ ?

 

২০০১ সালে নাইন ইলেভেনের সময় ওয়াল্ড ট্রেড সেন্টারে “টুইন টাওয়ারে” হামলা হল। প্রাণ দিল টুইন টাওয়ারের প্রায় সাড়ে তিন হাজার লোক। হামলা ও প্রাণহানী নিশ্চয়ই নিন্দনীয়। আন্তর্জাতিক আদালত আছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র মামলা দায়ের করে নিরপেক্ষ জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠণ করে, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত আসামীদের চিহ্নিত করে, বিচারের মুখোমুখি করা যেত। কিন্তু এসবের তোয়াক্কা না করে, যুক্তরাষ্ট্রের একক সিদ্ধান্তে ওসামা বিন লাদেন, আল কায়দা এবং তালেবানকে অভিযুক্ত করে পশ্চিমা বিশ্বের মুসলিম বিদ্বেষীরা। “বুশ” প্রশাসনের নেতৃত্বে আফগানিস্তানে সন্ত্রাসীদের উৎখাতে মরিয়া হয়ে তাদের কথিত পুতুল সরকার বসিয়ে নির্বিচারে মুসলমানদের হত্যা করল। প্রায় দুই লক্ষ সাত চল্লিশ হাজার সাধারণ মানুষকে। অবশেষে লেজে গোবরে পালিয়ে পশ্চিমারা আত্মরক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে কিন্তু সে দেশে তাদের অনুসারী মুসলমানরা এখন কি করবে? তাদেরকে কি কোন সুরক্ষার ব্যবস্থা করে গেছে? তাদেরকে তো নিশ্চিত বর্তমানে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হতে পারে।

 

আফগানিস্তান! বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্রকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বৃটেন শাসন করেছে। এমনকি ১৭৭৬ সালে বৃটেনের অধীনে থাকা যুক্তরাষ্ট্রকে স্বাধীনতা দিয়ে এসেছে। আফগানিস্থানে বৃটিশ শাসক গোষ্ঠী দখল করতে চেয়েছিল। কিন্তু পারে নি। সম্ভবত সে সময় বৃটিশরা তাদের একটি লাশও ফেরৎ নিতে পারেনি তাদের দেশে। তাদের মৃতদেহ চাপা দেওয়া হয়েছে আফগানিস্তানে। সোভিয়েত ইউনিয়ন পরাজিত হয়েছে। তাদের দেশ খন্ড-বিখন্ড হয়ে এখন শুধু রাশিয়াকে নিয়েই কোন মতে বেচে আছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের অধীনস্ত সকল রাষ্ট্রই স্বাধীনতা লাভ করেছে। এসব পরাজয় থেকে যুক্তরাষ্ট্র কি শিক্ষা নিয়ে নিজের দেশের ঐক্য প্রতিষ্ঠায় মনোনিবেশ করতে পারে।

কেননা প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে নির্বাচিত করতে সে দেশের মুসলমানরা ঐক্যবদ্ধ ভাবে সহযোগীতা করেছে। ৯/১১ এর স্মরন সভায় যোগদানের পূর্বে আয়োজকরা শর্ত দিল, হামলা কারীদের পরিচয় প্রকাশ করতে হবে। তাদের শর্ত মেনে নিয়ে স্মরন সভায় যোগদান করলেন। প্রায় বিশ বছর পর প্রকাশ করলেন। হামলা কারীদের অধিকাংশই সৌদি বংশদ্ভোত । এবার কি সে অযুহাতে মুসলমানদের পুন্য ভুমি সৌদি আরবে আক্রমন আসন্ন ! সাড়ে তিন হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর কারনে শুধু আফগানিস্তানের দুই লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার সাধারন মানুষকে হত্যা করা হল। সে বিচার কে করবে ? তদন্তে যদি সৌদি বংশদ্ভোতরা জড়িত প্রমান হয় ? তাহলে কেন আফগানিস্তানে হামলা চালিয়ে নিরপরাধ সাধারন মানুষকে হত্যা করা হল? সে বিচার কে করবে ? আফগানিস্তানের উচিত তাদের দেশে অযাচিত অনুপ্রবেশ করে নিরীহ মানুষকে হত্যা এবং দেশটিতে বিশৃংখলা তৈরীর জন্য যুক্তরাষ্ট্র সহ তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়ের করে বিচার প্রার্থী হওয়া।

যদিও আন্তর্জাতিক আদালত বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এরপর ও ! ইসরাইলের সন্থাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে যখনই নিন্দা বা অন্য কোন প্রস্তাব উত্থাপন হয়, যুক্তরাষ্ট্র ভেট প্রদান করে। এই হল তাদের শান্তি প্রতিষ্ঠার নমুনা।

লেখক- সভাপতি, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ও কলামিস্ট বিয়ানীবাজার।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com