শিশু কেন নির্যাতনের শিকার? সমাজে উন্নত মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে

প্রকাশিত: ৬:৪৮ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২০

শিশু কেন নির্যাতনের শিকার? সমাজে উন্নত মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে

শিশু রাজনের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় সারা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল। সেই নির্যাতনের বিবরণ শুনে যারা বিচলিত হয়েছে, সহিংসতার বিরুদ্ধে কথা বলেছে, তাদের অনেকের মাধ্যমেও শিশুরা নানা মাত্রায় নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকে।

কোনো ব্যক্তি শিশুদের সঙ্গে কতটা মানবিক আচরণ করবে আর কতটা সহিংস আচরণ করবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে তার মানসিকতার ওপর। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউনিসেফের করা এক জরিপের তথ্য থেকে জানা গেছে, দেশের ১ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের প্রায় ৮৮ দশমিক ৮ শতাংশই তাদের প্রতিপালনকারীদের কাছে সহিংস আচরণের শিকার হয়।

সম্প্রতি প্রকাশিত ওই জরিপের তথ্য থেকে আরও জানা যায়, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও পরিচ্ছন্নতাবিধি, শিক্ষা এবং শিশু সুরক্ষা সম্পর্কিত বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি বিশেষভাবে উৎসাহব্যঞ্জক। উন্নয়নের বিভিন্ন সূচকে অগ্রগতি সত্ত্বেও শিশুদের ওপর সহিংস আচরণের বিষয়টি মেনে নেয়া যায় না।

এসডিজির মূলনীতিতে বিশেষভাবে বলা হয়েছে, ‘কেউ যাতে পিছিয়ে না পড়ে’, তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিতে হবে। সে লক্ষ্য অর্জনের জন্য পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর সার্বিক উন্নয়নে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ দরিদ্র পরিবারের শিশুরাই নির্যাতনের শিকার হয় বেশি। অনেকে শাসনের নামে শিশুদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে থাকে।

দুঃখজনক হল, অনেক নির্যাতনকারী বুঝতেই পারে না, সে শিশুকে নির্যাতন করছে। কারণ এক সময় সেও বড়দের কাছে একইরকম আচরণ পেয়েছে।

গতানুগতিক পদ্ধতিতে শিক্ষা প্রদানের সময় কোনো শিশু কিছুটা অমনোযোগী হলে কোনো কোনো শিক্ষকের মাধ্যমেও তারা নানা মাত্রায় নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকে। দেশে শিশুশ্রম নিষিদ্ধ হলেও বাসাবাড়িতে কাজ করে এমন শিশুর সংখ্যাও কম নয়। এসব শিশুর অনেকের ওপর চলে নানা ধরনের নির্যাতন।

প্রযুক্তির কল্যাণে আগামী দিনগুলোয় সমাজে নানারকম পরিবর্তন আসবে। প্রযুক্তির এসব সুফল থেকে হতদরিদ্র পরিবারের শিশুরাও যাতে বঞ্চিত না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। সহিংস শাসনের শিকার শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

বস্তুত সমাজে উচ্চ নৈতিকতা ও উন্নত মূল্যবোধের চর্চায় গুরুত্ব বাড়ানো না হলে সভ্যতা বিকাশের অনেক সুফল যথাযথভাবে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রেও নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। শিশুর সঙ্গে মানবিক আচরণসহ উন্নত মূল্যবোধের সব সূচকের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com