৫০ হাজার টাকা ঘুষ না দেয়ায় চা শ্রমিকদের তালিকা ফেরৎ

প্রকাশিত: ৭:৪৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২১

৫০ হাজার টাকা ঘুষ না দেয়ায় চা শ্রমিকদের তালিকা ফেরৎ

 

জুড়ী প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার সাগরনাল ইউনিয়নের কাপনাপাহাড় চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি প্রমেশ বাউরী অভিযোগ করেন, চা শ্রমিকের জীবনমানের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিককে ৫ হাজার টাকা করে অনুদান দিচ্ছেন। জুড়ী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রাকেশ পাল কাপনাপাহাড় চা বাগানের ২২৪জন শ্রমিকের আবেদন (২০২০-২১ অর্থ বছর) ফরম জমা নিতে পঞ্চাশ হাজার টাকা দাবি করেন। এই টাকা দিতে অস্বীকার করেন তিনি ফরম গুলো জমা না নিয়ে ফেরৎ দেন।

 

শুক্রবার বিকেল ৪ টায় জুড়ী উপজেলা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

 

তিনি বলেন, নিয়মানুযায়ী পঞ্চায়েতের নির্বাচন হওয়া ও নির্বাচিতরা দায়িত্ব না নেয়া পর্যন্ত আমি পঞ্চায়েত সভাপতির দায়িত্বে আছি। সভাপতি হিসেবে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছি। সর্বশেষ গত রোববারও এক প্রশিক্ষণে ছিলাম। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রাকেশ পাল শ্রমিকদের তালিকা প্রেরণের জন্য গত ১৮ আগস্ট আমাকে চিঠি দেন। চিঠিতে পঞ্চায়েত সভাপতি, বাগান ব্যবস্থাপক ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরে তালিকা দিতে বলা হয়। তাঁর কথা মত অফিস স্টাফ বিদ্যুৎ দাসকে ২ হাজার টাকা দিয়ে ২৩০ টি আবেদন ফরম ক্রয় করে নেই। যথাযথ ভাবে ২২৪ টি ফরম পুরণ করলে বাগান ব্যবস্থাপক ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যন সমাজসেবা কর্মকর্তার আপত্তির কথা বলে ফরমে স্বাক্ষর দেননি।

 

বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) ফরম জমা দেয়ার জন্য নিয়ে গেলে সমাজসেবা কর্মকর্তা রাকেশ পাল ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। আগের দুই বছর ৩০ হাজার টাকা করে নিলেন, এখন ৫০ হাজার কেন? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন ৩০ হাজারে খরচ হয় না। কিন্তু ৫০ হাজার টাকা দিতে রাজী না হওয়ায় তিনি ফরম ফিরিয়ে দেন এবং বাগান ব্যবস্থাপকের যোগসাজসে নতুন তালিকা করাচ্ছেন, যা বাগানবাসী মেনে নেবে না।

 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাগান স্টাফ ও মালিকপক্ষকে নিয়ে কাজ করে শ্রম অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডিএল) এবং শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করে লেবার হাউস। পঞ্চায়েত কমিটি নিয়ে ডিডিএল নাক গলানোর অধিকার নেই।

 

জানতে চাইলে কাপনাপাহাড় চা বাগান ব্যবস্থাপক মো. কামরুল হাসান বলেন, গঠনতন্ত্র মোতাবেক বাগান থেকে অবসর নিলে কেহ আর পঞ্চায়েতের সভাপতি থাকতে পারে না। সে হিসাবে প্রমেশ বাউরী আর দায়িত্বে নেই।

 

জুড়ী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রাকেশ পাল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গঠনতন্ত্রের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। বাগান কর্তৃপক্ষ ডিডিএল-এর পত্র দেয়ার পর প্রমেশ বাউরীর আবেদন গুলো নেয়া হয়নি। তাছাড়া টাকা চাওয়ার বিষয়টি তিনি প্রমাণ করতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com