রাষ্ট্রের চরিত্র কি হওয়া উচিত ?

প্রকাশিত: ৪:০২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২১

রাষ্ট্রের চরিত্র কি হওয়া উচিত ?

এডভোকেট মো: আমান উদ্দিন:
প্রবাদ আছে ‘‘সদা সত্য কথা বলিব, কখনও মিথ্যা কথা বলিব না’’। রাষ্ট্র তো আর কথা বলবে না। সমমনা জনগোষ্ঠির সমন্বয়ে বা প্রচেষ্ঠায় ভৌগলিক রূপ রেখার ইচ্ছায় রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রের মালিক কিন্তু জনগণ। জনগণের ইচ্ছায় তার নির্বাচিত সতীর্থের দ্বারা রাষ্ট্র ব্যবস্থা পরিচালিত হয়ে থাকে। রাষ্ট্র বা সরকার কি পদ্ধতির হবে তা কিন্তু নির্ধারণ করে থাকে জনগন।

 

 

তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে বাংলাদেশে সংসদীয় শাসন পদ্ধতি প্রচলিত। সংসদ দ্বারা আবার শাসন ব্যবস্থাকে সুষ্ঠভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য ৩টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

 

 

 

যেমনঃ আইন বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগ। আইন বিভাগ দেশের জনগণের চাহিদার আলোকে যোগ্য জনপ্রতিনিধিরা সময় উপযোগী আইন প্রণয়ন করবে। এ গুরু দায়িত্ব পালন করতে হলে ড. কামাল হোসেন, ব্যারিষ্টার রফিকুল হক, ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদ, বাবু সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, এডভোকেট সালা উদ্দিন কাদের চৌধুরী প্রাজ্ঞ রাজনীতিবীদ সিরাজুল আলম খান, ড. শাহদীন মালিক, আব্দুল মালিক উকিল, মিজানুর রহমান চৌধুরী প্রমুখদের মত লোক জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হতে পারলে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য নিশ্চিত ভাল আইন প্রণয়ন হতে বাধ্য।

 

 

বর্তমান সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় অনুবিক্ষণ যন্ত্র বা বাইনো কোলার লাগিয়ে একজনও তাদের মত পাওয়া দুষ্কর। হালের সংসদকে অনেকে হাসি টাট্টা করে বলে থাকেন, রাবার স্ট্যাম্প বা ইয়েস কার্ড বলার জন্য বিশেষ ভাবে নিযোগপ্রাপ্ত। কর্তা যিনি হউন না কেন, তিনি যা বলবেন তা-ই আইন। পিছন থেকে টেবিল চাপড়িয়ে কে কার আগে কর্তাকে খুশী করবেন সেটাই তাদের মূখ্য কাজ। সুতরাং এদিকে গিয়ে কথা বাড়াব না।

 

 

 

নির্বাহী বিভাগ মূলত আমলাদের সমন্বয়ে জনগণকে শাসন এবং শোষন করাই তাদের প্রধান দায়িত্ব। প্রচার মাধ্যম তাদের নিয়ন্ত্রণে। সেই সুবাধে জনগণ তাদের অতি কথন শুনে থাকে। বিচক্ষণ তোষামোদকারীরা নীতি বাক্যগুলি হর হামেশা শুনিয়ে জনগনকে আশ্বস্ত করতে চায়, ‘‘আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।’’ এখানে নির্বাহী বিভাগের কিছু করার নেই। বুকা জনগণ ! তাদের কথা কি সুস্থ বিবেক সম্পন্ন লোক ১% বিশ্বাস করে ? তারা কি এক বার ও ভেবে দেখেছেন ? না, বরং তাদের ক্ষমতার দাম্ভিকথাকে বিভিন্ন ভাষায় কাটাক্ক করে জনগণ। কিন্তু হালের রাজনীতিতে বিবেক সম্পন্ন মানুষেরা প্রতিবন্ধী হয়ে যাচ্ছে। কারণ সরকার বাহাদুর তাদের ক্ষমতার স্বাদকে পাকাপোক্ত করতে, জনগণের কন্ঠরোধ করার জন্য তাদের কায়েমী স্বার্থ হাছিলের জন্য ‘‘ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্ট’’ উপহার স্বরূপ সরকার বাহাদুর জনগণকে নির্ধারন করে দিয়েছেন।

 

 

 

এমন কিছু করবেন বা লিখবেন না, যাতে এই কঠিন আইনের মুখোমুখী হতে হয়। মুখ বধির মত বসে থাকা ও দেখা বিজ্ঞজনের কাজ। সরকার চাইলো আর আপনি মেনে নিলেন তা মোঠেও কাম্য নহে। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম সকল অন্যায় অভিচারের বিরুদ্ধে কিভাবে রুখে দাড়াতে হবে তা কিন্তু দেখিয়ে দিয়েছেন। ‘‘অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে তব ঘৃনা তব সমদহ’’। বিবেক সম্পুর্ন মানুষের অনেক দায়বদ্ধতা আছে। উত্তর কোরিয়ার এক নায়ক শাসকের নির্দেশ, ‘‘কাহারো পিতা-মাতা মৃতুব্যরণ করলে ‘‘কাঁদতে হবে তাঁর পিতাকে স্মরণ করে। সেটা কি মেনে নেওয়া যায় পবিত্র বাংলাদেশে ? না, কিছুতেই না।

 

 

 

বিচার বিভাগ সাধারণ জনগণের শেষ আশ্রয়স্থল। বিচারপতিরা বিভিন্ন মতাদর্শে বিশ্বাসী হতেই পারেন। এটা তো দুষের কিছু নেই। যখন রাষ্ট্রের বিচারপতি হিসাবে শপথ গ্রহণ করবেন এবং তাদের কার্যক্রম মূল্যায়নের জন্য বিচারপতির পিছনে প্রতিকী দাড়ি পাল্লা বা নিক্তি লাগানো আছে। যাতে বিচারের হেরফের না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা বা শপথ ভংগ না করা। বর্তমানে বিচারপতিরা কি সিকি ভাগ শপথ মেনে বিচার কার্র্য পরিচালনা করিতেছেন। না, মুঠেও না। বিশেষ জায়গা থেকে যেভাবে নোট যাবে (লিখিত অথবা মৌখিক) সে আলোকে রায় প্রদান হবে। অনেকে বর্তমানে বিচার বিভাগকে ক্যাঙ্গারো কোর্টের সাথে তুলনা করে থাকেন।

 

 

 

সদ্য হাইকোর্টের দুই বিচারপতি উষ্মা প্রকাশ করেছেন নি¤œ আদালতের প্রতি এবং কৈফিয়ত তলব করেছেন বিচারপতিদের কেন “পরিমনি’’ কে অহেতুক রিমান্ড বা জামিন প্রাপ্তিতে বিলম্ব হচ্ছে ? “পরিমনি’’ হয়ত সুন্দরী সে জন্য তাদের দৃষ্টি আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে। “পরিমনির’’ রুপের পাগলে মাতোয়াল এদেশের…………?

 

 

 

শপথের দিকে খেয়াল করে উচ্চ আদালতে বিচারপতিরা স্যূয়োমূটো বা স্বপ্রনোদিত হয়ে রুল ইস্যু করে হাজারও মানুষ অন্যায়ভাবে জেল ঝুলুমের শিকার হয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন সেদিকে কি তাদের নজর দেয়ার প্রয়োজন নেই ? কৈ, বিচারপতিরা দৃশ্যমান কোন প্রদক্ষেপ নেননি। প্রদক্ষেপ নিলে চাকুরী চলে যাবে। তবে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, ক্ষমতার মেয়াদ ৬০ বছর পূর্ণ হলেই যে ব্যাংক থেকে আপনাদের মাইনে উত্তোলণ করা হয়, তা কিন্তু বন্ধ হয়ে যাবে। ক্ষমতায় থাকাকালীন যে যত অন্যায় করবে অবিচারে সহযোগিতা করবে, তার দায়ভার অনন্তকাল বহন করতে হবে। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার জন্য।

 

 

 

যেমন: সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা, যে সব অন্যায় অবিচারের সহযোগীতা করেছিলেন, তাঁর জীবদ্দশায় বিচার শুরু হয়ে গেছে এবং দেশে দেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। বিচার বিভাগের বিভিন্ন অপর্কমের ফিরিস্তি দিচ্ছেন। এখন দিয়ে লাভ কি? শপথ গ্রহণের পর স্বাধীন ভাবে রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করে দায়িত্ব পালন করতেন তাহলে রাষ্ট্র তথা জনগণ আপনাকে মূল্যায়ন করত।

 

এস.কে সিনহা কিন্তু আমার স্যার। সদ্য নির্বাচন হয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্রে। ট্রাম্প প্রশাসন বিচার বিভাগ এবং স্বশস্ত্র বাহিনীকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় থাকার জন্য বিভিন্ন ছল চাতুরীর আশ্রয় নিল। কোন ছলচাতুরীকে তারা পাত্তা দেয় নি। তাহারা সাফ জানিয়ে দিল ‘‘সংবিধান কে সমুন্নত রাখা আমাদের দায়িত্ব’’। সেটাই আমাদের শপথ।

 

 

 

যুক্তরাষ্ট্রকে নির্ঘাত সংঘাতের হাত থেকে তাহারা বাঁচিয়েছেন। সে জন্য তারা ইতিহাস হয়ে বেঁচে থাকবেন। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় সংবিধান অনুযায়ী নির্দিষ্ট সমেয় ভোট হবে এবং অতীত সরকারের ভালো মন্দ কজের যাচাই করে ভোটারা ভোট দিবে এটাই স্বাভাবিক। বেগম জিয়া এতিমের ২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন, তারেক জিয়া দেশ লুটপাট করেছেন, কোর্ট বিচার করেছে, সাজা দিয়েছে। কতিথ কোর্ট তারেক জিয়াকে যখন নির্দোষ ঘোষণা করলো তখন বিচারপতিকে দেশ থেকে পালাতে বাধ্য করা হলো।

 

 

 

এটাই কি বিচারের নমুনা ? জামিনের জন্য জন্য আইনজীবীরা সব ধরনের আইনি যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। কিন্তু ফল কিছুই পাননি। শেষ পর্যন্ত নির্বাহী বিভাগের নির্দেশ শর্তসাপেক্ষে এক ধরনের গৃহবন্দী অবস্থায় জামিনে আছেন। সেটা কি বিচার? ২০০৯ সালের নির্বাচনে বেগম জিয়ার দলকে প্রতাখ্যান করল সাধারণ জনগণ। যদিও এ নির্বাচন নিয়ে নানা কু-তর্ক আছে। তাদের দুর্নীতির মাত্রা ছিল ১ কোটি বা ২ কোটি ইত্যাদি। কিন্তু এখনকার দুর্নীতির মাত্রা হাজার হাজার কোটির নীচে কষ্ঠি পাথর দিয়ে যাচাই করলে পাবেন না।

 

 

 

যেমন: ওসি প্রদীপ, ডিআইজি মিজান, ডিআইজি জনৈক গুপ্ত (প্রিজন), ওসি মোয়াজ্জেম, সদ্য গুলশান থানায় পরিদর্শকসহ এসব চুনাপুঠির দুর্নীতি যদি হাজার হাজার কোটি টাকা হয়, তাহলে তাদের নিয়োগ কর্তাদের দুর্নীতির পরিমাণ কতো হবে তা একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন। কতিথ ওসি প্রদীপ কত আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীকে জামায়াত, বিএনপির কর্মী সাজিয়ে অন্যায় ভাবে হত্যা করেছে। বাবুল আক্তার (এস.পি) কত মায়ের বুক খালি করেছে। এস.পি হারুনের দেশে বিদেশে যে কত হাজার কোটি টাকার মালিক তা সে নিজেও জানে না। ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী বিধায়, নিশ্চিত করে বলতে পারি আমার ডানে এবং বামে দুইজন ফেরেশতা আছেন। সকল কার্যক্রমের সার্বক্ষণিক মনিটরিং করে থাকেন ফেরেশতারা। যতই অপকর্ম করিনা কেন গোপনে, আবদালে এই দুইজন ফেরেশতাই মহান রবের কাছে হিসাব দিয়ে থাকেন, এবং জীবদ্দশায়ই এসব বিচার হবে তিলে তিলে। তবে বুঝার যোগ্যতা থাকতে হবে। তখন আপসুস করে বলবেন, ‘যে ভূলে তোমারে ভূলে হীরা ফেলে কাঁচ তুলে ভিখারী সেজেছি আমি, আমার সে ভুল প্রভূ তুমি ভেঙ্গে দাও’। তখন কিন্তু আপনার সময় শেষ, কোন আকুতিই কাজে আসবে না।

 

 

 

রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি সহ তাদের কর্মের সাংগপাংগ ও সাধারণ জনগণসহ সকলের বিচার একই কোর্টে হবে। সে কোর্টে সাধারণ জনগণ mercy পাবে, কিন্তু ক্ষমতাধর ব্যক্তিবর্গের অপকের্মর জন্য আল্লাহ প্রদত্ত সেই কোর্টে কোন mercy নেই। একটি উদাহরণ দিয়ে শেষ করতে চাই, আমার জানামতে এইচ.টি.ইমাম অত্যন্ত দুরন্ত ক্ষমতাধর ব্যক্তি ছিলেন কিন্তু মারা গেলেন, কয়জন লোকই বা জানে। অপর দিকে শাহ আহমদ শফি, জুনায়েদ বাবুনগরী পরলোকগমন করলেন। লক্ষ লক্ষ মানুষ অনুতপ্ত হল, আল্লাহর দরবারে তাদের অনুসারীরা কান্নাকাটি করিয়া দুনিয়ার জমিনে হুজুরদের জন্য অনুসুচনা করিতেছে এবং জান্নাতুল ফেরদাউসের দাবী করিতেছেন। কারণ তারা ছিলেন দ্বীদার পরেজগার তাদের অর্জিত সম্পদ ছিল। এসব দ্বীনদার পরেজগার মুত্তাকিদের শিক্ষা দিয়ে রেখেগেছেন, এটাই দুনিয়ার নিদর্শন। প্রশ্ন থেকেই যায় “পরিমনিদের”গুরুত্ব তাদের যৌবনকাল পর্যন্তÍ কিন্তু মামুনুল হক, মুফতি ফজলুল হক আমিনি, আমির হামজা, আবু ত্ব-হা, দেলোয়ার হোসেন সাঈদী এদের অবস্থান প্রতিটা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে চিরজাগ্রত থাকবে। এখানে কি বিচারপতিরা স্যুয়োমুটো রুল জারি করে জামিনের ব্যবস্থা করতে পারে না। চাইলে পারে। জামিন প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার।

লেখক: সভাপতি, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বিয়ানীবাজার ও কলামিষ্ট।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com