হুমায়ুন আজাদ : এক শক্তির ফোয়ারা

প্রকাশিত: ৯:৩৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০২১

হুমায়ুন আজাদ : এক শক্তির ফোয়ারা

 

আনিফ রুবেদ:

জগৎ এক জমাট অন্ধকার ধারণ করে আছে অথবা জগৎই অন্ধকার। এ অন্ধকারের ভেতর মানুষ ঘুরে ঘুরে হয়রান। বেশিরভাগক্ষেত্রেই মানুষ এ অন্ধকারের অস্তিত্ব অনুভব করতে পারে না। প্রায় সকল মানুষই জীবনের ভেতর ঢুকে আর বের হয়ে চলে যায়। কিছু লোক এ অন্ধকারের অস্তিত্ব টের পান, অবাক হন, ব্যথা পান কিন্তু বুঝতে পারেন না, কী করা যেতে পারে? কিছু লোক আছে যারা অন্ধকারের অস্তিত্ব টের পান, ব্যথা পান, কী করতে হবে তা বুঝতে পারেন কিন্তু সাহসের অভাবে নিজের চিন্তাটা প্রকাশ করতে পারেন না বা এমনভাবে করেন যাতে দুকূল রক্ষা হয়। কিন্তু কিছু লোক আছে যারা সাহস করে সরানোর উপায় বলেন এবং সাহসের সাথে অন্ধকার দূর করার কাজে হাত দেন। কথাটা বলা সহজ হলো কিন্তু কাজটা সম্পন্ন করা সহজ নয় মোটেও।

 

মানুষকে মানুষ হয়ে ওঠার জন্য এবং মানুষ হিসেবে জগতের কল্যাণের জন্য কাজ চালিয়ে নেবার জন্য শক্তির প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে ইত্যাদি শক্তির সাথে প্রয়োজন মেধাশক্তির যা কোনো নির্দিষ্ট কাজ করার নৈপুণ্য দান করে আর সেই শক্তি যে শক্তি নির্দিষ্ট কাজে আত্মনিয়োগ করতে যা যা বাধা দেয় সেসব বাধাকে উৎরে যেতে সাহায্য করে।

 

আমাদের দেশের মানুষের মেধাশক্তি আছে, এর সংখ্যাটা খুব বেশি না হলেও একেবারে কম হবে না। কিন্তু সেই মেধাশক্তিকে কাজে লাগানোর জন্য আত্মনিয়োগ করতে যে শক্তির দরকার সে শক্তির বড়ো অভাব। আসলে এতটা শক্তির মালিক হওয়া সহজ ব্যাপার না। এদেশে পরিবার থেকে শুরু করে সমাজ, রাষ্ট্র কেউই কোনো ধরনের নতুন চিন্তার সাথে পরিচিত হতে তো চায়ই না বরং নতুন চিন্তার মানুষকে কিভাবে তার চিন্তা থেকে এবং চিন্তা মোতাবেক কাজ করা থেকে বিরত রাখা যায় তার জন্য নিয়োজন করে দেয় তাদের সমস্ত শক্তি। এখানের পরিবারগুলো চিন্তাই করতে পারে না, তাদের পরিবারের কেউ একজন কবি, কেউ একজন বিজ্ঞানী, কেউ একজন সমাজ সংস্কারক হতে পারে। সমাজ আর রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও ওই একই কথা। তাদের সন্তানের জন্য তাদের ভাবনাটা হলো, কোনোরকমে কিছু কিছু আয় করবে, বিয়ে করবে, সন্তান করবে, ধর্মালয়ে মাঝে মাঝে যাবে ধর্মকর্ম করবে। আর সবচে বড়ো ভাবনাটা হলো, ভালোভাবে স্কুল-কলেজ পাশ করে বড়ো একটা চাকরি করা। এদেশের পরিবারগুলো একজন কবির চেয়ে একজন আমলাকে নিয়ে বেশি গৌরববোধ করে, একজন ভদ্রলোকের চেয়ে গুন্ডাবাটপারের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বেশি। তাহলে এখানে নতুন সাহিত্য হবে কিভাবে, নতুন আবিষ্কার হবে কিভাবে, এখানে বই পাঠ হবে কিভাবে? আর এগুলো না হলে সুন্দর মানুষও পাব না, সুন্দর গতিও পাব না।

 

একজন হুমায়ুন আজাদকে বলতে হচ্ছে, ‘শক্তির ফোয়ারা’ অথচ একটা দেশের জন্য হাজার হাজার এমন ‘শক্তির ফোয়ারা’ দরকার। এঁরা সমাজের, রাষ্ট্রের মন ও মানস বিধ্বংসী বিষয়গুলো দেখিয়ে দেবেন সুচিন্তা দিয়ে এবং জোর কণ্ঠে। কিন্তু এমনটা হয়ে উঠতে পারছে না আমাদের দেশে। উচ্চস্বরে প্রকৃত উচ্চারণ করার লোক এমনিতেই কম, তবু যদি কেউ বলার উদ্যোগ করে তবে তাকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে চুপ করিয়ে দেওয়া হয়, এমনকি খুন করে ফেলতেও দ্বিধা করে না প্রতিক্রিয়াশীল শেয়ালেরা।
আমার এ লেখার উদ্দেশ্য কিন্তু হুমায়ুন আজাদের সাহিত্যের সৌন্দর্য বর্ণনা করার জন্য নয়। বরং এ লেখা তাঁর অন্তঃরিস্থ ভাবনা আর ভাবনাশক্তি আর ভাবনাশক্তিকে প্রকাশ করার শক্তির প্রতি দৃষ্টিক্ষেপ করার জন্য।

 

হুমায়ুন আজাদ বহুমুখি কাজ করেছেন। প্রতিটাতেই তার ভেতরের শক্তির প্রকাশ দেখা যায়। কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, সমালোচনা, সম্পাদনা, শিশু-কিশোর সাহিত্য, ভাষাবিজ্ঞান। একইসাথে টেলিভিশন এবং বিভিন্ন পত্রপত্রিকাতে তাঁর সাক্ষাৎকার এবং সমসাময়িক বা পূর্ববর্তী বিষয়আশয় নিয়ে তাঁর নিজস্ব চিন্তার নিরেট রূপও প্রকাশ হয়েছে অনেক সময়। বাংলাদেশ রাষ্ট্র, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের নীতি, নেতা আর আমলাদের নীতি, চলিত বহু ধারার কুসংস্কার, গুন্ডামি, ভন্ডামি প্রভৃতি সম্পর্কে তাঁর ভাষ্যধারা ছিলো স্পষ্ট আর অনলবর্ষী। এগুলো সহ্য করা ছিলো প্রতিক্রিয়াশীলদের খুব কঠিন। অথচ এগুলো সহ্য করার বিষয় ছিলো না বরং এগুলো থেকে সরে আসার আহ্বান ছিলো। কিন্তু অসুরেরা তাদের কুনীতি, কুকর্ম থেকে সরে তো আসেইনি উল্টো ধরে ফেলেছে তাঁরই গলা চেপে।

 

ভাষাবিজ্ঞান নিয়ে কাজই হুমায়ুন আজাদের প্রধান এবং সবচে গভীর কাজ। বাংলাভাষা নিয়ে তাঁর কাজ করার ছিলো আরো অনেক বেশি। তিনি বিভিন্ন সময়ে ভাষাবিজ্ঞান নিয়ে আরো কি কি কাজ করতে চান তার কিছু কিছু পরিকল্পনার কথাও বলেছিলেন কোনো কোনো সময় কিন্তু সেগুলো বাস্তবায়িত করতে পারেননি। প্রতিক্রিয়াশীলদের মূর্খতা মাখা নখর রক্তের ফিনকি ছুটিয়ে দিয়েছে তাঁর।

 

ভাষাবিজ্ঞানের যে রসমাধুরী তার হাত দিয়ে আমরা পাচ্ছিলাম এবং আরো পেতে যাচ্ছিলাম তার জন্য তাকে ধন্যবাদ দেইনি। ধন্যবাদ দেবো কী! মূল্যই বুঝতে পারিনি। বরং আমরা আমাদের কুঅভ্যাস নিয়ে থেকেছি, কুসংস্কার নিয়ে থেকেছি। অনাদরে থেকে গেছে তাঁর ভাষাভিত্তিক আট নটা মূল্যবান বই।

 

বিস্মিত হই এই কারণে যে, যে দেশের অন্ধকার আর অন্ধত্বের সীমাপরিসীমা নাই বলে তিনি মনে করতেন সেই দেশের মানুষকে নিয়েও তিনি স্বপ্ন দেখেছেন। এ স্বপ্নটা ছিলো তার একেবারে ভেতরের। তিনি রবীন্দ্রনাথের সেই কথাটার সাথে মিলিয়ে বলতেন, মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ কিন্তু বাঙালিতে বিশ্বাস করা বিপজ্জনক (বাক্যটি হুবহু এমন না হলেও ভাবটা এমন বা এমনটা আমি বুঝেছি)। কিন্তু ‘পাকসার জমিন সাদ বাদ’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র এক মৌলবাদী আলহাজ করিম আলী ইছলামপুরী, যে শত শত হিন্দুর বাড়িতে আগুন দিয়েছে, সে এবং তার সাথিরা মিলে অজস্র হিন্দুনারীকে ধর্ষণ করেছে তাকেই একেবারে শেষে প্রেমিকরূপে দেখতে পাওয়া যায়। এটা মূলত তাঁর আশাবাদই, ধর্মীয় সহিংসতা নয় বরং প্রেমবিকতা এবং মানবিকতারই জয় হবে। সকলেই একদিন প্রেমিক হবে, মানবিক হবে। একটু গভীরভাবে খেয়াল করলে অন্যান্য উপন্যাস এবং কবিতাতেও একই বোধ আবিষ্কার করা সম্ভব হবে।

 

কবিতা, গল্প, উপন্যাস রচনার জন্য যে শক্তির দরকার পড়ে সে শক্তি নিয়েও কিন্তু এ লেখাটা নয়। রচনার জন্য যে শক্তির প্রয়োজন হয় তা দুর্লভ এতে কোনো সন্দেহ নাই কিন্তু তাঁর অন্য যে আরেক শক্তির কথা বলছি, সেটা দুর্লভতর। আমাদের দেশের অনেক সাহিত্যিক, দার্শনিক, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, ভাষ্যকারকে রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি করতে দেখা যায়। এই লেজুড়বৃত্তি করতে হয় দুটো কারণে, তার প্রথম কারণটা নিজের ব্যক্তিত্বহীনতা, এদের নিয়ে কোনো কথা নাই। অপর কারণটি হচ্ছে অসহায়ত্ব, রাজনীতিকদের চাপ সামাল দিতে না পারা। ঐ যে প্রথম দিকে বলার চেষ্টা করছিলাম, সৃষ্টিশক্তির পাশাপাশি বাইরের চাপ সামাল দেবার শক্তির কথা সেই শক্তির অভাব। আমাদের পরিবার চাপ দেয় নতুন কিছু না বলতে না করতে, আমাদের সমাজ চাপ দেয়, আর সবার মতো সনাতন পদ্ধতিতে থাকতে, আমাদের রাষ্ট্রপ্রধানরা চাপ দেয়, তাদের পক্ষে থাকতে। আমাদের ধর্মগুলো হাজার হাজার বছর আগের ধ্যানধারণার কাছে মাথা নত করে থাকতে পরামর্শ দেয়, পরামর্শ না মানলে ঘাড় ধরে মাথাকে নেতিয়ে দেয়। এতগুলো চাপ কাটানো চাট্টিখানি কথা নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব চাপ কাটাতে গিয়ে প্রধান মেধাটা বা সৃষ্টিকারী মেধাটা চকের মতো ক্ষয় হয়ে যায়, গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে ছড়িয়ে পড়ে এসব ক্ষমতাধর ব্যক্তির পায়ের কাছে, প্রতিষ্ঠানগুলোর পাষাণবেদীর কাছে। এজন্য এদেশে সাহিত্যিক, বিজ্ঞানী, দার্শনিক, সংস্কারক হলে তাকে ইউরোপ আমেরিকার নাগরিকদের তুলনায় দুশোগুণ চারশগুণ বেশি শক্তিশালী হতে হয়। যেমনভাবে পাথুরে জমিতে একটা গাছকে শুধু বেঁচে থাকতে যে শক্তি লাগে উর্বর জমিতে সেই গাছকে বড়ো হতে এবং ফল দিতে তার তুলনায় একভাগ শক্তিও লাগে না।

 

হুমায়ুন আজাদের ভাষাবিজ্ঞান নিয়ে কাজকে, উপন্যাস বা কবিতাকে তেমন আমলে নিল না এদেশের মানুষ এবং প্রতিক্রিয়াশীলরা। মাত্র দুতিনটা জিনিসকে আমলে নিল। সেগুলো হলো, ‘পাকসার জমিন সাদ বাদ’ উপন্যাসকে, ‘প্রবচনগুচ্ছ’কে, বিভিন্ন টেলিভিশন আর পত্রপত্রিকাতে প্রকাশিত বক্তব্যগুলোকে।

 

তবে এগুলো সাধারণ কোনো ভাষ্য ছিলো না। এসকল ভাষ্যে ব্যবহৃত প্রতিটা ভাবস্বর, শব্দস্বর, বাক্যস্বর ছিলো বিদ্যুতের মতো উজ্জ্বল, তীক্ষ্ন আর গতিশীল। এগুলো কুসংস্কার, দুর্নীতি, অশিক্ষা কুশিক্ষা, নেতা আমলাদের অযোগ্যতা, লোভলালসা আর প্রতিক্রিয়াশীলদের চরিত্রের ওপর, ক্রিয়ার উপর প্রবল আলো ফেলত, প্রবল চাবুক কষে দিতো। এবং এগুলো উচ্চারণে কোনো ধরনের জড়তা ছিলো না তাঁর। কোনো ভয় ছিলো না তাঁর। কিন্তু এত ভয়হীন মানুষ সমাজ রাষ্ট্র পছন্দ করে না, প্রতিক্রিয়াশীলরা পছন্দ করে না। ফলে তাঁর ওপর নেমে আসে মরণ আঘাত।

 

যদিও তিনি জানতেন তাঁর মাথার ওপর সবসময় তীক্ষ্নধার একটা খড়গ ঝুলছে। এই নির্ভীকতা ছিলো তাঁর এক শক্তি। এ শক্তি অল্পতর লোকেরই থাকে। এজন্যই তিনি শক্তির ফোয়ারা। এমন শক্তির ফোয়ারা বছর বছর পয়দা হয় না। বহু যুগে একটা দুটো মিলে মাত্র। এ শক্তি আমরা দেখেছি রামমোহনে, বিদ্যাসাগরে, নজরুলে। আর সর্বশেষ হুমায়ুন আজাদে।

 

রাজনীতিকরা তাঁকে পছন্দ করতেন না। কারণ, তাদের ত্রুটিগুলো বজ্রনির্ঘোষে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিলেন। আমলারা তাঁকে পছন্দ করতেন না। কারণ, তারা একটা গরুর রচনাও শুদ্ধভাবে লিখতে পারবে না বলে তিনি মন্তব্য করেছিলেন। ধর্মীয় প্রতিক্রিয়করা চাইছিলো তাকে মেরে ফেলতে। কারণ, তাদের ব্যবসাটা যে মানুষের জন্য ক্ষতিকর এবং মানবিকতা থেকে সরিয়ে ফেলে সে কথা তিনি বলেছিলেন অকুতোভয় কণ্ঠে। তাঁকে আঘাত করা হলো মারাত্মক বর্বরভাবে। অথচ তিনি যা বলেছিলেন তা মিথ্যে ছিলো না।

 

হুমায়ুন আজাদের নারী, প্রবচনগুচ্ছ, সীমাবদ্ধতার সূত্র, আমার অবিশ্বাস, পাকসার জমিন সাদ বাদ বইগুলোর তেজ ছিলো সকল পচাকে, পুরাতনকে পুড়িয়ে ফেলার মতো। মূলত এই বইগুলোর পর থেকেই তিনি প্রতিক্রিয়াশীলদের টার্গেটে পরিণত হন। প্রতিক্রিয়াশীলরা তাদের শানিত ছুরির ঘায়ে ‘হুমায়ুন আজাদ’ নামটি লিখে নিয়ে ঘুরতে থাকে, সুযোগ খুঁজতে থাকে।

 

পাকসার জমিন সাদ বাদ উপন্যাসটি বের হবার পর সেইসব সাপ একেবারে মরিয়া হয়ে ওঠে তাঁকে মেরে ফেলার জন্য। এবং সুযোগও পেয়ে যায়। ২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি বইমেলা থেকে ফেরার পথে তার ওপর আক্রমণ চালায় নষ্টরা। তাঁকে রক্তাক্ত করে দেয়। বেশ কয়েকদিন তাঁর জ্ঞান ফেরেনি। কিন্তু তিনি ঠিকই ফিরে এসেছিলেন তাঁর প্রাণের শক্তিতে।

 

এরপর তিনি জার্মানিতে পাড়ি জমান। কিন্তু সেই আঘাত হয়তো তখনও তাঁর ভেতর চোরা ছোরার মতো কাজ করে যাচ্ছিল। তিনি ২০০৪ সালের ১১ আগস্ট একটা অনুষ্ঠান থেকে হোটেলে ফেরেন। রাতে কোনো একসময় আকস্মিক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন, ১২ আগস্ট তাঁর মৃতদেহ হোটেলকক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়।

 

এ কথা ঠিক যে তিনি আর জগতে নাই, তাঁকে জগৎ থেকে সরিয়ে ফেলার জন্য প্রতিক্রিয়াশীলদের চেষ্টা সফল হয়েছে কিন্তু তার চেয়ে বড়ো সত্য যে তিনি ছিলেন একটা দুর্লভ শক্তির ফোয়ারা, সেই ফোয়ারা থেকে যে জল দান করে গেছেন তা টিকে থাকবে যুগের পর যুগ।

 

হুমায়ুন আজাদ নামক শক্তিফোয়ারার প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com