প্রকাশনার ১৫ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
৭ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

হাসপাতালে ভর্তি কবি হেলাল হাফিজ

admin
প্রকাশিত
হাসপাতালে ভর্তি কবি হেলাল হাফিজ

 

প্রজন্ম ডেস্ক:

‘এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়’- কালজয়ী এই কবিতার জনক হেলাল হাফিজ। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন তিনি। ডায়াবেটিস, নিউরোলজিক্যাল ও কিডনিজনিত সমস্যায় ভুগছেন কবি হেলাল হাফিজ। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিঃসঙ্গতাও ভর করছে কবির জীবনে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় কবি হেলাল হাফিজ এখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেবিন ব্লকে ৬০৩নং কেবিনে ভর্তি আছেন।

কবির ৭৪তম জন্মদিনে ঢাকাপ্রকাশ থেকে শুভেচ্ছা জানাতে গেলে আবেগআপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। নানা শারীরিক জটিলতার কারণে অনেকটাই ভেঙে পড়েছেন তিনি। কথা বলতে গেলে চোখ ভিজে আসে কবি হেলাল হাফিজের। হাত-পায়ে পানি জমায় হাঁটতেও বেশ সমস্যা হচ্ছে তার।

কবি হেলাল হাফিজের জন্ম ১৯৪৮ সালের ৭ অক্টোবর নেত্রকোনায়। তার প্রথম কবিতার বই ‘যে জলে আগুন জ্বলে’ ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয়। বইটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে জ্বলে উঠে কবি হেলাল হাফিজের নাম। বইটি সর্বত্র আলোড়ন সৃষ্টি করে।

হেলাল হাফিজ বাংলাদেশের একজন আধুনিক কবি যিনি স্বল্পপ্রজ হলেও বিংশ শতাব্দীর শেষাংশে বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। বাংলাদেশের কবিতামোদী ও সাধারণ পাঠকের মুখে মুখে উচ্চারিত তার অন্যতম জনপ্রিয় কবিতা ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’। হেলাল হাফিজ তার প্রথম কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে যে আলোড়ন তুলতে পেরেছেন তা এখনো ইতিহাস হয়ে আছে। তার ‘যে জলে আগুন জ্বলে’ কাব্যগ্রন্থটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ২০টিরও বেশি সংস্করণ হয়েছে। যা এর আগে বাংলাদেশের কোনো কবিতার বইয়ের বেলায় ঘটেনি। প্রেম ও দ্রোহের কবি হেলাল হাফিজ।

হেলাল হাফিজ সারা জীবনই কবিজীবন যাপন করে গেছেন। কবিতার যন্ত্রণাকে বুকে ধারণ করে চিরকুমারের জীবনে থেকেছেন। ব্যক্তি জীবনকে বৈষয়িকতা থেকে দূরে রেখেছেন। কবিতাকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে ভালোবেসেছেন। কোনো খ্যাতির পেছনে তিনি ছোটেননি, ছোটেননি কোনো প্রাপ্তির পেছনেও। কিন্তু তিনি সবই পেয়েছেন।

জীবনকে এমনভাবে ছড়িয়ে দিয়ে কুঁড়িয়ে আনা কতটা কষ্টের তা আমরা হেলাল হাফিজের কবিতা পড়লেই বুঝতে পারি। তিনি লিখেছেন-

‘কে আছেন?
করে আকাশকে একটু বলেন-
সে সামান্য উপরে উঠুক,
আমি দাঁড়াতে পারছি না।’
অথবা
‘বেদনাকে বলেছি কেঁদো না’
কিংবা
এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়। এ কবিতা আজও কত শত মিছিলের স্লোগান।

সংবাদটি শেয়ার করুন।