প্রকাশনার ১৫ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২৪শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
১০ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
১৮ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

সুপার ফাইভেই মেয়াদ পার যুবদলের!

admin
প্রকাশিত
সুপার ফাইভেই মেয়াদ পার যুবদলের!

২০১৭ সালের ৩ জানুয়ারি জাতীয়তাবাদী যুবদলের সবশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এই কমিটি এরইমধ্যে ৩৩ মাস পার করে দিয়েছে। কথা ছিল দুই মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা দেয়া হবে। কিন্তু নানা অজুহাতে ৫ সদস্যের সুপার ফাইভ কমিটি দিয়েই মেয়াদ পার করে দিচ্ছে যুবদল। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাইফুল আলম নীরব-সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর কমিটির মেয়াদ আর মাত্র ৩ মাস। এ নিয়ে হতাশ ও ক্ষুব্ধ সংগঠনটির পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীরা।

২০১৭ সালের ৩ জানুয়ারি সাইফুল আলম নীরবকে সভাপতি ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে সাধারণ সম্পাদক করে যুবদলের কমিটি ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সুপার ফাইভ কমিটিতে সিনিয়র সহসভাপতি করা হয় মোরতাজুল করিম বাদরুকে, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক করা হয় সাবেক ছাত্রনেতা নুরুল ইসলাম নয়ন আর সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয় মামুন হাসানকে।

এদের মধ্যে সাইফুল আলম নীরব যুবদলের আগের কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন। আর সুলতান সালাউদ্দিন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন। সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু দীর্ঘদিন ধরে যুবদলের রাজনীতি করে আসছেন। সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন পরীক্ষিত ছাত্রনেতা ছিলেন। তিনি ছাত্রদলের হেলাল-বাবু কমিটির সহ সভাপতি ছিলেন। আর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ পাওয়া মামুন হাসান ঢাকা উত্তর ‍যুবদলের সভাপতি ছিলেন।

সুপার ফাইভ কমিটি নিয়ে শুরুতে অনেক আশাবাদী ছিলেন যুবদল নেতাকর্মীরা। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে দেই দিচ্ছি মনোভাবের কাছে যুবদল নেতাকর্মীদের সেই আশায় গুড়েবালি। পদপ্রত্যাশী বহু নেতা এখন যান না যুবদলের কর্মসূচিতে।

তিন বছরমেয়াদি এ কমিটির বয়স ৩৩ মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত সংগঠনটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেননি দায়িত্বপ্রাপ্তরা। সর্বশেষ গত ৯ অক্টোবর যুবদলের ৫ নেতার সঙ্গে স্কাইপে বৈঠক করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেই বৈঠকে তিনি ২০ অক্টোবরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে নির্দেশ দেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা দিতে পারেনি যুবদল।

তারেক রহমানের বেঁধে দেয়া তারিখের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা না হওয়ার বিষয়ে যুবদল সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু গণমাধ্যমকে বলেন, তারেক রহমান কমিটি গঠন নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ বেঁধে দেননি। বলেছেন, দ্রুত কমিটি দিতে। আশা করি এক মাসের কম সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারব আমরা।

যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, ত্যাগী, পরীক্ষিত ও রাজপথের নেতাদের নিয়ে যুবদলের কমিটি হবে। সেটা যাচাই-বাছাই করতে সময় লাগছে। এ কারণে ২০ অক্টোবরের মধ্যে কমিটি ঘোষণা করতে পারিনি। সময় বাড়ানোর জন্য তারেক রহমানকে অনুরোধ করেছি। তিনি সেটা অনুমোদন করেছেন। আশা করি শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারবো।’

সংগঠনটির পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীরা বলছেন, যুবদলের গত কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক থাকাবস্থায় সাইফুল আলম নীরবের নিজস্ব বলয় ছিল। এখন পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তিনি নিজের আস্থাভাজনদের রাখতে চান। অন্যদিকে, ছাত্রদলের সভাপতি থাকাবস্থায় সুলতান সালাউদ্দিন টুকু তার নিজস্ব একটি বলয় তৈরি করেছেন। তিনি আস্থাভাজনদের কমিটি করতে চান।

এই দুই নেতার দ্বন্দ্বের কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয় না। এ কারণে নেতাকর্মীরা ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলন বা বিএনপির কর্মসূচিতে অংশ নেন না। কারণ আন্দোলন করতে গিয়ে কোনো নেতাকর্মী গ্রেফতার হলে তখন তার রাজনৈতিক পরিচয় কী হবে? পদপদবি থাকলে নেতাকর্মীরা সেটা বাঁচানোর জন্য হলেও মাঠে নামতো।

তবে নিজেদের দ্বন্দ্বের কথা অস্বীকার করেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, আমাদের কমিটি হওয়ার আগে থেকে খালেদা জিয়াকে সপ্তাহে ৩-৪ দিন আদালতে হাজিরা দিতে হয়েছে। তখন আদালতে আসা-যাওয়ার পথে সময় চলে গেছে। এর পর তিনি গ্রেফতার হলে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে কখনও আমি, কখনও সভাপতি গ্রেফতার হয়েছেন। ফলে চাইলেও আমরা কমিটি দিতে পারিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন।