প্রকাশনার ১৫ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২৪শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
১০ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
১৮ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

সিলেট সীমান্তে এবার আরেক চোরাচালান!

admin
প্রকাশিত
সিলেট সীমান্তে এবার আরেক চোরাচালান!

রফিকুল ইসলাম কামাল :: সিলেটের সাথে ভারতের একটি বিশাল অংশের সীমান্ত এলাকা রয়েছে। সিলেটের গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কোম্পানীগঞ্জ ও জকিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঢুকে বিভিন্ন ধরনের চোরাই পণ্য। তবে মোবাইল ফোন চোরাচালানের বিষয়টি এতোদিন অজানাই ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে। সম্প্রতি ভারত থেকে গোয়াইনঘাট সীমান্ত দিয়ে আসা মোবাইল ফোনের একটি বড় চালান ধরা পড়ার পর এ বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

জানা গেছে, সিলেটের বিভিন্ন সীমান্তের বেশকিছু স্পট দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক পাচার করা হয়। ভারত থেকে সিগারেট, বিড়ি, কসমেটিকস, কাপড়, চা-পাতা, গরু, মহিষ এগুলো বাংলাদেশে পাচার হয় নিত্যদিন।

সম্প্রতি সিলেটের গোয়াইনঘাট সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র চোরাচালানের বিষয়টি ধরা পড়ে। গেল সেপ্টেম্বরে পুলিশ গোয়াইনঘাটের আরব আলীকে গ্রেফতার করে। তিনি অস্ত্র চোরাচালানের মূলহোতা বলে জানায় পুলিশ। গোয়াইনঘাটের পূর্ব বিছনাকান্দি সীমান্ত দিয়ে ৪টি চালানে অন্তত ১০টি অত্যাধুনিক রিভলবার ভারত থেকে দেশে আনেন আরব আলী।

এবার সিলেট সীমান্ত দিয়ে মোবাইল ফোন চোরাচালানের বিষয়টি বেরিয়ে এসেছে। একটি প্রাইভেটকারের সূত্র ধরে গেল ১৭, ১৮ ও ১৯ নভেম্বর পৃথক অভিযানে পুলিশ গ্রেফতার করে ৪ জনকে। তন্মধ্যে পুলিশের এক এএসআইও রয়েছেন। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয় ২৭৯টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন।

পরে সিলেট নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জেদান আল মুসা জানান, জব্দকৃত এসব অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনের মূল্য প্রায় ৪২ লাখ টাকা। এগুলো ভারত থেকে বিছনাকান্দি সীমান্ত দিয়ে গোয়াইনঘাটে আনা হয়। পরে সিলেটে নিয়ে আসা হয়েছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, গেল ১৬ নভেম্বর রাতে নগরীর জালালাবাদ থানার তেমুখী বাইপাস এলাকায় একটি নাম্বারবিহীন সোনালী রংয়ের অ্যাক্সিও প্রাইভেটকার পরিত্যক্ত অবস্থায় পুলিশ জব্দ করে। তবে গাড়িতে কিছু না পেয়ে এটি জালালাবাদ থানায় রাখা হয়।

এই প্রাইভেটকার নিয়ে পুলিশের অনুসন্ধান বলছে, অ্যাক্সিও প্রাইভেটকারের বুটের (পেছনে মালামাল রাখার স্থান) মধ্যে ভারত থেকে অবৈধভাবে আনা বিভিন্ন কোম্পানির অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন নিয়ে আসা হচ্ছিল। সিলেটের বিমানবন্দর সড়কের বাইপাস থেকে একটি মোটরসাইকেল ও একটি পুরনো প্রাইভেটকার ওই অ্যাক্সিও প্রাইভেটকারকে অনুসরণ করতে থাকে। অনুসরণকারীদের পুলিশ ভেবে চোরাকারবারিরা অ্যাক্সিও প্রাইভেটকারটি সাগরদিঘীরপাড় এলাকায় ফেলে পালিয়ে যায়। পরে ওই মোটরসাইকেল ও পুরনো প্রাইভেটকারে থাকা ব্যক্তিরা ওই অ্যাক্সিও গাড়িটি তেমুখী বাইপাস এলাকায় নিয়ে বুটের মালামাল নিয়ে চম্পট দেয়।

সিলেট নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জেদান আল মুসা সিলেটভিউকে জানান, অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। ১৭ থেকে ১৯ নভেম্বর বিভিন্ন স্থানে অভিযানে গ্রেফতার করা হয় ৪ জনকে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নগরীর পশ্চিম শাহী ঈদগাহের অন্তরঙ্গ -৬৮ এর মোশারফ হোসেন খান (৩৮, দক্ষিণ সুরমার কায়স্তরাইলের জাহাঙ্গীর হোসেন (৩৪), কাজীটুলার মক্তবগলির ফারুক মিয়া (৩৬) ও কোতোয়ালী থানার মাদরাসা রোডের মাহমদ আলীর বাসার জহিরুল ইসলাম সোহাগ (৩৯)। তন্মধ্যে জাহাঙ্গীর হোসেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এএসআই।

পুলিশ কর্মকর্তা জেদান সিলেটভিউকে জানান, তাদের কাছ থেকে ভারতে ব্যবহৃত বিভিন্ন কোম্পানির ২৭৯টি অ্যান্ড্রয়েড ফোন, দুটি প্রাইভেটকার ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি এবং দ্রুত বিচার আইনে আরেকটি মামলা করা হয়। তাদেরকে ৩ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পরে গেল রবিবার আদালতে হাজির করা হলে আদালত কারাগারে পাঠিয়েছেন।

এছাড়া এএসআই জাহাঙ্গীরকে পুলিশের চাকুরিবিধি অনুসারে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

নগরীর কোতোয়ালী থানার সহকারী কমিশনার নির্মলেন্দু চক্রবর্তী জানান, জিজ্ঞাসাবাদে এ ৪ জনের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। সে অনুসারে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে কাজ চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চোরাচালানের এ চক্রটি সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে মোবাইল ফোন আনার পর সেগুলো নিয়ে আসে সিলেট শহরে। এরপর এসব ফোন নিজেদের নেটওয়ার্কের সাহায্যে সারাদেশে ছড়িয়ে দেয় চক্রটি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিলেট সীমান্ত দিয়ে মোবাইল ফোন চোরাচালানের মূলহোতা জগন্নাথপুরের সৈয়দ আরিফ আহমদ। তবে তিনি নগরীর শামীমাবাদে বসবাস করেন। ওই চোরাচালানের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় সৈয়দ আরিফের নাম আছে। এছাড়া তার এক সহযোগী নগরীর শেখঘাট এলাকার মৃদুলের নামও আছে মামলায়।

সিলেট নগর পুলিশের কর্মকর্তা জেদান আল মুসা সিলেটভিউকে বলেন, ‘এই চোরাচালান চক্র এর আগেও ভারত থেকে মোবাইল ফোন এনে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন। আমরা এ নিয়ে কাজ করছি। সৈয়দ আরিফকে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন।