প্রকাশনার ১৫ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২৪শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
১০ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
১৮ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

সিলেট মহানগর আ’লীগের সম্মেলন: নেতৃত্বে আসতে পারে বড় পরিবর্তন

admin
প্রকাশিত
সিলেট মহানগর আ’লীগের সম্মেলন: নেতৃত্বে আসতে পারে বড় পরিবর্তন

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন ৩০ নভেম্বর। নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, দীর্ঘ ৮ বছর পর হতে যাওয়া এ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে মহানগরের নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সম্মেলন সামনে

রেখে তৎপর রয়েছেন পদপ্রত্যাশীরা। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হতে এক ডজনের বেশি নেতা জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

১০ ডিসেম্বরের মধ্যে ওয়ার্ড কমিটি গঠন করে মহানগর কমিটির সম্মেলন করার নির্দেশনা ছিল কেন্দ্রের। এই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ১০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সভা হয়।

সভায় ৩০ নভেম্বর মহানগর সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। সম্মেলন সামনে রেখে ইতিমধ্যে ২৭টি ওয়ার্ডে কমিটি গঠন হয়েছে। এখন চলছে মহানগরের সম্মেলন প্রস্তুতি।

নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমান সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হওয়ায় তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদটি হারাতে পারেন। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে পারেন তিনি।

অনুসারীদের ধারণা, কামরান কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হতে পারেন। রদবদলের প্রক্রিয়ায় পরবর্তী কেন্দ্রীয় কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ার আশ্বাস পেলে কামরান সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন। এ ক্ষেত্রে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ হতে পারেন সভাপতি। অথবা কামরানকে সভাপতি রেখে পরিবর্তন আসতে পারে সাধারণ সম্পাদক পদেও। এ ক্ষেত্রে আসাদকে দেখা যেতে পারে কেন্দ্রীয় কমিটিতে। এ ধরনের পরিবর্তনের গুঞ্জন এখন দলীয় নেতাকর্মীদের মুখে।

এদিকে আসন্ন সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মুখে মুখে রয়েছে গত সিটি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর ভরাডুবির বিষয়টি। কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় ওই পরাজয়কে দেখা হয় সাংগঠনিক ব্যর্থতা হিসেবে।

সিটি নির্বাচনে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদের নীরব বিরোধিতা কামরানের পরাজয় বলে মনে করছেন কামরান অনুসারীরা। তবে প্রার্থীর ইমেজ সংকটের কারণেই সিলেটে নৌকার ভরাডুবি হয় বলে দাবি আসাদের। এ অবস্থায় মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুই নেতার যে কোনো একজন পদবঞ্চিত হতে পারেন।

সভাপতি পদ পরিবর্তন হলে আসাদ ছাড়াও এ পদে যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে তারা হলেন : মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট রাজ উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মফুর আলী ও সাবেক সিটি কাউন্সিলর আবদুল খালিক। যুগ্ম সম্পাদক সাবেক সিটি কাউন্সিলর ফয়জুল আনোয়ার আলাওরের নামও আলোচনায় আছে।

এ ছাড়াও সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন বর্তমান কমিটির যুগ্ম সম্পাদক বিজিত চৌধুরী, অধ্যাপক জাকির হোসেন, বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক, বিসিবির পরিচালক, সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বারের সিনিয়র সহসভাপতি শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সাংগঠনিক সম্পাদক এটিএম হাসান জেবুল, পরিবেশ সম্পাদক জগদীশ চন্দ্র দাস, শিক্ষা সম্পাদক ও সিটি কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক তপনমিত্র এবং সাংস্কৃতিক সম্পাদক প্রিন্স সদরুজ্জামান চৌধুরী।

জানাতে চাইলে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান যুগান্তরকে বলেন, নেতাকর্মীরা আমাকে সভাপতি পদে চান। তবে সবকিছু নির্ভর করছে দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের ওপর। সংগঠনের প্রয়োজনে তিনি যেখানে রাখবেন সেখানেই থাকব।

ঠিক একই ধরনের কথা বলেন আসাদ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ৩০ নভেম্বর মহানগর সম্মেলন হবে। নেতাকর্মীরা সভাপতি পদে আমাকে দেখতে চান। তবে সবকিছু নির্ভর করছে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর।

সংবাদটি শেয়ার করুন।