প্রকাশনার ১৫ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২০শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
৫ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
১৪ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

সিলেটে উপেক্ষিত বঙ্গবন্ধুর আস্থাভাজন তৃণমূল নেতারা

admin
প্রকাশিত নভেম্বর ২৫, ২০১৯, ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ণ
সিলেটে উপেক্ষিত বঙ্গবন্ধুর আস্থাভাজন তৃণমূল নেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক :: গত ১১ বছর ধরে ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। তাই অভাব নেই নেতাকর্মীরা। এক সময় প্রকাশ্যে যারা আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করেছিলেন, তারা এখন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সবচেয়ে বড় সৈনিক। বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা আর আওয়ামী লীগ নিয়ে পেরেশান। সুযোগ মতো অনেকেই স্থান করে নিয়েছেন দলের প্রভাব-প্রতিপত্তির জায়গা। অথচ দলের এই সুসময়ে সবচেয়ে বেশি অবহেলিত দু:সময়ের নেতারা। হাইব্রিডদের আস্ফালনে তারা এখন কোনঠাসা। বঙ্গবন্ধুর আস্থাভাজন তৃণমূলের নেতারা এখন সিলেট আওয়ামী লীগে উপেক্ষিত এমন অভিযোগ উঠছে হরহামেশা।

সম্প্রতি অনুষ্টিত কানাইঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে দলের নিবেদিতপ্রাণ নেতারা দাওয়াত না পাওয়ায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে তৃণমূলে। তবে তৃণমূলের সেই ক্ষোভ নিয়ে মাথাব্যথা নেই কারোই। উপজেলা থেকে জেলার নেতা, কারোই সেই সময় নেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে জীবন পার করে দেওয়া দু:সময়ের এসব নেতাদের সুখ-দু:খ শোনার। অথচ ১৯৭৫ থেকে শুরু করে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার বা ওয়ান ইলেভেনের সময়ও এই নেতারাই আগলে রেখেছিলেন তৃণমূলের রাজনীতি।

গত ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয় কানাইঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। ওই সম্মেলনে উপজেলা শাখার সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আমন্ত্রণ পেলেও উপেক্ষিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক জমির উদ্দিন প্রধান। অথচ বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি করতে গিয়ে ৮৫ বছর বয়সী জমির উদ্দিনের কেটে গেছে পুরো জীবনই। দলের এই নিবেদিতপ্রাণ মানুষটিকে ভালোবেসে নামের পেছনের ‘প্রধান’ উপাধিটাও দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

গত ১১ বছরে অসংখ্য নেতাকর্মীদের ভিড়ে বঙ্গবন্ধুর সেই ভালোবাসার ‘প্রধান’ জীবনের শেষ সময়ে এসে দলের সম্মেলনের একটি দাওয়াত কার্ড পাওয়ার অধিকারটুকুই হয়তো হারিয়ে ফেলেছেন। এ নিয়ে মুখ ফুটে জমির উদ্দিন প্রধান কোন প্রতিবাদ না করলেও তার অব্যক্ত কষ্ট তৃণমূলের ত্যাগী নেতাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটাচ্ছে। জমির উদ্দিন প্রধানের অসুস্থতার খবর পেয়ে গত বছর শেখ হাসিনা গণভবনে ডেকে নিয়ে তার চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন এবং তাকে ২০ লাখ টাকা অনুদানও দিয়েছিলেন।

কানাইঘাটে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছিল জানিয়ে জমির উদ্দিন প্রধান বলেন, ‘আজ দলে নেতাকর্মীর অভাব নেই। অথচ দুর্দিনে এতো নেতাকর্মী ছিল না। জীবন বাজি রেখে আমাদেরকেই দলের হাল ধরতে হয়েছিল। সারা জীবন যে দলের আদর্শ প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম করেছি, যে দল করে জীবন পাড়ি দিয়েছি, সেই দলের সম্মেলনে কেউ আমাকে স্মরণ করেনি। এটা শুধু আমাকে অপমাণ করা নয়, আমি মনেকরি মুজিব আদর্শের সকল ত্যাগী নেতাদের অসম্মান করা।’

এদিকে, কানাইঘাটের জমির উদ্দিন প্রধানের মতো উপেক্ষিত কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা কবির আহমদ। ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগ দেওয়া কবির আহমদের ঠাঁই হয়নি উপজেলা কমিটিতে। অথচ ষাটোর্ধ্ব কবির উদ্দিনের জীবনে আওয়ামী লীগের রাজনীতি ছাড়া আর কোন সম্বলই নেই।

১৯৯৬ সালে দল ক্ষমতায় আসার পর সবাই যখন নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত তখন কবির উদ্দিন অভাব অনুভব করেন দলীয় কার্যালয়ের। ১৯৯৮ সালে তিনি আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের জন্য শেখ হাসিনার নামে ইসলামগঞ্জ বাজারে ৭ শতক ভূমি রেজিস্ট্রি করে দেন। গত ২১ বছর ধরে সেই জায়গার ‘ভূমি উন্নয়ন কর’ও তিনি পরিশোধ করে যাচ্ছেন। কিন্তু কবির উদ্দিনের সেই ভূমিতে কেউ উদ্যোগ নেয়নি কার্যালয় করার। আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে নিজেও পারছেন না কার্যালয় নির্মাণ করার। উপজেলা আওয়ামী লীগের গত কমিটিতেও কবির উদ্দিনকে রাখা হয়েছিল সদস্য পদে। কিন্তু এবার নতুন নেতাদের ভিড়ে ঠাঁই হয়নি তার নাম। এ নিয়ে আক্ষেপ নেই কবির উদ্দিনের।

তার ভাষায়- ‘পদ-পদবী দিয়ে কি হবে? সারাজীবন বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি করেছি, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত করে যেতে চাই। এতেই আমার বড় শান্তি।’ বঙ্গবন্ধুতে নিবেদিত বয়োবৃদ্ধ এই নেতার এখন একমাত্র চাওয়া তার দানকৃত জায়গায় গড়ে উঠুক দলীয় কার্যালয়।

তৃণমূলের নিবেদিত এসব নেতারা সম্মেলনে উপেক্ষিত থাকার বিষয়টি জানা নেই বলে দাবি করেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী। সিলেটভিউকে তিনি বলেন, তাদের কথা কেউ বলেনি। দলের এরকম ত্যাগী নেতাদের সম্মান জানানো আমাদের দায়িত্ব।

সংবাদটি শেয়ার করুন।