প্রকাশনার ১৫ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২৪শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
১০ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
১৮ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

যে প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন বিয়ানীবাজারবাসী

admin
প্রকাশিত
যে প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন বিয়ানীবাজারবাসী

স্টাফ রিপোর্টার:
একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজে হয়রান বিয়ানীবাজারবাসী। সঠিক তথ্য সম্বলিত সে প্রশ্নের উত্তর নেই কারো কাছে। তবে ২৯বছর আগে এমন প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দুনিয়া ছেড়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী নিজে। ছেলে হত্যার বিবরণ দিয়ে মায়ের দেয়া সেই উত্তরকে পাশ কাটিয়ে এরপরও জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে একটি স্বার্থান্বেষী চক্র। এ অবস্থায় সাধারণের নতুন জিজ্ঞাসা-তবে কি মা’র চেয়ে মাসীর দরদ বেশী।

১৯৭১সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন বৈরাগীবাজারের জামাল। তাঁর নামে বিগতদিনে একটি স্মৃতিফলক স্থাপন করা হয়েছে। বিভিন্ন সময় ঘুরেফিরে এই জামাল নতুন করে আলোচনায় আসেন। তাঁর মৃত্যুর জন্য কে দায়ী-এমন প্রশ্ন এখন সবার মুখে। শহীদ জামালের মা আয়শা বেগম নিজেই সে প্রশ্নের উত্তর দিয়ে গেছেন। ১৯৯০সালে একটি অনুসন্ধান ও গবেষণা দলের কাছে প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে পুত্র হত্যার বিশদ বিবরণ তুলে ধরেন তিনি। এর আগ পর্যন্ত স্থানীয় কোন মুক্তিযোদ্ধা কিংবা অন্য কারো কাছে এ সংক্রান্ত কোন তথ্য ছিলনা।

আয়শা বেগম জানান, বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদ চত্বরে তার চোখের সামনেই জামালকে খুন করে হায়েনারা। মায়ের ভাষ্যনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ১৩ জুলাই নিজবাড়ি থেকে বিয়ানীবাজারে আসার পথে খাসা দিঘিরপাড় এলাকায় জামালকে রাজাকাররা আটক করে এবং ফুরকান মাষ্টারের মাধ্যমে তাকে পাকবাহিনীর হাতে তুলে দেয়া হয়। শহীদ জামালের মা, তার ছেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়াসহ হত্যার জন্য ফুরকান মাষ্টারকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, পুত্রকে রক্ষার জন্য রাজাকারদের দ্বারে-দ্বারে ঘুরেছেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধকালে জামালের স্ত্রী সন্তানসম্ভবা ছিলেন। দেশ স্বাধীনের পর ওই স্ত্রীর ঘরে জন্ম নেন স্বাধীন সুন্দরী। তিনি আজ পর্যন্ত পিতা হত্যার দায়ে কাউকে অভিযুক্ত করেননি কিংবা দাদী-মায়ের কাছ থেকে শোনা পিতা হত্যার বর্ণণা দেননি।

এসব বিষয় উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাংবাদিক শরিফুল হক মনজু লিখেন, রণাঙ্গণ-৭১ স্মারকে প্রকাশিত বিয়ানীবাজারের রাজাকারের তালিকা অশুদ্ধ, পক্ষপাতদুষ্ট এবং বিভ্রান্তিকর। এই স্মারকগ্রন্থে প্রকাশিত ২২৩জন রাজাকারের তালিকায় শুধুমাত্র একজন ছাড়া অন্যদের নামের সুস্পষ্ট কোন অভিযোগ না থাকায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।

সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী রণাঙ্গন-৭১ স্মারকে প্রকাশিত শহীদ জামাল হত্যার অসত্য তথ্য সংযোজন করায় ওই স্মারকের প্রকাশনা বাতিল এবং ক্ষতিপূরণ চেয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাছিব মনিয়ার দায়ের করা মামলায় বাদী আদালতে গরহাজির রয়েছেন। তিনি তার সম্পাদিত তথ্যের পক্ষে কোন দালিলিক প্রমাণাদি দিয়ে আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি বলে জানান মামলার বাদী আব্দুল হাছিব মনিয়া।

সংবাদটি শেয়ার করুন।