প্রকাশনার ১৫ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২৪শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
১০ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
১৮ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

মানিক-মুকুট বাকযুদ্ধে রাজনীতিতে উত্তাপ

admin
প্রকাশিত
মানিক-মুকুট বাকযুদ্ধে রাজনীতিতে উত্তাপ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের দুই সহ-সভাপতি মুহিবুর রহমান মানিক এমপি ও নূরুল হুদা মুকুট পরস্পরের বিরুদ্ধে দোষারোপ, পাল্টা দোষারোপের জেরে রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত হয়ে ওঠেছে। মুকুট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মানিক সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য। একটি জাতীয় পত্রিকায় দেওয়া জেলা আওয়ামী লীগের এই দুই প্রভাবশালী নেতার পরস্পরের বিরুদ্ধে দেওয়া পাল্টাপালটি বিবৃতিকে কেন্দ্র করে এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সদরে মুকুট সমর্থকরা মানিকের বিরুদ্ধে আর ছাতকে মানিক সমর্থকরা মুকুটের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ সমাবেশ করছেন। পাশাপাশি সোস্যাল মিডিয়ায়ও এ নিয়ে বিবৃতি এবং পাল্টা বিবৃতি দিচ্ছেন তাদের সমর্থকেরা।

জানা যায়, জেলায় আওয়ামী লীগের ১৪টি ইউনিটের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে জেলা সভাপতি-সাধারণ সম্পাকের সাথে সংসদ সদস্যদের বিরোধ নিয়ে খবর প্রকাশ হয়। এতে জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি নূরুল হুদা মুকুটকে ইঙ্গিত করে বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে পাল্টা বিবৃতি দিয়ে মানিককে একহাত নেন মুকুট।

সিনিয়র এই দুই নেতার পাল্টাপালটি বক্তব্যের কারণে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজনৈতিক অঙ্গণ। তাদের অনুসারীরা বিভিন্নস্থানে বিক্ষোভ, পাল্টা বিক্ষোভ করে পরস্পর পরস্পরের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন।

সোমবার বিকালে নূরুল হুদা মুকুটের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে জেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। একইভাবে ছাতকে পাল্টা মিছিল হয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে। এদিকে, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র এই দুই নেতার অনুসারীদের পাল্টাপাল্টি বিষোদগারে বিব্রত হচ্ছেন আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ নেতাকর্মী। তারা মনে করছেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে মুকুট, মানিক দু’জনেরই অবদান রয়েছে। আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ করতে কাঁদা ছোড়াছুড়ি বন্ধের দাবি তাদের।

জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জে রায় জয় তাঁর ফেইসবুকে লিখেছেন, অযোগ্যতা এবং অগ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্বের কারণে যারা মূলধারার রাজনীতি ছিটকে পড়েছে। সেই মনোবেদনা থেকে তারা সুনামগঞ্জের আওয়ামী রাজনীতির আইকন নূরুল হুদা মুকুট ভাইকে নিয়ে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছেন। এই কালপ্রিটদের উদ্দেশ্যে বলছি, রাজপথের বরপুত্র নূরুল হুদা মুকুট সম্পর্কে অপপ্রচারের জবাব মুজিব আদর্শের মুকুট সৈনিকরা রাজপথেই দিবে।

দোয়ারাবাজার উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহমদ ইমন তার ফেসবুকে লেখেন, মানিক, মুকুট সুনামগঞ্জ আওয়ামী লীগের বোঝা নন সম্পদ। বাকযুদ্ধের লক্ষ্য একটাই যাতে ঐক্যবদ্ধ এক আওয়ামী লীগের কমিটি না হয়। কারণ কমিটি হলে নেতৃত্বের আসনে বসবে সাবেক ত্যাগী ছাত্র ও যুবনেতারা। আরেক পক্ষকে গায়েল করার সহজ পদ্ধতি হচ্ছে পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা। এতে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা-নিয়ে হাইব্রিড ও বিএনপি-জামাত থেকে অনুপ্রবেশকারী নবাগতরা সুনামগঞ্জের সুনাম তৃণমূলের জনপ্রিয় মুহিবুর রহমান মানিক এমপি ও সুনামগঞ্জ আওয়ামী লীগের তৃণমূলের আস্থার ঠিকানা, জামাত-বিএনপির আতংক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূরুল হুদা মুকুটকে নিয়ে যখন কিছু পাওয়ার আশায় কটুক্তি করে আমাদের মত সাবেক ছাত্রনেতাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। তখন এদের বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রকাশ করা ছাড়া আর কিছু করতে পারি না। তখন নিজেকে অসহায় মনে হয়। আমরা যারা নতুন প্রজন্ম, তারা কোথায় দাড়াব। আমরা কি ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগের কমিটি পাব না। না কি বরাবরের মত এবার হেরে যাব?

সংবাদটি শেয়ার করুন।