প্রকাশনার ১৫ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২০শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
৫ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
১৪ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

বিয়ানীবাজারে জামায়াতে ইসলামী কেমন আছে

admin
প্রকাশিত নভেম্বর ২৫, ২০১৯, ০৭:২৫ পূর্বাহ্ণ
বিয়ানীবাজারে জামায়াতে ইসলামী কেমন আছে

স্টাফ রিপোর্টার:
নির্বাচন কমিশন থেকে নিবন্ধন হারানো জামায়াতে ইসলামীকে রাজপথের একটি শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে সচেতন রাজনীতিকরা আখ্যায়িত করে থাকেন। নানাকারণে দলটি সর্বত্র সমালোচিত হলেও মাঠের রাজনীতির জন্য তারা বড় ধরণের হুমকি। বিষয়টি বিবেচনা করে সরকার জামায়াতে ইসলামীকে কোন ধরণের ছাড় দিচ্ছেনা। আইনশৃংখলা বাহিনীও দলটির রাজনৈতিক কর্মসূচিতে কঁড়া নজরদারি করে।

তাছাড়া যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ ওঠার পর থেকে প্রধান মিত্র বিএনপিও কৌশলে জামায়াতকে দূরে রাখছে। যদিও মাঝেমধ্যে রাজধানীতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের সভায় জামায়াতের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকার খবর শোনা যায়। ঢাকায় বিএনপি-জামায়াত বৈঠক হলেও বিয়ানীবাজার উপজেলায় এই দুই দলের নেতাদের মধ্যে মুখ দেখাদেখি প্রায় বন্ধ। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর জন্য নির্ধারিত বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ আসনে বিএনপি দলীয় ধানের শীষের প্রার্থী ফয়ছল আহমদ চৌধুরী মনোনয়ন বাগিয়ে নেয়ার পর থেকে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এই আসনটি ভবিষ্যতে হয়তো জামায়াতে ইসলামী আর নাও পেতে পারে। কারণ হিসেবে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর স্থানীয় সভাপতি এডভোকেট মো: আমান উদ্দিন জানান, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও বিএনপির প্রার্থী এই আসন থেকে ১লাখ ৮ হাজার ভোট পেয়েছেন। বিএনপির পরাজিত প্রার্থীদের মধ্যে এই আসনে ২য় সর্বোচ্চ ভোট লাভ করেন এখানকার প্রার্থী।

তাছাড়া বিয়ানীবাজার পৌরসভার গত নির্বাচনে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী পৃথক প্রার্থী দেয়। এতে জামায়াতের প্রার্থী লজ্জাজনক পরাজিত হলেও বিএনপি প্রার্থীর সাথে তার প্রাপ্ত ভোট একত্র করলে মেয়র পদে বিএনপি প্রার্থী জয়লাভ করতে পারতেন। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের শেষ নেই। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের কোনটিতেই প্রার্থী নিয়ে একমতে পৌছাতে পারেনি বিএনপি-জামায়াত।

সূত্র জানায়, গত প্রায় দুই বছরে বিয়ানীবাজার উপজেলার কোথাও জামায়াতে ইসলামী কোন মিছিল বের করতে পারেনি। মাঝেমধ্যে ছাত্র শিবিরের ঘরোয়া অনুষ্টানে উপস্থিত হন জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। এছাড়া সামাজিক অনুষ্টানাদিতে উপস্থিত হলে নেতাকর্মীদের সাথে কথা হয়-দেখা হয়। বিয়ানীবাজারে জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিকভাবে বেশ শক্তিশালী। মুড়িয়া ইউনিয়নে জামায়াতের স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তাদের সমর্থনপুষ্ট প্রার্থী চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যান পদে তীব্র প্রতিদ্বন্ধিতা গড়ে তোলেন। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে দাড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে তিনবার প্রতিদ্বন্ধিতা করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সদস্য মাওলানা হাবীবুর রহমান।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে স্থানীয়ভাবে গড়ে তোলা জামায়াতে ইসলামীর একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্টান রুগ্ন হয়ে পড়ে। বিভিন্ন সময়ে দফায়-দফায় তাদের ব্যবসা প্রতিষ্টানে হামলা চালানো হয়। উপজেলা জামায়াতের প্রথমসারির নেতাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ৩-৪টি করে মামলা চলমান। একাধিক মামলা আবার বিচারিক কার্যক্রমের শেষ পর্যায়ে। মামলার ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন আসামীদের মন ভালো নেই। বর্তমানে জামায়াতের উপজেলা শাখার আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাওলানা ফয়জুল ইসলাম আর সেক্রেটারী হিসেবে রয়েছেন ফরিদ আল মামুন। পৌরতে আমিরের দায়িত্ব পালন করছেন মোস্তফা উদ্দিন। এর বাইরে কে কোন পদবীতে আছেন, তা সহজে জানাতে চায়না জামায়াতের দলীয় সূত্র। আগেকার দিনে বেশ ঘটা করে জামায়াতের কাউন্সিল হলেও এখন প্রশাসনিক হয়রানী এড়াতে তারা পদবীধারী কোন নেতার নাম প্রকাশ করেনা।

জামায়াতের ছাত্র সংগঠন শিবিরের কাউন্সিল যথানিয়মে হলেও অভিভাবক সংগঠনের ন্যায় তারাও পদবীধারীদের নাম প্রকাশ থেকে বিরত থাকে। এরমধ্যে কখনো কোন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অন্য কোন থানার মামলায়ও গ্রেফতারী পরোয়ানা নিয়ে অভিযান চালায় পুলিশ। ভয়-আতঙ্কে দিনে বাইরে থাকলেও রাতে তারা রাত কাটান অজানা গন্তব্যে। গত ক’বছরে জামায়াত ছেড়ে অন্যদলে যোগ দিয়েছেন অন্তত: এক ডজন ব্যক্তি, প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছেন কমপক্ষে ২শতাধিক দলীয় নেতাকর্মী, নিক্রিয় হয়ে পড়েছেন কয়েক শতাধিক। পারিবারিক চাপে ছাত্র শিবিরে নতুন যোগ দেয়া নবীণদের সংখ্যা হাতেগোনা। জামায়াতে ইসলামী প্রকাশ্যে সভা-সমাবেশ করতে অনেকদিন। শিবিরের যে কার্যালয় থেকে দলীয় কার্যক্রম চলতো তা খোলা হয়নি একযুগের বেশী সময় থেকে। সার্বিক বিষয় নিতে জানতে উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা ফয়জুৃল ইসলাম বলেন, শুধু জামায়াত কেন বিরোধী মতের সব রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। দেশে এখন গণতান্ত্রিক রাজনীতির বিদুমাত্র জায়গা নেই। পুলিশী রাষ্ট্রে পরিণত এইদেশে রাজনীতিকদের চরমভাবে নির্যাতিত হতে হচ্ছে। তিনি বলেন, বিএনপির সাথে স্থানীয়ভাবে তাদের কোন বিরোধ নেই। কেন্দ্রীয়ভাবে যখন যে নির্দেশ দেয়া হবে, তা পালনে জামায়াত সর্বাত্মক শক্তি নিয়ে মাঠে নামবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন।