প্রকাশনার ১৫ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২৪শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
১০ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
১৮ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

বিশ্বনাথে বিষপানে বৃদ্ধের মৃত্যু মিশ্র বক্তব্যে রহস্যের সৃষ্টি

admin
প্রকাশিত
বিশ্বনাথে বিষপানে বৃদ্ধের মৃত্যু মিশ্র বক্তব্যে রহস্যের সৃষ্টি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিশ্বনাথ :: সিলেটের বিশ্বনাথে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বিষপানে মুক্তার মিয়া (৬০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নের বড়তলা গ্রামের আবদুল গণির পুত্র। তবে মুক্তার মিয়া নিজেই বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন বলে তার পিতা ও ২য় স্ত্রী দাবি করলেও সন্তানরা অভিযোগ করছেন পারিবারিক কলহের জের ধরেই পূর্বপরিকল্পতিভাবে বিষ খাইয়ে মুক্তার মিয়াকে হত্যা করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের মিশ্র বক্তব্যের কারণে এনিয়ে এলাকায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৭ সন্তানের (৫ পুত্র ও ২ কন্যা) জনক মুক্তার মিয়া বছর খানেক পূর্বে স্ত্রী রাহেনা বেগম মারা যাওয়ার পর পার্শ্ববর্তী গ্রামের বিধবা জেসমিন বেগমকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে মুক্তার মিয়া ও তার ২য় স্ত্রী জেসমিন বেগমের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ঝগড়া-বিবাদ চলে আসছে। এনিয়ে পিতা-মাতা, ভাই-বোনর সঙ্গে পারিবারিক বিরোধ চলে আসছিল মুক্তার মিয়ার। মঙ্গলবার সকালে স্ত্রী জেসমিন বেগমের সাথে ঝগড়া করে বাড়ি থেকে স্থানীয় পনাউল্লাহ বাজারস্থ দোকানে চলে যান মুক্তার মিয়া। এরপর বাড়িতে ফিরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে বসত ঘরে সামনে বিষপান করেন তিনি। তাৎক্ষণিক তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৩টার দিকে তিনি মারা যান। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

মুক্তার মিয়ার বড় ছেলে ছালেক মিয়ার জানান, মুক্তার মিয়ার বোন ও ২য় স্ত্রীর সঙ্গে সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে উঠে পার্শ্ববর্তী বাড়ির বাসিন্দা স্থানীয় ওয়ার্ডের মেম্বার সাইদুর রহমান। এবিষয়ে প্রতিবাদ করায় মুক্তার মিয়ার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন তার ভাই বাবুল মিয়া, সেবুল মিয়া, মেম্বার সাইদুর রহমান ও মুক্তারের ২য় স্ত্রী জেসমিন বেগম। তারা তাকে (মুক্তার) প্রাণে হত্যার হুমকি প্রদান করেন। ছালেক মিয়ার অভিযোগ তার ফুফু ও সৎ মা’র সঙ্গে সাইদুর মেম্বারের অবৈধ সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় সাইদুর রহমান, চাচা বাবুল মিয়া, সেবুল মিয়া, ফুফু রাজনা বেগম কেলন ও সৎ মা জেসমিন বেগম সংঘবদ্ধ হয়ে পূর্ব পরিকল্পতিভাবে তার পিতা মুক্তার মিয়াকে বিষপান করিয়ে হত্যা করেছেন।

হত্যার অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে মুক্তার মিয়ার পিতা আবদুুল গণি বলেন, আমার ছেলে তার স্ত্রী-সন্তানদের সাথে অভিমান করে নিজেই বিষপান করে মারা গেছে। তাকে কেউ বিষপান করায় নি।

নিজের বিরুদ্ধে উত্তাপিত অভিযোগগুলো মিথ্যা দাবী করে অভিযুক্ত সাইদুর রহমান মেম্বার বলেন, মুক্তার মিয়া বা তার পরিবারের সঙ্গে আমার কোন বিরোধ নেই। সুতরাং তাকে বিষপান করানো প্রশ্নই আসে না। হয়রাণী করার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

এব্যাপারে বিশ্বনাথ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রমা প্রসাদ চক্রবর্তী বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মুক্তার মিয়া বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন। এবিষয়য়ে এখনো আমরা কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন।