প্রকাশনার ১৫ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
১০ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
১৩ই শাবান, ১৪৪৫ হিজরি

বিশ্বনাথে পপির আত্মহত্যা: র‌্যাব-পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ২

admin
প্রকাশিত
বিশ্বনাথে পপির আত্মহত্যা: র‌্যাব-পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক,  বিশ্বনাথ ::  মেয়ের রেখে যাওয়া স্মৃতি চিহ্ন থেকে মেয়েকে খুঁজতে গিয়ে তারই ভ্যানেটি ব্যাগে মা ফেলেন একটি চিরকুট বা সুইসাইড নোট। আর এই চিরকুট থেকেই বেরিয়ে আসল সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার লালটেক গ্রামের হত-দরিদ্র শুকুর আলীর মেয়ে পপি বেগম (২১)’র আত্মহত্যার আসল রহস্য। চিরকুট পাওয়ার পর পপির বড় বোনের স্বামী ফয়জুল ইসলামসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরোও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা অভিযুক্ত করে বিশ্বনাথ থানায় মামলা দায়ের করেন তার হতভাগা পিতা শুকুর আলী। মামলা নং ৫ (তাং ১৪.১০.১৯ইং)।

লাশ দাফনের ২ দিন পর পপির মা জোসনা বেগমের পাওয়া চিরকুট অনুযায়ী জানা গেলো আত্মহত্যা করার পূর্বের রাতেই (৯ অক্টোবর) দক্ষিণ সুরমা উপজেলার তেতলী (চেরাগী) গ্রামস্থ বড় বোনের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া পপি বেগম (২১) গণধর্ষণের শিকার হয়ে ছিলো। আর গণধর্ষণের শিকার হওয়াতে লোকলজ্জার ভয়ে পর দিন (১০ অক্টোবর) নিজের বাড়িতে ফিরে পরিবারের সকলের অজান্তে আত্মহত্যা করে পপি। আর ওই দিন বিকেলে নিজ বসতঘর থেকে পপির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। কিন্তু গণধর্ষণের ব্যাপারে কাউকে কিছুই বলেনি পপি। তবে কৌশলে নিজের ভ্যানেটি ব্যাগে রেখে গেছে সুইসাইড নোট বা চিরকুটটি।

পপির রেখে যাওয়া সুইসাইড নোট ও তার পিতার মামলা দায়ের করার পর ব্যাপক তৎপর হয়ে উঠেন সরকারের বিভিন্ন আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা। ফলে র‌্যাব-পুলিশের পৃথক অভিযানে গ্রেফতার হয় এজহারনামীয় দুই অভিযুক্ত ফয়জুল ইসলাম ও জাহেদ হোসেন। ১৪ অক্টোবর গভীর রাতে নিহত পপির দুলাভাই দক্ষিণ সুরমা উপজেলার তেতলী (চেরাগী) গ্রামের মৃত আবদুল মন্নানের পুত্র ফয়জুল ইসলাম (২৮)’কে তার নিজ এলাকা থেকে গ্রেফতার করে বিশ্বনাথ থানা পুলিশ। আর ১৫ অক্টোবর রাতে বিশ্বনাথ থানা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী র‌্যাপিড এ‌্যাকশন ব‌্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-৯’র এএসপি সত্যজিৎ কুমার ঘোষের নেতৃত্বে তার নিজ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় দক্ষিণ সুরমা উপজেলার তেতলী (চেরাগী) গ্রামের মৃত মতছির আলীর পুত্র জাহেদ হোসেন (২২)’কে।

গণধর্ষণ মামলায় ফয়জুল-জাহেদকে গ্রেফতারের সত্যতা স্বীকার করে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামীম মুসা ও পরিদর্শক (তদন্ত) রমা প্রসাদ চক্রবর্তী বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার সাথে জড়িত সকল অপরাধীদের গ্রেফতারে আইন-শৃংখলা বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন।