প্রকাশনার ১৫ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

১৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
১১ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

বিয়ানীবাজারে শ’-ত-শ’-ত সংগঠন-সমিতি, কাজ নিয়ে নানা প্রশ্ন

admin
প্রকাশিত
বিয়ানীবাজারে শ’-ত-শ’-ত সংগঠন-সমিতি, কাজ নিয়ে নানা প্রশ্ন

 

স্টাফ রিপোর্টার:

বিয়ানীবাজার উপজেলা ও পৌরশহরকে কেন্দ্র করে কতোগুলো সংগঠন-সমিতি রয়েছে তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। নামে বেনামে গড়ে ওঠা কয়েকশ’ত সংগঠনের মধ্যে ৫-৭টি জনকল্যাণে কাজ করলেও বাকিগুলো নামসর্বস্ব। এসব সংগঠন-সমিতির বেশীরভাগ নিষ্ক্রিয়। সদস্যদের স্বার্থ কিংবা সমাজসেবায় দৃশ্যমান কোনো কর্মসূচি তাদের থাকে না।

সরকারি দপ্তর থেকে শুরু করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সব জায়গায় রয়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমিতি। এ ছাড়াও সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নাম দিয়েও চলে অসংখ্য সমিতির কার্যক্রম। সাংবাদিক সংগঠনসহ বিভিন্ন কমিউনিটির সমিতিও রয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক। চিকিৎসক, ব্যবসায়ী, খেলোয়াড়, ইমাম, মুয়াজ্জিন, রাজমিন্ত্রী, কাঠমিস্ত্রি, ইলেকট্রিশিয়ান, হোটেল কর্মচারি সমিতি, পরিবেশক সমিতি, চেম্বার অব কমার্স, রোটারী ক্লাব, লায়ন্স ক্লাব, লাইব্রেরী, সমবায় সমিতি, ফটোগ্রাফি সোসাইটি, চেয়ারম্যান ও মেম্বার এসোসিয়েশন, মৎস্যজীবি সমিতি, ফল ব্যবসায়ী সমিতি, রং মিস্ত্রী সমিতিসহ কয়েকশ’-ত সংগঠন রাতারাতি গঠন করা হয়। এগুলো বিয়ানীবাজারের ছাড়াও গ্রামে-গ্রামে, পাড়ায়-পাড়ায় ক্লাব, সমিতির সংখ্যা কেবল বাড়ছে। এসব সমিতির নেতৃত্বে আসতেও চলে বড় ধরনের প্রতিযোগিতা। নানা বিতর্কও রয়েছে এসব অনেক সমিতি নিয়ে।আরো আছে শিল্পকলা একাডেমি, নাট্য সংগঠন, ক্রীড়া সংস্থা, ক্রীড়া সংগঠন।

বিয়ানীবাজার সমাজ সেবা অফিসের কর্মচারি আসকর মিয়া জানান, উপজেলায় নিবন্ধিত ১২২টি সংগঠন রয়েছে। তবে সক্রিয় সংগঠনের সংখ্যা ১৮-২০টি হতে পারে। অন্যগুলো নানাকারণে নিষ্ক্রিয়।

বিয়ানীবাজার নাম লাগিয়ে ঢাকা, সিলেট, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইটালি, মধ্যপ্রাচ্য, কানাডাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সংগঠন তৈরী করা হয়েছে। এ ধরনের প্রায় সকল সংগঠনে বিরোধ-বিভক্তি অনেকটা প্রকাশ্যে। বিভিন্ন সংগঠন নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান আছে।

রমজান মাসে বিভিন্ন সংগঠন ইফতার অনু্ষ্টানের আয়োজন করেছে। কেউ আবার ব্যক্তি-বিশেষকে সংবর্ধণা দিয়ে মাঝে মধ্যে সাংগঠনিক জানান দেয়।

বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজেও প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিকও রয়েছে অসংখ্য সংগঠন। কোনো কোনো সংগঠনের কর্মকাণ্ড কমিটি গঠন ও বাৎসরিক একটি পিকনিকেই সীমাবদ্ধ। তাছাড়া কমিটি গঠনের সময় স্পষ্ট হয় কোন্দল। উপজেলায় আছে শিক্ষকদের নানা সংগঠন। তারাও বিভক্ত। ঠিকাদারী সমিতি, সেলুন সমিতিও গঠন করা হয়েছে কয়েকবছর আগে। বিভিন্ন সময় এসব সংগঠন নিয়ে চলে কমিটি গঠন ও পাল্টা কমিটি গঠনের মতো ঘটনা।

সমাজসেবা অফিসে নিবন্ধিত গোলাবশাহ সমাজকল্যান সংস্থার সাধারণ সম্পাদক নজরুল হোসেন বলেন, আমাদের সংগঠন সক্রিয় রয়েছে। সমাজসেবামুলক নানা কার্যক্রম আমরা পরিচালনা করি।

বিয়ানীবাজার বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পষিদের প্রতিষ্টাতা জিয়াউর রহমান বলেন, আমরা মূলত: খেলাধূলাকেন্দ্রিক কার্যক্রমে সক্রিয় রয়েছি। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সহ-সভাপতি শাহজাহান সিদ্দিক জানান, আমাদের সংগঠনের কার্যক্রম হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ কেন্দ্রিক। এর বাইরেও কিছু মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করি।

সুজন-বিয়ানীবাজার শাখার সভাপতি এডভোকেট মো: আমান উদ্দিন বলেন, বিভিন্ন নামে বহুবিধ লক্ষ্যকে জানান দিয়ে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো আত্মপ্রকাশ করে। তবে তারা সমাজের সমস্যাগ্রস্ত মানুষের অভাব পূরণ, সামাজিক দায়বদ্ধতার চর্চা, মানবিক উদাহরণ তৈরির ক্ষেত্রে নিজস্ব সক্ষমতা ও ভূমিকা মানুষের জন্য ব্যয় করার মানসিকতা থেকে এই সংগঠনগুলো দূরে সরে যাচ্ছে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন।