প্রকাশনার ১৫ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২৫শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
১০ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
১৯শে মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

বিয়ানীবাজারে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের দূর্নী*তি-২: শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে ২ কোটি টাকা ঘু*ষ

admin
প্রকাশিত জুলাই ২, ২০২৪, ০৩:০১ অপরাহ্ণ
বিয়ানীবাজারে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের দূর্নী*তি-২: শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে ২ কোটি টাকা ঘু*ষ

 

মিলাদ জয়নুল:

 

বিয়ানীবাজার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মৌলুদুর রহমানের অনিয়ম, ঘুষ-দুর্নীতির তথ্য এখন কারো অজানা নয়। ক্ষমতার অপব্যবহার করে কয়েক বছর থেকে নিজ দপ্তরকে তিনি দূর্নীতির আখড়া বানিয়েছেন। দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনায় তার বহুমুখি চরিত্র নিয়ে আলোচনা চলছে খোদ মাধ্যমিক শিক্ষকদের মধ্যে। মৌলুদুর রহমান বিয়ানীবাজার উপজেলায় যোগদান করেন ২০১৯ সালের ১৩ ফেব্রæয়ারী।

সূত্র জানায়, যোগদানের পর থেকে অদ্যাবধি স্থানীয় বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তার মাধ্যমে ২ শতাধিক শিক্ষক যোগদান করেন। আরো প্রায় ২শ’ কর্মচারি নিয়োগ দিতেও তার প্রভাব ছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মাধ্যমিক শিক্ষক জানান, সহকারি শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ৫০ হাজার, কর্মচারি নিয়োগের ক্ষেত্রেও ৫০ হাজার এবং প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ৭০-৮০হাজার টাকা করে তাকে পূর্ব নির্ধারিত ঘুষ দিতে হয়। বিশেষ ক্ষেত্রে ঘুষের পরিমান কম-বেশী হতে পারে। তার মেয়াদে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের অভিযোগ অনুযায়ী, ৪শ’ শিক্ষক-কর্মচারীর কাছ থেকে মৌলুদুর রহমান শুধু নিয়োগ বাবদ ঘুষ নিয়েছেন প্রায় ২ কোটি টাকা।

জানা যায়, শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের বাজেট শাখার ২০২৩ সালের ২মে তারিখের ৩৭.০০.০০০০.০৬৪.০১.০০২.১৬-২৩৬ নং স্মারক অনুযায়ী জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৩ সুষ্টুভাবে সম্পন্নের লক্ষে পুরষ্কার খাতে ৮৬ হাজার ১শ’ টাকা এবং অনুষ্টান বাবদ আরো ২২ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু ২০২৩ সালে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের পুরষ্কার বিতরণী কোন অনুষ্টান হয়নি। এছাড়া বিজয়ীদের কাছে যেসব পুরষ্কার প্রদান করা হয়েছে তার গড়মূল্য হবে ৩শ’ টাকা। গত বছরে পুরষ্কার এবং অনুষ্টান সংক্রান্ত মোটা অংকের টাকা আত্মসাৎ করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মৌলুদুর রহমান।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, সরকারি পরিষেবা পেতে মৌলুদুর রহমানকে প্রত্যেক খাতে ঘুষ দিতে হয়। সরকারের দেওয়া বিনামূল্যে বই পেতে তাকে দিতে হয় স্কুল প্রতি চার থেকে পাঁচশো টাকা। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠানো পাঠ্যপুস্তকের পরিবহন ব্যয় বাবদ সরকারি টাকা পকেটস্থ করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া নতুন এমপিওকরণের জন্য তাকে শিক্ষকপিছু ৫ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়।

 

বিয়ানীবাজার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মৌলুদুর রহমান বলেন, ঘুষ নেয়ার অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি এসবের সঙ্গে জড়িত নই। তবে আমি যোগদানের পর ২শ’ শিক্ষককে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী শামীম জানান, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের দূর্নীতির খবর পেয়েছি। আমি শিক্ষা অফিসারকে তলব করে পুরো বিষয় জানতে চাইবো।

 

এ বিষয়ে সিলেট জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাঈদ মো: আব্দুল ওয়াদুদ জানান, মৌলুদুর রহমানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে বলেও জানান।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন।