প্রকাশনার ১৫ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২৫শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
১০ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
১৯শে মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

বিয়ানীবাজারে ‌‌‘বন্যার পানিতে তলিয়ে’ আছে চিনি ছি*নতাই মামলার অগ্রগতি

admin
প্রকাশিত জুলাই ২, ২০২৪, ০৪:৪১ অপরাহ্ণ
বিয়ানীবাজারে ‌‌‘বন্যার পানিতে তলিয়ে’ আছে চিনি ছি*নতাই মামলার অগ্রগতি

 

স্টাফ রিপোর্টার:

 

বিয়ানীবাজার উপজেলায় ছাত্রলীগের চিনি ছিনতাইয়ের ঘটনা এখন বহুল আলোচিত এক বিষয়। লুটের চিনি ভাগাভাগি করতে ছাত্রলীগ নেতাদের ফোনালাপ ও জড়িতদের নাম প্রকাশ হওয়ায় কেন্দ্র থেকে কমিটি বিলুপ্তির পর ছাত্রলীগ নেতাদের ধরপাকড়ের মধ্যে একের পর এক চোরাই চিনি লুটের ‘ধামাচাপা’ দেওয়া ঘটনা বের হচ্ছে। এ নিয়ে থানায় মামলা পর্যন্ত হলেও ধামাচাপা দিতে পুলিশ ও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠছে।

বিয়ানীবাজারে চাঞ্চল্যকর চিনি ছিনতাই কান্ডে দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছে। এ মামলায় গ্রেফতার চার আসামীর মধ্যে দু’জনকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে তেমন কোন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। জেলহাজতে থাকা অপর দু’জন উপজেলা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক তাহমিদ ও পৌর ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি আশরাফুল আলম সাকেলকে রিমান্ডে আনার অনুমতি দেননি আদালত। এমনকি তাদেরকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতিও মিলেনি। ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটর সাইকেল কিংবা প্রাইভেট কারও জব্দ করা সম্ভব হয়নি।

 

চিনি ছিনতাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শাহজাদা ফয়সল জানান, তাহমিদ ও সাকেলকে রিমান্ডে আনার অনুমতি পাওয়া যায়নি। গ্রেফতারকৃত মো: লিটন মিয়া (২৬) ও হাসান (২১) কে রিমান্ডে আনলেও তেমন কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, আসলে বন্যার কারনে অনেক স্থানেই অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছেনা। তবে আমরা মামলার তদন্ত কার্যক্রম অনেক এগিয়ে এনেছি। পুলিশ জানায়, ছিনতাই ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে ৮০ বস্তা চিনি, একটি পিকআপ (ঢাকামেট্রো-ঠ ১১০৭০৯) উদ্ধার ও মোট চার আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

জানা যায়, বিয়ানীবাজারে চাঞ্চল্যকর চিনি ছিনতাই কান্ডে জড়িত হিসেবে নাম এসেছে উপজেলা, পৌর ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক-বর্তমান নেতাদের। ছিনতাই পরবর্তী কে কত বস্তা চিনি নিয়েছেন, তাও অডিও রেকর্ডে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনা থেকে রেহাই পেতে একজন অপরজনের সহায়তা চেয়ে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন। কিভাবে মামলা থেকে বাঁচা যায়, তাও তাদের আলোচনায় স্থান পেয়েছে। ঘটনায় জড়িত ছাত্রলীগ নেতাদের নিজেদের কথোপকতনে ওঠে এসেছে সংশ্লিষ্ট অনেকের নাম। নিজেদের মধ্যে আলোচনায় সাগর, তাহমিদ, মুন্না, জুনেদ, সাব্বির, রুবেল, সালা উদ্দিন, সাকেল, রাসেল, নাবিলসহ চিনি ভাগাভাগিতে কারা ছিলেন তাদের নাম প্রকাশ পেয়েছে। কথোপকতনের এক সময় একজন অন্যজনের কাছে বলছেন-‘ছোট গাড়ি অইলে খাইলিলে অসুবিধা আছিলনা। বড় গাড়ি হওয়ায় সমস্যা অই গেছে। তাছাড়া সিএনজি ফোরষ্ট্রোকে বোঝাই করে চিনি নিয়ে যায় ছাত্রলীগ কর্মীরা।’

 

চিনির মালিক বদরুল ইসলাম ভিডিও ফুটেজ এবং কথোপকতনে যাদের নাম এসেছে তাদের সবাইকে গ্রেফতার করার দাবী জানান। তিনি অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পর তাকে খুন করার হুমকি দেয়া হচ্ছে। তিনি অবিলম্বে আত্মস্বীকৃত ছিনতাইকারীদের গ্রেফতার করতে পুলিশের কাছে দাবী করেন।

 

সূত্র জানায়, সরকারের বিধি অনুযায়ী বিভিন্ন স্থান থেকে ১৪৭৭ বস্তা চিনি নিলামের মাধ্যমে ক্রয় করেন বদরুল ইসলাম। ওই চিনি থেকে ৪শ’ বস্তা চিনি তিনি জনৈক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেন। গত ৮ জুন শনিবার দুপুরে একটি ট্রাক বোঝাই করে বিক্রিত চিনি অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার সময় ঘটনাস্থলে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে। ১৫-১৬ জনের ছিনতাইকারী চক্র একটি প্রাইভেট কার, ৪টি মোটর সাইকেল এবং একটি পিকআপ নিয়ে চিনি বোঝাই ট্রাকের গতিরোধ করে। ছিনতাই হওয়া চিনির বাজার মূল্য প্রায় ২৪ লাখ টাকা।

 

জানা গেছে, সীমান্ত উপজেলা বিয়ানীবাজারের একাংশে রয়েছে ভারতের আসাম রাজ্য। আসাম থেকে চোরাই চিনি আসে বিয়ানীবাজারে। অভিযোগ রয়েছে, চোরাই চিনির ‘লাইন’ থেকে রোজগার করা টাকায় চিনি ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটি ক্রয় করা হয়েছে।

বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দেবদুলাল ধর জানান, বিভিন্ন মাধ্যম থেকে যাদের নাম আসছে, সবক’টি নাম আমরা নোট করছি। সবাইকে নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন।