প্রকাশনার ১৫ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২০শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
৫ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
১৪ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

বিব্রত-বিচলিত মনিয়া

admin
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২, ২০১৯, ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ
বিব্রত-বিচলিত মনিয়া

স্টাফ রিপোর্টার:
ষাটের দশক থেকে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে জড়িত তিনি। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামীলীগের কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হন। এরপর সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর সভাপতি ছিলেন দীর্ঘ ১৬ বছর। গত মাসে দলের আভ্যন্তরীণ ভোট এবং বৃহৎ কূটচালে পরাজিত হয়ে আওয়ামী রাজনীতির পতাকা অন্যের হাতে তুলে দেন তিনি। পরাজয়ের অনুসন্ধানে নিয়ত নানাযুক্তি তাঁর সামনে উপস্থাপন হলেও বড় কারণ হিসেবে ‘ঘরের শত্রæ’কে বিবেচনায় নিচ্ছেন তিনি। এই বিষয়টি তাঁকে খুব বেদনার্ত করেছে। তাঁর হাত ধরে যেসব কর্মী আজ বড় নেতা হয়েছেন, তাদের কারণে সভাপতির পদ থেকে ছিটকে পড়ে বিচলিত-বিব্রত আব্দুল হাছিব মনিয়া।

উপজেলা পর্যায়ে দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন থাকাকালে একাধিকবার জনপ্রতিনিধি হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি। কিন্তু বারংবার তাকেঁ পিছিয়ে যেতে হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে বিয়ানীবাজার উপজেলায় দলটির নেতৃত্ব দিলেও গ্রæপিং-কোন্দলকে তিনি কখনো প্রশ্রয় দেননি। একজন সজ্জন রাজনীতিক হিসেবে সকলমহলে তিনি গ্রহণযোগ্য। আমেরিকার আয়েশী জীবন ছেড়ে দেশে পড়েছিলেন শুধু রাজনীতি আর সাধারণ মানুষকে ভালোবেসে। দল এবং পদের অপব্যবহার করে উপরে ওঠতে চাননি তিনি। গত ১লা ডিসেম্বর জনাব মনিয়ার জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁকে অনেকেই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। জেলা আওয়ামীলীগের আসন্ন পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে হয়তো তাঁকে সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত করা হতে পারে।

এদিকে গত মাসে অনুষ্টিত বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামীলীগের কাউন্সিলের আগের দিন পর্যন্ত সর্বত্র আব্দুল হাছিব মনিয়া সভাপতি পদে পুণ:নির্বাচিত হবেন বলে শোর ওঠে। কিন্তু গভীর রাতে সব ওলটপালট হয়ে যায়। আঞ্চলিক রাজনীতির ভারসাম্য এবং জেলার রাজনীতির সাথে জড়িত কয়েকনেতার কুটচালে তছনছ হয়ে যায় মনিয়ার সাজানো বাগান। আওয়ামীলীগের বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, আগের দিন গোলাপগঞ্জ উপজেলার কাউন্সিলকে ঘিরে বেকায়দায় পড়েন কেন্দ্র এবং জেলার নেতারা। রাজপথে অবরোধ করে কেন্দ্রীয় এবং জেলার নেতাদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করা হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়, যাতে বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামীলীগের কাউন্সিলে মহলবিশেষের কুটচাল বাস্তবায়ন করতে যেন অসুবিধা না হয়। রাতেই সিলেট সার্কিট হাউসে দফায়-দফায় বৈঠক করেন জেলা এবং কেন্দ্রীয় নেতারা।

উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে গোলাপগঞ্জের চিত্র তুলে ধরা হয়। রাত ১০টার সিদ্ধান্ত হয় সরাসরি কাউন্সিলারদের ভোটে নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে। এগারোটার পর পাল্টে যায় দৃশ্যপট। জেলার রাজনীতির সাথে জড়িত কয়েকনেতা ফোন করেন তৃণমূলের কাউন্সিলারদের। তারা কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে আঞ্চলিক রাজনীতির ভারসাম্যের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেন। সার্কিট হাউসে জেলার কোটায় নির্ধারিত ১৫ কাউন্সিলারের একপেশে তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। যা সরলমনে মেনে নেন আব্দুল হাছিব মনিয়া।

আব্দুল হাছিব মনিয়ার অনুসারী এক কাউন্সিলার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিয়ানীবাজারে কমিটি গঠনে কাউন্সিল হয়েছে ঠিকই। তবে কোন টুর্ণামেন্টে কমিটির টিম খেললে যে পরিস্থিতি হয়-তাই হয়েছে। উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আহাদ কলা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আব্দুল হাছিব মনিয়ার পরাজয়ের কারণ ঘরের শত্রæ বিভিষন। তবে এটা রাজনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হয়ে গেছে। তাছাড়া পূর্ব নির্ধারিত তারিখ পিছিয়ে দিয়ে মনিয়ার পরাজয়ের রাস্থা আগেই তৈরী করে রাখা হয়। তিনি আরো বলেন, যে সকল নতুন নেতা জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করবেন বলে মাঠ সাজাতে চাইছেন, তারা একসময় বেদনায় কাঁদবেন।

স্থানীয় সিনিয়র সাংবাদিক হাসানুল হক উজ্জল মনে করেন, দীর্ঘদিন থেকে রাজনীতি করলেও নিজস্ব কর্মী বাহিনী না থাকাই মনিয়ার পরাজয়ের কারণ। একই বিষয়ে অবশ্য উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রুকসানা বেগম লিমা কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর আরেক কাউন্সিলারের মতে, সভাপতি পদে জেলার একজন নেতার ইন্ধনে চারখাই ইউপি চেয়ারম্যান মাহমদ আলী প্রার্থী হন। কাউন্সিলের পূর্ব পর্যন্ত মাহমদ আলী চারখাইসহ অপর আরেকটি ইউনিয়নের কাউন্সিলারদের ভোট নিয়ন্ত্রণে রাখেন। পরবর্তীতে আকস্মিক প্রতিদ্বন্ধিতা থেকে তার সরে দাঁড়ানো মনিয়ার পরাজয়কে তরাণি¦ত করে।
অপর আরেক সূত্রের দাবী, কাউন্সিলের তারিখ পিছিয়ে দেয়ার পর মুক্তিযুদ্ধে আব্দুল হাছিব মনিয়ার ভূমিকা নিয়ে রহস্যজনক অপপ্রচার শুরু হয়। বিভ্রান্তিমূলক একটি তথ্যের রেশ কাটাতে বেশ ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। আর এই সুযোগে প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী মাঠ গুছিয়ে ফেলেন।

এ বিষয়ে আব্দুল হাছিব মনিয়া জানান, আমার নেতৃত্বকালীন সময়ে বিয়ানীবাজার আওয়ামীলীগে কোন কোন্দল ছিলনা। আমি দলকে শক্তিশালী করতে কাজ করেছি। অসংখ্য কাউন্সিলাররা আমাকে ভোট দিয়ে সম্মান করেছেন। আর যারা ভোট দেয়নি তাদের হয়তো মন জয় করতে পারিনি। তারমতে, রাজনীতির জঠিল হিসাব তিনি সবসময় সহজভাবে নিয়েছেন। এই সারল্যকে পূঁিজ করে রাজনীতির পতাকা হাত বদলে যদি মহল বিশেষ ষড়যন্ত্র করে, তাতে দু:খ পাওয়ার কিছু নেই। তিনি অভিযোগ করেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে তার কোন মতামত নেয়া হয়নি। রাজনীতি যদি এমন হয়, তবে এটা দু:খজনক।

সংবাদটি শেয়ার করুন।