প্রকাশনার ১৫ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
৭ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

বিজেপি ‘দুর্বল’ হলেও বাংলাদেশনীতি বদলাবে না

admin
প্রকাশিত
বিজেপি ‘দুর্বল’ হলেও বাংলাদেশনীতি বদলাবে না

 

প্রজন্ম ডেস্ক:

 

একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় বিজেপি সরকারকে এবার শরিকদের ওপর নির্ভর করে চলতে হবে। তাই গত এক দশকে যে বিজেপি তথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কর্তৃত্ব দেখা গেছে, এই মেয়াদে সেটা থাকবে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

তৃতীয় মেয়াদের জন্য রবিবার (৯ জুন) শপথ নিচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি। বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতে জোট সরকারের ভবিষ্যৎ ভালো হয় না। অতীতের জোট সরকারগুলো মেয়াদই পূর্ণ করতে পারেনি। কাজেই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আগের দুই মেয়াদের মতো স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না বিজেপি সরকার। শরিকদের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।

 

ভারতের গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, জোটের রাজনীতির চ্যালেঞ্জের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির যাত্রা গত এক দশকের মতো মসৃণ না হলেও দেশটির বৈদেশিক নীতিতে তা খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না। ২০১৪ সালে মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকে নয়াদিল্লি ভারতের পররাষ্ট্রনীতির একটি মূল উপাদান হিসেবে ‘প্রতিবেশীই প্রথম’ নীতি গ্রহণ করে। এই নীতি অনুযায়ী দেশটির এ অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে তার সম্পর্ক মেরামত এবং জোরদার করার দিকে মনোনিবেশ করেছে।

 

বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘নয়াদিল্লি ও ঢাকা উভয়েরই নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রয়েছে। বাংলাদেশের বিষয়ে কোনো উল্লেখযোগ্য নীতিগত পরিবর্তন হবে না। কারণ মোদির শরিকরা নিজেদের রাজ্যকেন্দ্রিক চিন্তা করেন, পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে নয়।’

 

বাংলাদেশ বিশেষজ্ঞ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ সম্প্রতি ফ্রন্টলাইন ম্যাগাজিনকে বলেন, ‘কোনো কিছুই মোদিকে তার পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাধা দেবে না। কারণ ভারতীয় সংস্থাগুলো সরকারের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে। ভারতকে একটি উদীয়মান বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরার বিষয়ে বিজেপি এবং বিরোধী দলগুলোর মধ্যে খুব বেশি মতবিরোধ নেই।’

 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে অন্য কোনো দেশের সঙ্গে তুলনা করা চলে না। দুই দেশ রক্তের সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ। আগামীতে এই সম্পর্ক আরও উন্নত করব।’

 

আজ রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারপর শিগগিরই ‘সুবিধাজনক সময়ে’ প্রধানমন্ত্রীর আরেকটি দ্বিপক্ষীয় সফর অনুষ্ঠিত হবে। সেই সফরে বেশ কয়েকটি সমঝোতা ও চুক্তি সই হতে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন।

 

চলছে নানা আলোচনা

 

তৃতীয় মেয়াদে বিজেপি জোট জয়ী হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশে নানা ধারনের আলোচনা-বিশ্লেষণ চলছে। বিশেষ করে বিগত দিনগুলোতে আওয়ামী লীগ সরকার যেভাবে ভারতের সমর্থন পাচ্ছিল, সেটা অব্যাহত থাকবে কি না, তা নিয়ে অনেকের মধ্যে আগ্রহ ও কৌতূহল দেখা গেছে।

 

অন্যদিকে ভারত যেন কোনো বিশেষ দল নয়, বাংলাদেশের জনগণের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেয়- তেমনটা প্রত্যাশা করছে বিএনপি। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, ‘ভারত গণতান্ত্রিক ধারার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে নির্বাচনের মাধ্যমে। অন্য দেশেও এ ধরনের গণতান্ত্রিক চর্চা ও জনমতের ইচ্ছার প্রতি তারা শ্রদ্ধা দেখাবে, সেটাই আমরা আশা করি।’

 

চলতি বছরের মার্চে ‘বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক: প্রতিবেশীর জন্য কী রোল মডেল?’ শীর্ষক এক জনবক্তৃতায় সাবেক পররাষ্ট্রসচিব বলেছিলেন, ‘ভারত জোরালোভাবে চায়নি তাই ব্রিকসে বাংলাদেশ সদস্য হতে পারেনি বলে বাংলাদেশের জনগণের একটা অংশ মনে করে। আর বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের ভূমিকা বা হস্তক্ষেপ তো কারও অজানা নয়। ২০১৪ সালের নির্বাচনে ভারত সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছিল। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও ভারতের যুক্ততা আছে বলে লোকজনের একাংশ সন্দেহ করে। আর ২০২৪ সালেও ভারত জোরালোভাবে পাশে থেকেছে বলে সরকার নির্বাচন করতে পেরেছে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন।