প্রকাশনার ১৫ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
৭ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

বারকাউন্সিল ও বারএসোসিয়েশন কর্তৃক আর্থিক সকল অনুদান জীবদ্দশায় প্রদান করা হউক”

admin
প্রকাশিত
বারকাউন্সিল ও বারএসোসিয়েশন কর্তৃক আর্থিক সকল অনুদান জীবদ্দশায় প্রদান করা হউক”

এডভোকেট মোঃ আমার উদ্দিন:
সিলেট জেলা আইনজীবি সমিতি ও বাংলাদেশ বারকাউন্সিলের সদস্য হয়েছি প্রায় ২৩ বৎসর। প্রশিক্ষন নিয়েছি প্রায় তিন মাস কাল। প্রশিক্ষক ছিলেন খ্যাতনামা সিনিয়র আইনজীবি ও বিচারপ্রতি বৃন্দ। সার্বিক ব্যবস্থায় ছিলেন বাংলাদেশ বারকাউন্সিল কর্তৃপক্ষ। সকল প্রশিক্ষকই বলেছেন, লার্নেড বা বিজ্ঞকৌশলী একমাত্র আইনজীবি পেশার সাথে সম্মান সূচক যুক্ত করা হইয়াছে।

অন্য কোন পেশায় এ উপাধী ব্যবহারের সুযোগ নাই। এককথায় বলা চলে, আইনজীবিগন নভেল প্রফেশনের অধিকারী। আর কেনই বা এ উপাধীর অধিকারী হবেন না?

সংবিধানিক ভাবে রাষ্ট্রের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে, ৩টি বিভাগের মাধ্যমে। ১। আইন বিভাগ ২। শাসন বিভাগ ৩। বিচার বিভাগ। বিচার বিভাগ সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে না পারলে, অন্য কোন বিভাগই যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। রাষ্ট্র যখন কোন ক্রান্তিকালীন সময় অতিবাহিত করে তখন বিচার বিভাগের সহযোগীতা কামনা করেন। বিচার বিভাগ যখন কোন বিষয়ে বিব্রতবোধ করেন, তখন রাষ্ট্রের বিজ্ঞ সিনিয়র আইনজীবিদের সহযোগীতা নিয়ে থাকেন বিচার বিভাগ। বিজ্ঞ সিনিয়র আইনজীবিদের বলা হয় “ত্রমিকাস কিউরী”। বার এবং বেঞ্চের সহযোগীতায় বিচার বিভাগ পরিচালিত হয়। বেশীরভাগ বিচারপতি সর্বোচ্ছ আদালত সুপ্রীম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগে নিয়োগ পেয়ে থাকেন বিজ্ঞ আইনজীবিগনই।

সুতরাং বুঝতে বাকী নেই আইনজীবি পেশাটি কত সম্মানজনক। বার এবং বেঞ্চ না থাকলে কোন আদালতই পরিচালিত হওয়া সম্ভব নহে। যখনই বিচার বিভাগে মানুষ ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হবে, তখন রাষ্ট্রের অন্যান্য কাঠামো ভেঙ্গে পড়তে বাধ্য।

মূল কথায় চলে আসি। বিজ্ঞআইনজীবিগনের কোন নির্দিষ্ট বেতন ভাতা নেই। সকালে বাসা থেকে আদালতে আসার সময় শূণ্য হাতে কোন টাকা নিয়ে আসেন না। আদালত থেকে যাওয়ার সময় কেহ ২০/৩০ হাজার টাকা, আবার কেহ নাই বললেই চলে।

একদিন ২০/৩০ হাজার আবার অন্যদিন নাও পেতে পারেন। এটিই নিয়তি। বিজ্ঞকৌশলীগনের যেহেতু নির্দিষ্ট বেতন ভাতা নেই, সেহেতু তাহার আয়ের পরিধিও সীমিত নহে। বিজ্ঞআইনজীবিগনের লেনদেন হয় প্রকাশ্যে আলোচনা সাপেক্ষে যা অন্য কোন পেশায় পরিলক্ষিত হয় না। ফাইল আটকিয়ে কর্মকর্তাগন টাকা নিয়ে থাকেন যাহা ঘোষ হিসাবে গণ্য করা হ। এক্ষেত্রে আইজীবিগনের এ ধরনের কোন সুযোগ নেই। কর্মকর্তাগনের বেতন নির্দিষ্ট। এই নির্দিষ্ট টাকার উপরে যাহা কিছু বলে আয় করেন না কেন তা কিন্তু ঘোষ? তবে বিজ্ঞকৌশলীগন যে শতভাগ সৎপথে টাকা আয় করেন তা কিন্তু বলা যাবে না। কারণ দৃশ্যতঃ অনেক বিজ্ঞকৌশলী, মক্কেলকে মিথ্যা আশ^াস দিয়ে, নিয়মবহির্ভুতভাবে টাকা নিয়ে মক্কেলের কাজ করেন না। সেই টাকা বিজ্ঞকৌশলী বা অন্যকোন পেশার লোকজন মনে করতে পারেন এই লেনদেনের টাকা তো কেহ দেখে নাই? যদি আস্থিক হন, তাহলে মনে রাখতে হবে বিনা বেতনে আল্লাহ প্রদত্ত দুইজন ফেরেশতা সার্বক্ষনিক দায়িত্ব পালন করে থাকেন আমলনামা লিপিবদ্ধ করার জন্য।

সুতরাং গোপন বলতে কিছু নেই। কিন্তু বিজ্ঞআইনজীবিগন দিন শেষে বড় আসহায়। যেমন: প্রতিটি পেশায় অবসর গ্রহনের বাধ্যবাধকতা ভাতা চালু আছে। কিন্তু আইনজীবিগন কি.এ সুযোগ ভোগ করার অধিকার নেই? ৬০/৬৫ বৎসর বয়স হয়ে গেলে বাংলাদেশ বারকাউন্সিল ও বারএসোসিয়েশন কর্তৃক আবসর প্রহনের বাধ্যাবাধকতা কি করা যায় না? তাদের সঞ্চয়ক্রিত যে তহবিল আছে, সেই তহবিল থেকে এককালীন আবসর ভাতা তাহার জীবদ্দশায় তার নিকট প্রদান করা কি যায় না? কেননা ৬০/৬৫ বৎসর হয়ে গেলে বিজ্ঞআইজীবি অনেকক্ষেত্রে মানবেতর জীবন যাপন করেন। অনেকে হয়ত আত্মমর্যাদার কারনে বারকাউন্সিল বা বারএসোসিয়েশন বিদ্যমান বাস্থবতা অনুধাবন করা সময়ের দাবি। কিন্তু সঞ্চয়কৃত টাকা থাকতে অনূকম্পা বা দয়া হিসাবে কেন সামান্য টাকা অনুনয় করে গ্র্রহন করিবেন। সেটা কিন্তু মেনে নেওয়া যায় না। ছেলে মেয়ে এ বয়সের পিতা মাতা কে বোঝা হিসাবে মনে করে। যদিও সকলের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নহে। অবসর ঘোষনার পর শুধু বারের সদস্য হিসাবে শারিরিক সক্ষমতা থাকলে বিজ্ঞআইনজীবি পেশা চালিয়ে যেতে পারেন। কিন্তু বারকাউন্সিল বা বারএসেসিয়েশন থাকে আর্থিক ফান্ড আছে বা সেই ফান্ডের সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। কেননা তিনি অবসর।

বর্তমানে যে অনুদান প্রদান করা হয় বিজ্ঞ আইনজীবির মৃত্যুর পর। আইনজীবি মৃত্যুবরন করলেন অনাহারে, দুঃখে দুঃখে, সাধারন জনগনের করুনা নিয়ে। কোন আইনজীবিই চাইবেন না, তার পারিবারিক সমস্যা বন্ধু মহল জানুক। কি কষ্ট? যাহারা জীবদ্দশায় কতনা যন্ত্রনা দিল, তাহারাই উত্তরাধীকারী আইনের সকল সুযোগ সুবিধা বিজ্ঞআইনজীবির সঞ্চয়কৃত ভোগ ও ব্যবহার করলেন। সেটা কিন্তু মেনে নেওয়া যায় না। প্রতিটি মানুষেরই শারিরিক সক্ষমতা ৬০/৬৫ বৎসর পর শেষ হয়ে যায়।

সুতরাং বাংলাদেশ বারকাউন্সিল ও বারএসোসিয়েশন তাদের নিজস্ব প্রক্রিয়ায় আইন প্রনয়ন করার বিষয়টি ভেবে দেখতে পারেন। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় আইনে সকল পেশার কর্মজীবিদের অবসর কালীন সময় নির্ধারিত। তাদের অবসর কালীন সময়ে তাদেরই সঞ্চয়কৃত টাকা নিজ হাতে নিলে কি না আনন্দ? কেননা প্রতিটি মানুষই এই বয়স হয়ে গেলে বিভিন্ন রোগশোকে ভোগেন। শিশু সুলভ আচরন করেন। ব্যতিক্রম শুধু বিজ্ঞ আইনজীবিদের পেশায়। এই পেশায় ও নির্দিষ্ট একটি টাকা প্রদানের ব্যবস্থা আছে। তবে পেশাজীবির মৃত্যুর পর! সেটা কি নির্মম….??
লেখক, সভাপতি- সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বিয়ানীবাজার, সিলেট।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন।