প্রকাশনার ১৫ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২৫শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
১০ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
১৯শে মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

বাজেটের প্রভাব দেখার অপেক্ষায় খুচরা বাজার

admin
প্রকাশিত জুন ৮, ২০২৪, ০৪:৪৪ অপরাহ্ণ
বাজেটের প্রভাব দেখার অপেক্ষায় খুচরা বাজার

 

প্রজন্ম ডেস্ক:

 

প্রস্তাবিত বাজেটে ৩০টি নিত্যপণ্যের উৎসে কর ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ অর্থাৎ অর্ধেক হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। আবার কিছু পণ্যের দাম কমার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। আমদানীকৃত কিছু পণ্যের দাম বাড়বে বলেও বাজেটে প্রস্তাব করা হয়েছে।

এসব ব্যাপারে বাজারে খোঁজ নিলে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, ‘কিসের বাজেট? যা বাড়ার আগেই তো বেড়ে গেছে। কোরবানির ঈদ আসতে এখনো ১০ দিন বাকি। তার পরও এলাচের কেজি ৪ হাজার টাকা। গোলমরিচ হাজার ছাড়িয়েছে। পেঁয়াজ, আদা, রসুন, মরিচের দামও চড়া।’

বিক্রেতারা বলছেন, কোনো জিনিসের দাম কমলেও গোড়া থেকে খুচরা পর্যায়ে আসতে সময় লাগবে। তারপর কম দামে বিক্রি করা যাবে। গতকাল শুক্রবার বিভিন্ন বাজার ঘুরে সংশ্লিষ্ট বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

 

বাজেটে কাজুবাদামে ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক ও ১০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। তার পরও এর দাম বাড়েনি। মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজারের লিটন বাণিজ্যালয়ের পলাশ বলেন, ‘আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে কাজুবাদাম, ৮০০ টাকা কেজি। এলাচ ৩ হাজার ২০০ থেকে ৪ হাজার টাকা কেজি। গোলমরিচ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা, দারুচিনি ৫৪০ টাকা। লবঙ্গ ১ হাজার ৬০০ টাকা ও জিরার কেজি ৭০০-৮০০ টাকা। এভাবে সব মসলাই আগের মতো দামে বিক্রি করা হচ্ছে। গোড়ায় কমলে বা বাড়লে তখন আমাদের কম বা বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। আমরা মৌলভীবাজার থেকে এসব পণ্য কিনে কিছু লাভে বিক্রি করি। সেখানে আগের দামই আছে। আগের দামেই বিক্রি করছি বিভিন্ন মসলা।’

 

বাজেটে আইসক্রিমে সম্পূরক শুল্ক ৫ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ অর্থাৎ দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করা হলেও বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, দাম বাড়েনি। টাউন হল বাজারের নিউ মুসলিম সুইটসের তৌহিদ বলেন, আগের দামেই বিভিন্ন কোম্পানির আইসক্রিম বিক্রি করা হচ্ছে। আজকে বেকারির কোনো আইটেমের দাম বাড়েনি। বাজেটে জুসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হলেও বাস্তবে বাড়েনি বলে সিঙ্গাপুর জুসের ম্যানেজার জনি জানান। বিক্রেতারা বলেন, কিছুদিন আগে ডলারের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রায় জিনিসের দাম বেড়ে গেছে। নতুন করে আবার কীভাবে বাড়বে?

 

বাজেটে উৎসে কর কমিয়ে নিত্যপণ্যের দাম কমারও প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু আগের দামে বিক্রি করা হচ্ছে এসব পণ্য। বিসমিল্লাহ স্টোরের তৌফিক বলেন, বোতলজাত সয়াবিন তেলের লিটার ১৬৭ টাকা ও পাঁচ লিটার ৭৯০-৮০০ টাকা, দুই কেজি আটা ১১০ টাকা কেজি, বেসন ১২০, খোলা চিনি ১৩০, প্যাকেট চিনি ১৩৫ টাকা, ডাল ১৩৫ টাকা কেজি, শুকনা মরিচের কেজি ৪৫০-৫০০ টাকা।

 

বিক্রেতারা বলছেন, পেঁয়াজ ৮৫ টাকা। তবে তিন দিন আগে একটু বেশি ছিল। দামের ব্যাপারে টাউন হল বাজারের শফিকুল খবরের কাগজকে বলেন, বুধবার ৮৫-৯০ টাকা কেজি বিক্রি করা হলেও গতকাল ৮০-৮৫ টাকায় নেমেছে।

 

নিত্যপণ্যে বাজেটে উৎসে কর কমার কথা প্রস্তাব করা হলেও বাজারে তার প্রভাব দেখা যায়নি। কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসায় দাম কমছে না। কারওয়ান বাজারের এরশাদ জানান, আদা, রসুন, মসলার দামও চড়া। আগের মতোই রসুন ২৩০-২৪০ টাকা কেজি। ভারতের কেরালার আদার কেজি ২৯০-৩০০ টাকা। আদা ২৮০ টাকা ও চায়না আদা ২২০-২৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

 

আলুর দাম লাগামহীন হয়ে যাচ্ছে। দেশে পর্যাপ্ত উৎপাদন হলেও বেড়েই যাচ্ছে দাম। বাজেটে উৎসে কর কমানোর কথা বলা হলেও বিক্রেতারা বলছেন, ‘দেশের আলুর দামই বেশি। টাউন হল বাজারের রফিক বলেন, কয়েক দিন ধরে আলু ৬০ টাকা কেজি। তবে গোল লাল আলুর দাম আরও বেশি, ৭০ টাকা কেজি। ভারতের আলু না আসায় কমছে না দাম। আড়তেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে আমাদের।’

 

অন্য নিত্যপণ্যের মতো মাংসের দামেও প্রভাব পড়েনি। বাজারে দেখা গেছে, বিক্রেতারা আগের দামেই মুরগি বিক্রি করছেন। বৃহস্পতিবার পোলট্রি মুরগি ১৯০-২০০ কেজি ছিল। গতকালও সেই দামেই বিক্রি করা হয়েছে বলে খুচরা বিক্রেতারা জানান। টাউন হল বাজারের পোলট্রি হাউসের বেল্লাল বলেন, সামনে ঈদ। চাহিদা কমে গেছে। সোনালি মুরগি ৩০০-৩২০ টাকা কেজিতে বিক্রি করা হচ্ছে। দেশি মুরগির দামও কমে ৬৫০ টাকায় নেমেছে। অন্যান্য বিক্রেতাও বলেন, ঈদ ঘনিয়ে আসায় হঠাৎ মুরগির দাম কমে গেছে। গরুর মাংস আগের মতোই ৭৫০ টাকা, খাসি ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি। মাংস বিক্রেতারা জানান, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে চাহিদা কম। এ জন্য দামও কম।

 

ডিমের বাজারেও বাজেটের প্রভাব পড়েনি। বিক্রেতারা জানান, ডিম ৫০ টাকা হালি, ডজন ১৫০ টাকা। তবে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ১৫৫-১৬০ ডজন বিক্রি করা হচ্ছে। চালের দাম আগের মতোই বলে ব্যবসায়ীরা জানান। মিনিকেট ৬৮-৭০ টাকা, আটাশ ৫৩-৫৫ টাকা ও মোটা চাল ৫২-৫৫ টাকা কেজি।

সংবাদটি শেয়ার করুন।