প্রকাশনার ১৫ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২৪শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
১০ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
১৮ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতা নির্বাচন আদৌ কি কাউন্সিলরদের ভোটে হবে ?

admin
প্রকাশিত
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতা নির্বাচন আদৌ কি কাউন্সিলরদের ভোটে হবে ?

Exif_JPEG_420

বাংলাদেশের সংবিধানের ৭নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে ‘প্রজাতন্ত্রের মালিক হচ্ছেন জনগণ’। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে সরকার গঠিত হবে। সেটাই স্বাভাবিক। সেটা কি হচ্ছে ? সোজা উত্তর, না। জনগণ সে অধিকার থেকে বঞ্চিত।

প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের গঠনতন্ত্র আছে। গঠনতন্ত্রে গণতান্ত্রিকভাবে নেতা নির্বাচনের ব্যবস্থা লিপিবদ্ধ আছে। বাস্তবে সেটা কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ। নেতা নির্বাচনে কাউন্সিলর বা ডেলিগেট হিসাবে তাদের পছন্দের নেতাকে প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করার চেষ্টা করেন ।

কিন্তু সে কাউন্সিলে কাউন্সিলরদের ভোটের কোন অধিকার নাও থাকতে পারে। বিশেষ ব্যক্তির আশির্বাদ থাকলেই নেতা হওয়া যায়। গঠনতন্ত্রের তোয়াক্কা অনেক ক্ষেত্রে অনুপস্থিত।

বাংলাদেশে আওয়ামীলীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন হচ্ছে। নিশ্চয়ই ডেলিগেট বা কাউন্সিলররা আনন্দে উদ্বেলিত। তারা তাদের নেতা নির্বাচনের সুযোগ পাবেন। ভালো, সৎ, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা নির্বাচন করবেন। কিন্তু কাউন্সিলরদের কি সে সুযোগ দেওয়া হবে ? না, কিছুতেই না।

২০১৬ সালের বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সম্মেলন হয়ে গেল। ঢাকা শহর বর্ণিল সাজে সাজল। কাউন্সিলররা অভিজাত হোটেল, রেস্তোরাতে যার যার মতো অবস্থান করলেন। সম্মেলনে উপস্থিত হলেন।

স্বাগত বক্তব্য সহ অনেক দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য শুনলেন কাউন্সিলররা। হাত তালি দিলেন। সম্মেলনের প্রথম পর্বের সমাপ্তি হলো।

২য় পর্বের শুরুতে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির প্রভাবশালী কোন একনেতা প্রস্তাব দিলেন সভাপতি হিসাবে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনাকে মনোনয়নের জন্য প্রস্তাব দিলাম। কন্ঠভোটে সে প্রস্তাব গৃহিত হলো এবং পাশ হলো। সভাপতি নির্বাচিত হয়ে গেলেন। অন্যকেহ প্রার্থী হওয়ার মতো দুঃসাহস অন্তত পক্ষে বাংলাদেশে নেই।

সেখানে আমার কোন প্রশ্ন নেই ? আমার প্রশ্ন হচ্ছে দলের সাধারণ সম্পাদক সহ সকল সম্পাদকীয় পদে কাউন্সিলররা প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে সে পদগুলা নির্বাচিত করার সুযোগ পেলে একদিকে যেমন কাউন্সিলররা উৎসাহিত হবেন, নেতা নির্বাচনের সুযোগ পেয়ে, অন্যদিকে কর্মীরা হবেন আরো সুসংহত।

কিন্তু বাস্তবে তাদেরকে সে সুযোগ থেকে বঞ্চিত রাখা হয় কতিপয় নেতার কারসাজিতে। কণ্ঠভোটের মাধ্যমে সর্বময় ক্ষমতা দেওয়া হয় দলীয় প্রধানকে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের। সেখানে কাউন্সিলর হিসাবে কেন উপস্থিত হলাম, কেন হাজার টাকা খরচ করে, অনেক ত্যাগ শিকার করে, ঢাকায় এলাম ইত্যাদি নানা প্রশ্ন ?

কাউন্সিলররা নিজে নিজেদের মধ্যে প্রশ্ন করে হতাশ হয়ে বাড়ী ফিরলেন। কোন এক কাউন্সিলর রসিকতা করে বলেন, ‘ আরে সম্মেলন না এলে, এত সুন্দর সাজে সাজানো হয়েছে ঢাকা শহরকে। নেতা নেত্রীদের ব্যানার, ফেষ্টুন ঢাকার প্রবেশমুখ সহ অন্যান্য স্থানসমূহ সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। দেখার তো সে সুযোগ পেলাম।

প্রভাবশালী নেতাদের কাউন্সিলরের ২য় অধিবেশন থেকে কতিপয় নেতা-নেত্রীদের যোগসাজসে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে নির্বাহী কমিটি গঠনের ক্ষমতা নিয়ে অধিবেশনের সমাপ্তি করলেন। কাউন্সিল কাগজে কলমে সম্পূর্ণ হয়ে গেল। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের দায়িত্ব পেলের কতিপয় প্রভাবশালী নেতা-নেত্রী। এখন তাদের পিছনে হাটতে শুরু করলেন। কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পেতে এসব নেতাদের কিভাবে ম্যানেজ করা যায়। কিভাবে ম্যানেজ করবেন, কিভাবে লোভনীয় পদ লাভ করবেন, সেটা কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পাওয়া ব্যক্তির একান্ত নিজস্ব ব্যাপার।

এরপরও সমালোচকরা বলে থাকেন কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পেতে অনেকে অনেক ধরণের ইনভেস্ট করে থাকেন। সেখানেই আমার প্রশ্ন ? প্রভাবশালীরা কাউন্সিলের মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে, নেত্রীর দোহাই দিয়ে অবাধ বানিজ্য ও দূর্নীতির মাধ্যমে হাজার কোটি টাকা আদায় করে নিলেন, নিজের আখের গোছালেন, দলকে বিতর্কিত করলেন, বিতর্কিত ব্যক্তিদের দলীয় ফোরামে স্থান করে দিলেন।

কাউন্সিলররা কেন্দ্রীয় কমিটিতে বিতর্কিত লোকদের দেখে ফিস ফিস করে একে অপরকে বলতে শুরু করলেন, সে কোন দিন থেকে আওয়ামীলীগ বা সহযোগী সংগঠনের সদস্য হল। আর সেটাই হচ্ছে বাস্তবতা। প্রভাবশালী নেতাদের দাপটে এই সব ভুই ফোড় নেতাদের স্থান করে দিতে ত্যাগী নেতারা হন পদ বঞ্চিত, হতাশ। সে তো গেল কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের নমুনা।

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের উপজেলা, জেলা কমিটি গঠনের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় আগামী ৭ই নভেম্বর বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন তারিখ ধায্য করা হয়েছে। সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠিত হয়েছে। সম্মেলনে প্রধান অতিথি, বিশেষ অথিতি হিসাবে ইতিমধ্যে নির্বাচন করা হয়েছে। ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। পদ প্রত্যাশীরা ভোটারদের বাড়ী বাড়ী যাচ্ছেন। আত্মীয়তার যোগসূত্র খোঁজছেন। ম্যানেজ করার চেষ্টা করছেন। সেটা তো ভালো লক্ষন।

সম্মেলনের প্রধাণ অতিথি কাউন্সিলরদের প্রস্তাব দিবেন সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক হিসাবে কে কে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক। একই পদে একাধিক প্রার্থী হলে সমঝোতার প্রস্তাব দিবেন। এটাই স্বাভাবিক। সমঝোতা ব্যর্থ হলে প্রত্যক্ষ ভোটের ব্যবস্থা করবেন। উপজেলা পর্যায়ে কাউন্সিলর ৩৮০ জন। এরাই ভোটার। এই ৩৮০ জন তাদের প্রত্যক্ষ ভোটে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারলে প্রকৃত কর্মীবান্ধব নেতাই নির্বাচিত হবেন।

এখানে তো বিশৃংখলার কোন সুযোগ নেই। এই ৩৮০ জন ভোটারের ভোট নিতে সময় সর্বোচ্চ ২/৩ ঘণ্টার প্রয়োজন। সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির নেতৃবৃন্দ প্রস্তাবিত প্রার্থীদের কড়া শর্তের মাধ্যমে ভোটের ফলাফল ঘোষণার পূর্বেই স্বাক্ষর নিতে পারেন। ভোটারগণ যে রায় বা সিদ্ধান্ত দিবেন সেটা মাথা পেতে দলীয় আনুগত্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মেনে নিব।

যদি অমান্য করি বা আমার সমর্থকরা অমান্য করে তাহালে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠনতন্ত্রের বিধি মোতাবেক যে শাস্তি দিবেন, তাহা মানিয়া নিতে বাধ্য থাকিব, ইত্যাদি। শান্তিপূর্ণ সম্মেলন হয়ে গেলে কাউন্সিলররা হবেন উৎসাহিত, দল হবে উপকৃত, কর্মীরা হবেন সতেজ। সেখানে কোন গ্রæপিং থাকবে না।

নির্বাচিত দলীয় নেতৃবৃন্দ হবেন সকলের শ্রদ্ধার পাত্র। খোড়া যুক্তি উপস্থাপন করে কতিপয় নেতার স্বার্থ বিঘিœত হলে, কেন্দ্র ও জেলার দোহাই দিয়ে কাউন্সিলরদের অবমূল্যায়ন করে সম্মেলন স্থলে কমিটি ঘোষণা না করে, কেন্দ্র বা জেলা থেকে উপজেলা পর্যায়ের কোন কমিটি যেন চাপিয়ে দেওয়া না হয়।

কাউন্সিলরদের ভোট শেষ হওয়ার পর তাদের প্রত্যাশিত ফলাফল যাহাতে কতৃপক্ষ প্রকাশ্যে জনসম্মুখে প্রকাশ করলে দল হবে উপকৃত, কর্মী হবে শান্ত, কতৃপক্ষ হবেন প্রশংসিত। লেখকঃ সভাপতিÑসুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বিয়ানীবাজার।

সংবাদটি শেয়ার করুন।