প্রকাশনার ১৫ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২৪শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
১০ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
১৮ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

পূর্নাঙ্গ কমিটিতে পদপদবী নিয়ে অস্থির বিয়ানীবাজার আওয়ামীলীগ

admin
প্রকাশিত
পূর্নাঙ্গ কমিটিতে পদপদবী নিয়ে অস্থির  বিয়ানীবাজার আওয়ামীলীগ

মিলাদ জয়নুল :
দীর্ঘ ১৬ বছর পর গত ১৪ নভেম্বর বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামীলীগের কাউন্সিল সম্পন্ন হয়েছে। এতে কাউন্সিলারদের প্রত্যক্ষ ভোটে সভাপতি পদে আতাউর রহমান খান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে দেওয়ান মাকসুদুল ইসলাম আউয়াল নির্বাচিত হন। এদিন জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে সভাপতি-সম্পাদককে ৫ দিনের সময় বেঁেধ দেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেননি উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক।

এদিকে কাউন্সিলের পর থেকে পরাজিত প্রার্থীদের ক্ষোভ-অভিমান এবং নতুন কমিটিতে স্থান পাওয়া নিয়ে অস্থির হয়ে ওঠেছে বিয়ানীবাজার আওয়ামীলীগের রাজনীতি। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বলয়ের বাইরে থাকা নেতাকর্মীরা পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান পাবেন কিনা, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী দেওয়ান মাকসুদুল ইসলাম আউয়াল কাউন্সিলে সিনিয়র নেতাদের ধরাশায়ী করে বিজয়ী হওয়ায় তাদের কোথায় পদায়ন করা হবে, এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে আছে নানাপ্রশ্ন। এসব প্রশ্নের সমাধান পেতে সম্প্রতি আতাউর-আউয়াল জেলা নেতৃবৃন্দের সাথে দেখা করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে পরামর্শ চেয়েছেন। জেলার নেতাদের পরামর্শে বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটি গঠনে ‘হোমওয়ার্ক’ চললেও সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি কোন্দলের আগাম ভাবনাও পিছু ছাড়ছেনা সংশ্লিষ্টদের। কারণ গত কাউন্সিলে স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে আওয়ামীলীগের দূর্গ হিসেবে পরিচিত একটি শক্তিশালী এলাকা নেতৃত্বশূণ্য হয়েছে। আগামীতে পট পরিবর্তন হলে ওই এলাকা ছাড়া রাজপথের রাজনীতি অনেকটা কঠিন হবে মনে করে আসন্ন কমিটিতে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে তাদের পদায়নের চিন্তাও বাদ যাচ্ছেনা।

দলীয় বিশ্বস্থ সূত্রে জানা যায়, বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে আব্দুল আহাদ কলা, সহ-সভাপতি হারুন হেলাল চৌধুরী, শামছ উদ্দিন খান, নাজিম উদ্দিন, মোস্তাক আহমদ, চেয়ারম্যান মাহমদ আলী, সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল, নজমুল ইসলাম, শাহাব উদ্দিন মৌলা, আহমদ হোসেন বাবুল ও যুগ্ম সম্পাদক পদে মেয়র মো: আব্দুস শুকুরের নাম প্রায় চূড়ান্ত। অপর পদগুলোতে হারুনুর রশীদ দিপু, মোহাম্মদ জাকির হোসেন, উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কাশেম পল্লব, ভাইস চেয়ারম্যান জামাল হোসেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রুকসানা বেগম লিমা, রুমা চক্রবর্তী, চেয়ারম্যান শিহাব উদ্দিন, চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম, চেয়ারম্যান গৌছ উদ্দিন, হুমায়ুন কবির, আব্দুল বারী, আরবাব হোসেন খান, সাব্বির উদ্দিন, আলমগীর হোসেন রুনু, আব্দুল ওয়াদুদ, ছাদেক আহমদ আজাদ, ছালেহ আহমদ বাবুৃল, রুহুল আলম জালাল, নজরুল ইসলাম জায়গীরদার, মাসুম আহমদ, আব্দুল কুদ্দুছ টিটু, সাইফুল ইসলাম নিপু, আতিকুর রহমানসহ সাবেক অনেক ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বার আগ্রহী। তারা আবার বিভিন্ন নেতার অনুসারী। উল্লেখিতদের মধ্যে কয়েকজন গত কাউন্সিলে প্রতিদ্বন্ধিতা করেছেন। দলের শিক্ষা সম্পাদক শিবলী জাফরী এবং মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল কাদিরকে প্রায় চূড়ান্ত করলেও সাংগঠনিক সম্পাদকের তিন পদ নিয়ে চরম বেকায়দায় রয়েছেন নতুন সভাপতি-সম্পাদক।
দলীয় সূত্র জানায়, সহ-সভাপতি এবং যুগ্ম সম্পাদক পদে বর্তমান সভাপতি-সম্পাদক যাদের পদায়ন করতে চান তাদের অনেকেই এ দু’জনের সিনিয়র। তারা আবার নতুন সভাপতি-সম্পাদক বলয়ের বাইরের লোক হলেও দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক। কাউন্সিলে প্রতিদ্বন্ধিতা করা প্রার্থীরাও নিজেদের পছন্দমত পদপদবী চাইছেন। সাবেক ছাত্র ও যুবনেতাদের একটি শক্তিশালী বলয় পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান পেতে চাইছে। তাছাড়া কমিটিতে স্থান পেতে আগ্রহীদের অনেকেই দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং জেলার সভাপতি-সম্পাদকের কাছে ধর্ণা দিচ্ছে।

বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আতাউর রহমান খান জানান, আগামী ২৭ নভেম্বরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে জেলায় অনুমোদনের জন্য জমা দেয়া হবে। কমিটিতে আমরা সিনিয়র পাশাপাশি নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক, তরুণ এবং ত্যাগী নেতাদের অগ্রাধিকার দেব। ইতোমধ্যে পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠনে হোমওয়ার্ক চলছে। তবে কোন পদই চূড়ান্ত হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, জেলা শাখার অনুমোদনের পূর্ব পর্যন্ত সবাইকে অপেক্ষা করতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন।