প্রকাশনার ১৫ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২৫শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
১০ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
১৯শে মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

পার পাওয়ার সুযোগ থাকছে বেনজীরদের!

admin
প্রকাশিত জুন ১২, ২০২৪, ০৫:৫৭ অপরাহ্ণ
পার পাওয়ার সুযোগ থাকছে বেনজীরদের!

 

প্রজন্ম ডেস্ক:

 

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ থেকে পার পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর দুর্নীতি দমন কমিশনের পদক্ষেপের গতি অনেকটা ধীর ছিল। এই ধীরগতির সুযোগে অত্যন্ত গোপনে সপরিবারে দেশ ছেড়েছেন বেনজীর আহমেদ। এরপর অনুসন্ধান শুরু করা, অর্থ-সম্পদ ফ্রিজ-ক্রোক এবং তলবসহ অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করে দুদক। সম্প্রতি সেই তোড়জোড়ে অনেকটা ভাটা পড়েছে।

 

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজনৈতিক ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক প্রভাবের কারণে বেনজীররা দুর্নীতিতে সিদ্ধহস্ত হয়েছেন। এখনো সেই ক্ষমতার বলয়েই তারা আছেন। এখন সরকার ও ক্ষমতাসীনরা চাইলে এবং দুদক তার স্বাধীন সক্ষমতায় কাজ করলে বেনজীরদের মতো লোকজনকে আইনের আওতায় আনা যেতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সে আশা খুবই ক্ষীণ।

 

বেনজীরের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের শুরুতে দুদক যে লম্ফঝম্ফ দেখিয়েছে, এখন তা থেমে গেছে। দুদকের যে সক্ষমতা, সেটা প্রয়োগ করা যাচ্ছে না। দুদকের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় উচ্চপর্যায়ে যারা আছেন, তাদের একাংশ দুর্নীতির সহায়ক শক্তি। এ ছাড়া কালোটাকা সাদা করার আয়কর আইনে দুদকের ক্ষমতা খর্ব করা হচ্ছে।

 

আইন অনুযায়ী যারা কালোটাকা সাদা করবেন তাদের আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারবে না কোনো সংস্থা। জাতীয় সংসদে চলতি বাজেট অধিবেশনে অর্থ বিল পাস হলে আগামীতে বেনজীর আহমেদদের মতো অঢেল সম্পদের মালিকরাও দুদকের জাল ছিঁড়ে বেরিয়ে যেতে পারবেন বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

এ বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার ট্রান্সপারেন্সি ইনটারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘দুদকের যে স্বাধীনতা পাওয়ার কথা, সেটা রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এবং বাইরে থেকে চাপ বা ক্ষমতা প্রয়োগের প্রভাবের কারণে হচ্ছে না। দুদকের সিদ্ধান্ত গ্রহণ-প্রক্রিয়ায় উচ্চপর্যায়ে যারা আছেন, তাদের একাংশ দুর্নীতির সহায়ক শক্তি।

 

সাবেক পুলিশপ্রধান ও সাবেক সেনাপ্রধান দুজনই প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন। তাদের আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে দেখতে হবে সরকার কতটুকু চায়। এখানে সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা আসতে হবে যে, দুদক এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করুক। এ ক্ষেত্রে দুদকও স্বাধীনভাবে তার আইনি প্রক্রিয়া চালাবে।

 

কিন্তু বেনজীরের ক্ষেত্রে দেখা গেল দুদক প্রথমে বেশ তৎপরতা দেখিয়েছে, কিছু লম্ফঝম্ফ করেছে। এ ছাড়া চলতি বাজেটে কালোটাকা সাদা করার প্রস্তাব আসছে। সেখানে বলা হচ্ছে, যারা কালোটাকা সাদা করবেন, তাদের কাউকে জিজ্ঞাসাও করা যাবে না যে, আপনার আয়ের উৎস কী? এটা পাস হলে তো আইনে পরিণত হবে। তখন দুদকের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে।’

সিনিয়র আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী জেড আই খান পান্না বলেন, ‘এখন তো বেনজীরদেরই জয়জয়কার। রাষ্ট্রের এজেন্সিগুলো কি জানত না যে বেনজীর কত টাকার মালিক, কত সম্পদের মালিক? তাহলে তারাও তো ঘুষখোর। বাংলাদেশ ব্যাংক কি জানত না, বেনজীরের কতটা অ্যাকাউন্ট আছে, কত টাকা আছে। তাহলে বুঝতে হবে, তারাও ঘুষখোর। কী করে মানুষ বিশ্বাস করবে যে এ দেশে বেনজীর বা বেনজীরদের মতো লোকজনদের শাস্তি হবে?’

 

সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘বেনজীর আহমেদের দুর্নীতি নিয়ে পুলিশ বাহিনী বিব্রত নয়। বেনজীর আহমেদসহ যেসব পুলিশ সদস্যের অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য আসছে, সে বিষয়ে তদন্তের পরই বক্তব্য দেবে পুলিশ। তদন্তের ওপর ভরসা রাখতে চায় পুলিশ বাহিনী।

 

পুলিশের হাজারও ইতিবাচক সংবাদের মধ্যে ব্যক্তিবিশেষের কিছু নেতিবাচক সংবাদ ডিপার্টমেন্টের ওপর বর্তায় না।’
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, ‘বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুদক এখন অনুসন্ধান করছে। এরপর মামলা হবে, যদি দুদক তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকে তাহলে তিনি দুদকে এসে বা তার আইনজীবীর মাধ্যমে জবাব দেবেন। এরপর মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন আদালত।’

 

অবৈধ সম্পদের অভিযোগে বেনজীর ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে গত ২১ এপ্রিল অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। এরপর বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরে ২৮টি পুকুরসহ ৬২১ বিঘা জমি, ১৯টি কোম্পানির শেয়ার, গুলশানে ৪টি ফ্ল্যাট, ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ৩৩টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ৩টি বিও অ্যাকাউন্ট, ৮টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পূর্ণ মালিকানা ও ১৯টি ব্যবসায়িক শেয়ার ক্রোক ও ফ্রিজ করা হয়।

 

তাকে, তার স্ত্রী ও দুই মেয়েকে গত ৬ ও ৯ জুন তলব করা হলেও তারা বিদেশে অবস্থান করায় দুদকে হাজির হননি। ফলে তাদের ফের তলব করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বেনজীরকে আগামী ২৩ জুন এবং তার স্ত্রী ও মেয়েদের ২৪ জুন জিজ্ঞাসাবাদের দিন ধার্য করে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন।