প্রকাশনার ১৫ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

১৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
১১ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

নাটকে তারুণ্যের জোয়ার

admin
প্রকাশিত
নাটকে তারুণ্যের জোয়ার

ঘরোয়া বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে টেলিভিশন নাটক এখনও সাধারণ দর্শকের ভরসার জায়গা। বিশেষ করে গ্রামের দর্শক এখনও টেলিভিশন নাটকেই বিনোদিত হন।

আর এসব নাটকে কাজ করছেন একঝাঁক তরুণ অভিনয়শিল্পী। সফলতাও পাচ্ছেন তারা। এ সময়ের কয়েকজন তরুণ অভিনয়শিল্পীর কাজ ও ভাবনা নিয়ে প্রতিবেদনটি লিখেছেন –

একুশ শতক শুরুর পর থেকেই বিশ্বায়নের প্রভাব পড়ে বাংলাদেশের বিনোদন জগতে। উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে বাংলাদেশের বিনোদন জগৎ সম্প্রসারিত হতে শুরু করে।

চ্যানেল আই, একুশে টেলিভিশন, এটিএন বাংলাসহ আরও কয়েকটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল সম্প্রচারে আসে। নাটকের জন্য একমাত্র টিভি চ্যানেল বিটিভির ওপর চাপ কমতে থাকে তখন থেকে। পুরনো নির্মাতাদের পাশাপাশি একঝাঁক নবীন ও মেধাবী নির্মাতার উদয় হয় নাট্যাঙ্গনে। এ সময় থেকেই নাটক নির্মাণের সংখ্যা বেড়ে যায়।

বিটিভি আমলের প্রতিষ্ঠিত তারকাদের সঙ্গে মঞ্চ এবং বিভিন্ন মাধ্যম থেকে উঠে আসা অভিনয়শিল্পীদের সংখ্যাও বাড়তে থাকে পর্যায়ক্রমে।

ভিন্নধর্মী গল্প এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ নির্মাণের কারণে দর্শকও উৎসাহিত করতে থাকেন এসব নাটককে। জাহিদ হাসান, তৌকীর আহমেদ, মাহফুজ আহমেদ, লিটু আনাম, টনি ডায়েস, আজিজুল হাকিম, বিপাশা হায়াত, শমী কায়সার, আফসানা মিমি, ত্রপা মজুমদার, অপি করিমরা তারকাখ্যাতি নিয়ে অভিনয় করতে থাকেন টিভি নাটকে।

তরুণ বয়সেই এ তারকারা নাট্যাভিনয়শিল্পী হিসেবে দর্শকের আগ্রহের চূড়ায় অবস্থান করেন। কয়েকজন ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায় সবাই এ মধ্যবয়সে এসে এখনও নিয়মিত কাজ করছেন।

২০০০ সালের পর থেকে প্রচুর সংখ্যক তরুণ অভিনয়শিল্পী টিভি নাটকে অন্তর্ভুক্ত হন। তাদের মধ্যে অন্যতম আনিসুর রহমান মিলন, আবদুন নূর সজল, নুসরাত ইমরোজ তিশা, শ্রাবস্তী দত্ত তিন্নি, ইপ্সিতা শবনম শ্রাবন্তী, মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, ফারহানা মিলি, সুমাইয়া শিমুসহ আরও কয়েকজন অভিনয়ের মাধ্যমে তারকাখ্যাতি পান। দু-একজন বাদে অন্যরা এখনও অভিনয়ে নিয়মিত।

কয়েকজন অভিনয়ের পাশাপাশি অন্য পেশাতেও যুক্ত হয়েছেন। কিন্তু ২০১০ সালের পর টিভি নাটকের পরিবেশটাই বদলে যায়। তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষের কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম শক্তিশালী হতে থাকে। আর এ সময়ে কাজের প্রমোশনাল কর্মকাণ্ড ফেসবুক কিংবা ইউটিউবে প্রচার হতে থাকে।

এতে শিক্ষিত তরুণদের বিশাল একটি অংশ নাটকের অভিনয়ে যুক্ত হতে থাকেন। বিশেষ করে পড়ালেখার পাশাপাশি অভিনয়ে সময় দিতে থাকেন তারা।

পড়ালেখা শেষ করেও অনেকেই পেশা হিসেবে নাটকে অভিনয়কেই বেছে নিয়েছেন। এ সময়ে যে কয়জন তরুণ অভিনয়শিল্পী নিয়মিত নাটকে অভিনয় করছেন এবং দর্শকপ্রিয়তা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তাদের মধ্যে অন্যতম তৌসিফ মাহবুব, ফারহান আহমেদ জোভান, তানজিন তিশা, সাফা কবির, সাবিলা নূর, নাবিলা ইসলাম, অ্যালেন শুভ্রসহ আরও কয়েকজন অভিনয়শিল্পী।

মডেলিংয়ের মাধ্যমে মিডিয়ায় কাজ শুরু করেছিলেন তানজিন তিশা। স্থিরচিত্রের বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি মিউজিক ভিডিওতে তার অভিনয় প্রশংসিত হয়। এরপর নাটকে অভিনয় শুরু করেন এ তরুণ অভিনয়শিল্পী।

এক খণ্ডের পাশাপাশি উৎসবকেন্দ্রিক ধারাবাহিক নাটকগুলোতে গত দু’বছরে বিরতিহীনভাবে কাজ করছেন তিনি। পরিশ্রমের ফলও পাচ্ছেন দ্রুত।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অভিনয় যখন শুরু করি তখন চিন্তা করিনি দর্শকের এত ভালোবাসা পাব। মডেলিংয়ের পাশাপাশি মাঝে মধ্যে অভিনয় করার বিষয়টিই চিন্তায় ছিল। তবে এখন অভিনয়কেই পেশা হিসেবে নিয়েছি। বিশেষ করে নাটকেই বেশি কাজ করা হচ্ছে।

কিছুদিন থেকে অনলাইনের জন্য নির্মিত নাটকেও কাজ করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে দর্শকের যে প্রত্যাশা আমার ওপর তৈরি হয়েছে, তার প্রতিদান দিয়ে যেন এগিয়ে যেতে পারি- এ চিন্তা নিয়েই টিভি নাটকে কাজ করে যাচ্ছি।’ ২০১৩ সালে নাটকে অভিনয় শুরু করলেও এর আগেই মিডিয়ায় কাজ করেন তৌসিফ মাহবুব।

শুরুতে র‌্যাম্প মডেল ও বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করে পরিচিতি তৈরি করেন। শুরু থেকেই অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের নজর কাড়তে থাকেন এ অভিনেতা।

সাম্প্রতিক সময়ে অন্যতম তরুণ অভিনেতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন তৌসিফ। তিনি বলেন, ‘চড়াই-উৎরাই থাকলেও পরিকল্পনা অনুযায়ীই এগিয়ে যাচ্ছে আমার অভিনয় ক্যারিয়ার। দর্শকের ভালোবাসা নিয়ে অভিনয়েই কাজ করে যেতে চাই।’ সাবিলা নূরও শুরু থেকেই আলোচিত কাজের মাধ্যমে।

মডেলিং দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করে এখন নাটকেই নিয়মিত অভিনয়শিল্পী তিনি। টিভির পাশাপাশি অনলাইনের নাটকেও কাজ করছেন এ অভিনয়শিল্পী।

তিনি বলেন, ‘দর্শকের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি অনেকদিন ধরেই। দর্শক যতদিন উৎসাহ জোগাবেন, ততদিনই অভিনয় করব।’

নাটকের আরেক জনপ্রিয় মুখ সাফা কবির। ২০১৩ সালে মডেলিং এবং নাটকে অভিনয় শুরু করেন এ তরুণ অভিনয়শিল্পী। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই আলোচনায় রয়েছেন। বিশেষ করে কয়েকটি খণ্ড নাটকে তার অভিনয় দর্শকের হৃদয় কাড়ে। মাঝে কাজের গতি কমিয়ে দিলেও আবার ব্যস্ত হয়েছেন অভিনয়ে।

তিনি বলেন, ‘দর্শক এবং সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় এখনও অভিনয় করে যাচ্ছি। অভিনয়ের কারণেই সবার ভালোবাসা পেয়েছি। তাই আগামী সময়গুলোতেও অভিনয়েই থাকতে চাই।’ ২০১১ সাল থেকেই মিডিয়ায় যুক্ত হন ফারহান আহমেদ জোভান। শুরুতে বিজ্ঞাপনে কাজ করলেও ২০১৪ সাল থেকে নাটকে অভিনয় করছেন।

অল্প সময়ের মধ্যেই দর্শকের প্রিয় অভিনয়শিল্পীর তালিকায় নিজের নাম যুক্ত করেন। এ সময়ের কয়েকজন ব্যস্ত অভিনয়শিল্পীর মধ্যে তিনি অন্যতম।

কাজের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শুরুতে খুব বেশি পরিকল্পনা না থাকলেও এখন পরিকল্পনা করেই কাজ করছি। পছন্দের বাইরের কোনো নাটকে অভিনয় করি না। এ ছাড়া এখন অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেয়া যায়। আমাদের কাজের ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হচ্ছে। আগে শুধু টিভি নাটক নির্মিত হলেও এখন অনলাইনের জন্যও নাটক নির্মিত হচ্ছে। এতে করে আমাদের হাতে প্রচুর কাজ আসছে। আশা করছি, দর্শকের ভালোবাসা নিয়েই আগামী সময়গুলো অতিক্রম করতে পারব।’

২০১৫ সাল থেকে নিয়মিত অভিনয় করছেন নাবিলা ইসলাম। তিনিও দর্শকের পছন্দের অভিনেত্রী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

ক্যারিয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সব যে ভালো কাজ করছি তা নয়, তবে আমার অভিনীত সিংহভাগ কাজই দর্শকপ্রিয়তা পাচ্ছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’

অন্যদিকে অভিনয় ক্যারিয়ার দীর্ঘ হলেও বয়সে কিন্তু এখনও নবীন শখ, সারিকা। কিন্তু তাদের বেহিসাবি জীবনযাপনের কারণে নির্মাতা ও দর্শকদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছেন। তা না হলে এখনও শীর্ষদের তালিকাতেও তারা থাকতেন।

সব মিলিয়ে নাটকে দর্শকের বিশাল প্রত্যাশার চাপ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন এ সময়ের আলোচিত এ তরুণ অভিনয়শিল্পীরা। তাদের অনুসরণ করে প্রতিনিয়তই নতুন অভিনয়শিল্পীর আগমন ঘটছে নাটকপাড়ায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন।