প্রকাশনার ১৫ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

১৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
১১ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

তিন ইউপি সদস্যকে পিটিয়ে মোটরসাইকেল নদীতে ফেলে দিলেন চেয়ারম্যান

admin
প্রকাশিত
তিন ইউপি সদস্যকে পিটিয়ে মোটরসাইকেল নদীতে ফেলে দিলেন চেয়ারম্যান

 

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আরুয়া ইউনিয়ন পরিষদের তিন ইউপি সদস্যকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত ওই তিন ইউপি সদস্যকে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনালের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত ইউপি সদস্যরা হলেন, আরুয়া ইউপির ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য জয়নাল আবেদীন, ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য সোহেল রানা এবং ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য দেলোয়ার হোসেন।

ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার রাতে ওই তিন ইউপি সদস্যসহ পাঁচজন ইউপি সদস্য উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবদুর রহিম খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রতি বছর তাদের ওয়ার্ডের দুস্থ লোকজনকে ত্রাণ সহায়তা দেন রহিম খান। এবারও সহায়তা দেওয়ার জন্য রহিম খান তাদেরকে দেখা করার কথা বলেন। রোববার রাতে তারা রহিম খানের সঙ্গে দেখা করে মোটরসাইকেলে করে ফিরছিলেন।

৪নং ওয়ার্ডের সদস্য জমাত আলী ও ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য আয়নাল মোল্লাকে তাদের বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে মোটরসাইকেলে করে ইউপি সদস্য জয়নাল, সোহেল ও দেলোয়ার দুটি মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে রাতে ১২টার দিকে কুষ্টিয়া গ্রামে কুষ্টিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সামনে তাদের দুটি মোটরসাইকেল গতিরোধ করেন আরুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোনায়েম মুনতাকিন খান ওরফে অনিক ও তার লোকজন।

এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান জানতে চান তারা কোথায় গিয়েছিলেন। সাবেক উপজেলা চেয়াারম্যান রহিম খানের কাছে যাওয়ার কথা বলার সঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যান ও তার লোকজন তিন ইউপি সদস্যের ওপর হামলা করেন। এতে ইউপি সদস্য জয়নাল, সোহেল ও দেলোয়ার গুরুতর আহত হন। এ সময় হামলাকারীরা ইউপি সদস্যদের ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল পাশে পদ্মা নদীতে ফেলে দেন। এরপর তাদের ডাক চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে জেলা সদরে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা করেন।

ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদীন বলেন, প্রতি বছরই শিবালয় উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যার আবদুল রহিম খান এলাকার অসহায় ও দুস্থদের মাঝে সহায়তা দিয়ে থাকেন। এবার ঈদেও তিনি সহায়তা দেবেন, এজন্য তার কাছ থেকে সহায়তা নিয়ে দুস্থদের দেওয়ার চেষ্টা করলে ইউপি চেয়ার‌ম্যান আমাদের ওপর ক্ষুদ্ধ হন। এ কারণে তাদের ওপর এই হামলা করেন ইউপি চেয়ারম্যান ও তার লোকজন। ইউপি চেয়ারম্যানের চাচা উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান রেজাউর রহমান খান সামনের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে এবারও নির্বাচন করবেন। অন্যদিকে সাবেক চেয়ারম্যান রহিম খানও একই পদে নির্বাচন করবেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান মোনায়েম মুনতাকিম খান বলেন, ইউপি সদস্যদের ওপর হামলার বিষয়টি আজ সকালে শুনেছি। তবে কে বা কারা তাদের মারধর করেছে তা জানি না। আজ সারাদিন ভিজিএফের চাল বিতরণে ব্যস্ত ছিলাম বিধায় তাদের খোঁজখবর নিতে বা দেখতে যেতে পারিনি।

শিবালয় থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুর রউফ সরকার বলেন, ইউপি সদস্যদের মারধরের ঘটনার বিষয়টি শুনেছি। তবে এ বিষয়ে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

সংবাদটি শেয়ার করুন।