প্রকাশনার ১৫ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২৪শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
১০ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
১৮ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

জেলা আওয়ামীলীগে দৌঁড়ঝাঁপ : কারা আসছেন নেতৃত্বে?

admin
প্রকাশিত
জেলা আওয়ামীলীগে দৌঁড়ঝাঁপ : কারা আসছেন নেতৃত্বে?

আশরাফুল ইসলাম ইমরান :
আগামী ৫ ডিসেম্বর সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে তৃণমূলে দেখা দিয়েছে উৎসাহ উদ্দীপনা। নেতাকর্মীদের মনে চাঙ্গা মনোভাব লক্ষ্য করা গেছে। জেলা আওয়ামী লীগে পদপ্রত্যাশীরা শুরু করে দিয়েছেন দৌঁড়ঝাঁপ। বাড়াচ্ছেন তৃণমূলের সাথে বাড়তি যোগাযোগ। নিয়মিত দলীয় কাজে অংশগ্রহণ করছেন পদপ্রত্যাশীরা। দিনরাত প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। সম্মেলন ঘিরে এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে জেলা আওয়ামীলীগে। কমিটিতে আসতে ইতিমধ্যে নেতারা লবিং করা শুরু করে দিয়েছেন। জেলা কমিটিতে আসতে নেতারা লবিং করলেও দলের জন্য নিবেদিত নেতাদের কমিটিতে চাচ্ছেন কর্মীরা।

২০১১ সালের নভেম্বর মাসে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়েছিলো। কমিটির মেয়াদ ছিল তিন বছর। এর পর পার হয়েছে টানা আট বছর। আর এই লম্বা সময়েও জেলার অনেক উপজেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। এ দীর্ঘ সময়ে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ নিজেদের আওতাধীন ১৩টি উপজেলার মধ্যে মাত্র ৬টিতে আংশিক কমিটি করতে পেরেছে। এ অবস্থায় সংগঠনের কাজে স্থবিরতা দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের উদ্যোগ নেয় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। এতো সময় পেয়েও সম্মেলন কিংবা কমিটি করতে না পারায় সিলেট আওয়ামী লীগ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। সম্প্রতি সিলেটে এসে তারা ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে সব শাখার সম্মেলন করতে কঠোর নির্দেশ দিয়ে যান দায়িত্বশীলদের। এরপরই নড়েচড়ে বসেন সিলেট আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। আগামী ৫ ডিসেম্বর জেলা সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

দলীয় একটি সুত্র জানিয়েছে, এবারের সম্মেলনে নবীন ও প্রবীনের সমন্বয়ে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি আসতে পারে। দলে অনুপ্রবেশকারীদের সরিয়ে ত্যাগীদের মূল্যায়ন চাইছে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

আসন্ন সম্মেলনে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে সভাপতি প্রার্থীর সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন বর্তমান কমিটির সভাপতি এডভোকেট লুৎফুর রহমান, সহ সভাপতি ও সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী ও বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, সহ সভাপতি, সিলেট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, সহ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমেদ। সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীর সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন, বর্তমান জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন, সুজাত আলী রফিক, অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবু জাহিদ ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান কমিটির উপ-দপ্তর সম্পাদক জগলু চৌধুরী।

২০০৫ সালে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়েছিলো। সম্মেলনে সভাপতি, সিনিয়র সহ সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়। পরে দীর্ঘ ছয় বছর পর ২০১১ সালের ২১ নভেম্বর তিন বছরের জন্য পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয় কেন্দ্র। এই কমিটির সভাপতি হন আব্দুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ান ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী। পরে সভাপতি আব্দুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ান মারা গেলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পান এ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান।

দীর্ঘদিন পরে সম্মেলন হওয়ায় নেতাকর্মীদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। সমে¥লনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় না সমঝোতার ভিত্তিতে কমিটি গঠন করা হবে, তা বলা যাচ্ছে না। যে ভাবেই কমিটি হোক দলের জন্য নিবেদিত ও ক্লীন ইমেজের নেতৃত্ব চায় তৃণমূল।
আলাপকালে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী জগলু চৌধুরী দৈনিক জালালাবাদকে বলেন, ছাত্রলীগের রাজনীতি করে আওয়ামী লীগে এসেছি। তৃণমূলের নেতাকর্মীর সমর্থন রয়েছে আমার প্রতি। কঠিন সময়ে দলের জন্য কাজ করেছি। আমি আশা করছি এবারের সম্মেলনে সাংগঠনিকভাবে দক্ষ ও ক্লিন ইমেজের ব্যক্তিরাই নেতৃত্বে আসবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন।