প্রকাশনার ১৫ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
১০ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
১৩ই শাবান, ১৪৪৫ হিজরি

“জানতে চাই” ১৯৭০-২০১৮ পর্যন্ত সিলেট-৬ আসনে কেমন শিক্ষিত জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছিলেন ?

admin
প্রকাশিত
“জানতে চাই” ১৯৭০-২০১৮ পর্যন্ত সিলেট-৬ আসনে কেমন শিক্ষিত জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছিলেন ?

Exif_JPEG_420

এডভোকেট মো: আমান উদ্দিন:  এলাকাবাসীর শাসনতান্ত্রিক ও রাষ্ট্রীয় অধিকার জানা প্রয়োজন। ১৯৭০-২০১৮ সাল পর্যন্ত সংসদ সদস্যদের শিক্ষাজীবন, পেশা, আয়ের উৎস, এ মর্মে সুষ্পষ্ট হলফনামা, পরবর্তী নির্বাচনে প্রচার মাধ্যমে তার আয়, ঋণ কত টাকা আছে, তা জনসম্মুখে প্রকাশ করলে জনগণ একদিকে তার প্রতিনিধি নির্বাচন করতে যেমন সহজ হবে ঠিক তেমনি জনগণ তার ভালো প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পেরে গর্ববোধ করবে, সেটাই জনগণের সফলতা।

বাস্তবে রাজনীতি তো কোন পেশা নহে, কারণ জীবন জীবিকা চালাতে হলে জনগণের সেবা করতে হলে নিশ্চিত জনপ্রতিনিধির আয়ের উৎস অবশ্যই থাকতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা নেই। উন্নত বিশ্বে রাজনীতিকে পেশা হিসেবে অনেকে বেছে নিয়েছেন কারণ সেখানে সে সুযোগ আছে। ভালো রাজনীতিবীদ একটি বক্তব্য দিলে কোন অনুষ্ঠানে সেখানে আয়োজনকারী কতৃপক্ষ লক্ষ লক্ষ ডলার প্রদাণ করে থাকে, কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা কোন অনুষ্ঠানে অতিথি হওয়ার জন্য আয়োজনকারী কতৃপক্ষকে পুরা অনুষ্ঠানের খরচ প্রদাণ করতে হয়। যেমন- পশ্চিমা বিশ্বের নেতা আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, ক্লিনটন-হিলারী ক্লিনটন সহ অনেক নেতার বক্তব্য বা তাদের লিখিত বই বাজারে চড়া মূল্যে বিক্রি হয়।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের রাজনীতি কুলষিত। এখন আমার মতে আমজনতা মনে করে রাজনীতির একটি পদ হলে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, নানাবিধ ঠকবাজী ও দুর্বৃত্তায়নের সুযোগ সহজে পাওয়া যায়। আঙ্গুঁল ফুলে কলাগাছ বা টাকার কুমির হওয়া যায় কিন্তু সাধারণ জনগণের ভালোবাসা অর্জন করা সম্ভব নহে। সুতরাং বর্তমান সময়ের রাজনীতিবীদদের সাধারণ জনগণ ভয় করে। ধিক্কার দেয়। যদিও রাজনীতিবীদরা গর্ব করেন যা কিছু অর্জন হয়েছে তার অধিকাংশ রাজনীতিবিদদের হাত ধরে। এ খোড়া যুক্তি এখন আর জনগণ মানতে চায় না।

সুশীল সমাজে আলোচনা হচ্ছে জনপ্রতিধি হতে হলে শিক্ষাগত যোগ্যতা অন্তত পক্ষে কিছু থাকা দরকার। তখন জনপ্রতিনিধি হওয়ার যাদের খায়েশ, তারা অনেকে থমকে গেছেন এ কেমন কথা ! সুশীল সমাজর ভাবে শিক্ষাগত সনদ থাকলে অন্তত পক্ষে জনগণ প্রশ্ন করতে পারবে এতো উচ্চতর শিক্ষা অর্জন করলে, অনেক নীতি নৈতিকতা শিখলে, শিখালে কিন্তু চুরি বা দুর্বৃত্তায়ন কোথাও তো শেখানো হয়না। কিন্তু রাজনীতিতে যোগ দিয়েই চুরি, ডাকাতি, টেন্ডারবাজি, চাঁদা শুরু করে দিলেন। ভ্রান্ত শিক্ষা সনদ ও যোগ্যতা না জেনে ভোট দিয়েছিলাম। হয়ত শিক্ষিত হওয়ার সুবাদে পরবর্তী চুরি-চামারি, টেন্ডারবাজি না করতে পারেন। এখানে সুযোগ সন্ধানিরা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের গণতন্ত্রের সংজ্ঞা উপস্থাপন করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান। বলতে আনন্দ উপভোগ করেন আব্রাহাম লিংকন তো ছিলেন ‘রাজমিস্ত্রি’। তিনি যদি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হতে পারেন তাহলে আমি কেন অল্প শিক্ষিত হয়ে হতে পারবোনা। আব্রাহাম লিংকন ছিলেন চরিত্রবান, পেশায় ছিলেন রাজমিস্ত্রি। আব্রাহাম লিংকনের ঐতিহাসিক চিঠি তাঁর ছেলেকে উদ্দেশ্য করে লিখেছিলেন। সেই চিঠিটি লেমিনেট করে রাখা আছে। যা তার শিক্ষাও নৈতিক যোগ্যতার প্রমাণ।

 

খোড়া যুক্তি উপস্থাপন করে অশিক্ষিত জনপ্রতিনিধিরা শিক্ষকদের শায়েস্তা করে থাকেন। যেমন নারায়ণগঞ্জের এম.পি শওকত ওসমান প্রধান শিক্ষককে কান ধরে উঠ-বস করে শাস্তি দিয়েছেন প্রকাশ্যে জনসম্মুখে।

শুরুতেই বলেছি ১৯৭০-২০১৮ সাল পর্যন্ত সিলেট-৬ আসন থেকে যারাই এম.পি নির্বাচিত হয়েছেন তাদের তালিকা যথাক্রমেঃ- ১। মরহুম এডভোকেট মোঃ আব্দুর রহিম ১৯৭০ ও ১৯৭৩, ২। মরহুম মোঃ লুৎফুর রহমান ১৯৭৯,
৩। ডঃ সৈয়দ মকবুল হোসেন ১৯৮৬ ও ২০০১, ৪। মরহুম গৌছ উদ্দিন ১৯৮৮, ৫। শরফ উদ্দিন খছরু ১৯৯১ ও ১৯৯৬, ৭। নুরুল ইসলাম নাহিদ ১৯৯৬, ২০০৯, ২০১৪ এবং ২০১৮ এবং এখনো বহাল আছেন।

 

উল্লেখিত ব্যক্তিগণের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক পরিচিতি আছে। তাদের পক্ষে বা নিজেরা বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে তাদের বর্ণাঢ্য শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ অর্জনের সন, তারিখ সহ প্রকাশ করলে জাতি যেমনি উপকৃত হবে, ঠিক তেমনি তাদের কর্মী সমর্থকদের কাঁদা ছুড়াছুড়ি বন্ধ হবে। অনেক ক্ষেত্রে তাদের কর্মী সমর্থকরা তাদের নেতা বিশ্ববিদ্যালয়ে না পড়েও ডাকসুর ভি.পি, জি.এস ইত্যাদি ছিলেন এমন অহেতুক দাবি করে সমাজে নানাবিধ বিশৃংখলার ক্ষেত্র তৈরি করে। এমতাবস্থায় আপনি অথবা আপনার প্রতিনিধির মাধ্যমে গৌরব উজ্জল শিক্ষা জীবনটা জাতির সামনে তুলে ধরলে জাতি যেমনি সঠিকভাবে আপনাকে জানতে পারবে, ঠিক যারা আপনাকে নিয়ে কাঁদা ছুড়াছুড়ি করে তাদেরও স্থায়ী ভাবে এ সমালোচনার পথ বন্ধ হয়ে যাবে। আপনি নিজে এগিয়ে এসে নিজের সবচেয়ে গৌরব উজ্জল অর্জন শিক্ষা জীবনকে তুলে ধরুন। এখানে তো লজ্জার কিছু নেই।

 

সুশীল সমাজ জনপ্রতিনিধি হওয়ার পূর্বশর্ত হিসাবে যে শিক্ষাগত যোগ্যতার দাবি তুলেছেন, বর্তমান সংসদে এ দাবির স্বপক্ষে বিল আসলে কন্ঠভোটে এক মিনিটে পাশ না হওয়ার পক্ষে মেজরিটি সংসদ সদস্যগণ ভোট দিবেন। কেননা আমার জানামতে বুবলি (এম.পি) সনদ যোগ্যতার জন্য জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ধরা খেয়েছে ঠিক তেমনি বেশীরভাগ প্রভাবশালী এম.পি সনদবিহীন হওয়ায় তাদের দাপট ক্ষুন্ন হবে এ কারণে শুরুতেই বাধার সম্মুখীন হবে সুশীল সমাজের প্রস্তাবটি। দৃশ্যমান রাজনীতিবীদদের ত্যাগ আছে। আর সেটা হচ্ছে এই দল থেকে ঐ দলে যোগ দেওয়া। নীতি, আদর্শ যাহাই থাকুক। ক্ষমতা চাই, মন্ত্রিত্ব চাই, প্রধানমন্ত্রীত্ব চাই। এখানে নীতি আদর্শের কোন কথাই নাই।

একমাত্র বাংলাদেশের কিংবদন্তী রাজনীতিবিদ হচ্ছেন মজলুম জননেতা মৌলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী। তিনি তাঁর জীবদ্দশায়, এমপি, মন্ত্রী কোন কিছুই তোয়াক্কা করেন নি। আজীবন জনগণের স্বার্থে আন্দোলন করে গেছেন। ঐতিহাসিক কাগমারি সম্মেলন থেকে ফারাক্কা অভিমুখে লংমার্চ সহ নানা জাতীয় ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে গেছেন। সেজন্য সর্বজনস্বীকৃত জনস্বার্থের রাজনীতিবিদ হিসাবে সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত। জাতি তাঁকে শ্রদ্ধাভরে সম্মান করে। প্রকাশ থাকা আবশ্যক যে ১৯৪৮ সালের ২৩শে মার্চ এ আর খানের রোজ গার্ডেনের বাসায় আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। প্রতিষ্ঠাকালীন সভা থেকে আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, সাধারণ সম্পাদক সামছুল হক, এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসাবে শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্বাচিত করা হয়।

 

নিজের গৌরব উজ্জল শিক্ষাজীবন তুলে ধরছি। যদিও সমালোচক বাঁকা চোখে দেখবে। তবুও আমার অর্জিত শিক্ষা সনদগুলা যথাক্রমেঃ
দাসউরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণী পাস করে ৮ম শ্রেনী পর্যন্ত দাসউরা উচ্চ বিদ্যালয়ে লেখাপড়া শেষ করে ৯ম শ্রেনীতে বিজ্ঞান শাখায় সিলেটের দি এইডেড হাইস্কুলে ভর্তি হয়ে ২য় বিভাগে ১৯৮৫ সালে এস.এস. সি পাশ করি। ১৯৮৭ সালে বিজ্ঞান শাখায় সিলেট এম.সি. বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২য় বিভাগে এইচ. এস. সি. পাশ করি। ১৯৮৯ সালে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সিলেট বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে বি. এস. এস ৩য় বিভাগে উত্তীর্ণ হই।

১৯৯২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ২য় শ্রেনীতে এম. এস. এস ডিগ্রী লাভ করি। মেধা তালিকায় ১৪তম স্থান ছিল এম. এস. এস ডিগ্রী অর্জন কালে। ১৯৯৮ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সিলেট ’ল’ কলেজ থেকে ৩য় শ্রেনীতে এল.এল.বি পাস করি। ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সনদ অর্জন করি। ২০১১ সালে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের আইন মন্ত্রনালয়ের অধীনে সমগ্র বাংলাদেশে কর্ম পরিচালনার জন্য নোটারী পাবলিক হিসাবে সনদ প্রাপ্ত হই।

আমার জানা মতে এখানে একটিও জাল সনদ নেই। জাল সনদের কারণে বাংলাদেশে সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের বিচারপতি ফয়েজ আহমদকে সুপ্রীম জুডিশিয়াল কাউন্সিল অপসারিত করার সুপারিশ করেছেন। সুতরাং সনদ জালিয়াতি এত সহজ কথা নহে।

লেখকঃ সভাপতি সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বিয়ানীবাজার উপজেলা।

সংবাদটি শেয়ার করুন।