প্রকাশনার ১৫ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
৭ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহে ঘাটতি, চরম ভোগান্তি

admin
প্রকাশিত
জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহে ঘাটতি, চরম ভোগান্তি

প্রজন্ম ডেস্ক:

 

জাতীয় গ্রিডে গ্যাস কম। তাই সিএনজি ফিলিং স্টেশন এবং বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপ কম। ঘূর্ণিঝড় রিমালে ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভাসমান লিকুইড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল পুরোপুরি সচল না হওয়ায় এ অবস্থা হয়েছে। ঝড়ের পর থেকে জাতীয় গ্রিডে কমপক্ষে ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ হচ্ছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজধানীবাসী, ভুগছেন দেশের অন্য অংশের লোকজনও।

তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন ও ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের সিস্টেম অপারেশন বিভাগের (মেট্রো ঢাকা) উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, জাতীয় গ্রিডে গ্যাস যুক্ত হচ্ছে কম। এ কারণেই সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের চাপ কম। ঢাকা শহরের অনেক বাসাবাড়িতেও একই কারণে গ্যাসের চাপ কম। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি টার্মিনালটি কবে চালু হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা কিছু বলতে পারছেন না।

ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগপ্রবণ বাংলাদেশে গ্যাসের জাতীয় গ্রিডে নিরবচ্ছিন্ন ও নির্বিঘ্ন এলএনজি সরবরাহে কেবল ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের ওপর নির্ভর করা অতিমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের। এ ক্ষেত্রে স্থলভাগের ওপরও টার্মিনাল নির্মাণ করা দরকার বলে মনে করেন তারা। এতে কোনো কারণে সাগরে ভাসমান টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার প্রয়োজন হলেও স্থলভাগের ওপর নির্মিত টার্মিনাল ব্যবহার করে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব।

 

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম. তামিম বলছেন, বাংলাদেশের মতো দুর্যোগপ্রবণ দেশে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের পাশাপাশি ভূমিভিত্তিক টার্মিনাল দরকার। অন্তত ১৫ দিনের মজুত সক্ষমতা কাজে লাগানো গেলেও চলবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মধ্যে একটি দেশীয় কোম্পানি এবং আরেকটি নির্মাণ করছে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি। জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। দুটি টার্মিনাল থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় এলএনজি সরবরাহের পরও জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের চাহিদার তুলনায় ঘাটতি থাকে দৈনিক প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট। এ অবস্থায় কোনো কারণে একটি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বন্ধ হলে গোটা দেশেই তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দেয়। তখন রেশনিং করে চালানো হয়।

 

সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন

মগবাজার মোড়ে আনুদিপ সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গতকাল রাতে দেখা যায়, প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ গাড়ির লাইন। মগবাজার মোড় থেকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল পার হয়ে বাংলামোটর পর্যন্ত চলে গেছে গাড়ির লাইন। এ সময় চালকদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে দেখা যায়।

একজন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক বলেন, ‘আগে একবার গ্যাস নিলেই হয়ে যেত। এখন দুবার গ্যাস নিলেও হয় না। গ্যাসের চাপ কম থাকায় বাতাস ঢোকে। গ্যাসের কোয়ালিটি ভালো হয় না। দুবার গ্যাস নেওয়ার কারণে দীর্ঘ সময় ফিলিং স্টেশনের সামনেই কাটাতে হচ্ছে। ফলে ভাড়ার টাকাই ওঠে না। খুব ঝামেলায় আছি।’

দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর গ্যাস পেলেও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন চালকরা। এমনই একজন চালক রাশেদ বলেন, ‘আগে সিলিন্ডার ভরতে ৩০০ টাকা লাগলেও এখন ১০০ টাকার বেশি গ্যাস নেওয়া যাচ্ছে না। ফিলিং স্টেশন থেকে প্রতিবারই বলা হয়, গ্যাসের চাপ কম। এই সমস্যা সপ্তাহখানেক হয়ে গেল।’

একই অবস্থা দেখা যায় রোকেয়া সরণি, মতিঝিল, খিলগাঁও ও রামপুরা এলাকার বেশ কয়েকটি সিএনজি স্টেশনে। তেজগাঁও সাতরাস্তার পাশে আকিজ সিএনজি স্টেশনে গ্যাস না থাকায় বন্ধই করে রাখা হয়েছে।

বাসাবাড়ি ও শিল্পকারখানাতেও গ্যাসের চাপ কম

এদিকে সিএনজি ফিলিং স্টেশনের পাশাপাশি বাসাবাড়িতেও গ্যাসের চাপ কম। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এমনটা দেখা গেছে। এসব এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, সকাল থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত গ্যাসের চাপ প্রায় থাকে না বললেই চলে।

মালিবাগের বাসিন্দা রাজধানীর একটি কলেজের শিক্ষক শাহাদত হোসেন বলেন, ‘দুপুর পর্যন্ত গ্যাস প্রায় থাকেই না। সকাল ৮টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত চাপ থাকে না। তারপর স্বাভাবিক হতে থাকে।’

রাজধানীর ধানমন্ডির শংকরের বাসিন্দা সাইফুন্নাহার বলেন, ‘গ্যাস তো থাকেই না। মাসের পর মাস এমনটা চললেও তিতাস গ্যাস কোনো পদক্ষেপই নেয় না। বাধ্য হয়ে এই অঞ্চলের মানুষজন সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করে। আবার গ্যাস না পেলেও বিল কিন্তু ঠিকই দিয়ে যেতে হচ্ছে।’

গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সাভার ও নরসিংদীর শিল্পকারখানাগুলোতে বিরাজ করছে তীব্র গ্যাস সংকট। মাঝে মাঝেই দেখা যাচ্ছে ব্যবসায়ীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের দাবি করছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সঞ্চালন লাইন থেকে দূরবর্তী শিল্পকারখানাগুলোতে গ্যাসের চাপ কম থাকছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন।