প্রকাশনার ১৫ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২৫শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
১০ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
১৯শে মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

আরোপিত অনাদায়ি সুদ

admin
প্রকাশিত নভেম্বর ২৯, ২০২৩, ০৭:০৭ অপরাহ্ণ
আরোপিত অনাদায়ি সুদ

সম্পাদকীয় :
খেলাপি ঋণের প্রভাবে ব্যাংক খাত নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জানা যায়, মাত্রাতিরিক্ত খেলাপি ঋণের কারণে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ৫৭ হাজার কোটি টাকার আরোপিত সুদ আয় খাতে নিতে পারছে না। এসব অর্থ স্থগিত সুদ হিসেবে আলাদা হিসাবে রাখা হয়েছে। নানা কারণেই ব্যাংকগুলোর আয় কমছে। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের কারণে মোটা অঙ্কের সুদ আয় খাতে নিতে না পারায় ব্যাংকগুলোর প্রকৃত মুনাফা কমে যাচ্ছে।

প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো যেসব সুদ আদায় করে এবং নিয়মিত ঋণের বিপরীতে যেসব সুদ আরোপিত হয়, সেগুলো আদায় না হলেও আয় খাতে দেখাতে পারে। কিন্তু কোনো ঋণ খেলাপি হলে এর বিপরীতে সুদ নগদ আদায় ছাড়া আয় খাতে নিতে পারে না। সেগুলোকে স্থগিত সুদ হিসেবে আলাদা হিসাবে জমা রাখতে হয়। ওইসব সুদ নগদ আদায় হলেই আয় খাতে নিতে পারে। যেসব খেলাপি ঋণ নবায়ন করা হবে, ওইসব সুদ আয় খাতে নেওয়া যাবে। এছাড়া আর কোনো সুদ আয় খাতে নেওয়া যাবে না। বর্তমানে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলো মোটা অঙ্কের সুদ আয় খাতে নিতে পারছে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৈরি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৪০ কোটি টাকায়। এর বিপরীতে আরোপিত সুদের পরিমাণ ৫৬ হাজার ৮৪১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। কিন্তু এসব সুদ আদায় না হওয়ায় বা খেলাপি ঋণ নবায়ন না করায় এগুলো আয় খাতে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকের রয়েছে ২৫ হাজার ৭৪৯ কোটি টাকা। বেসরকারি ৪৩ ব্যাংকের খেলাপি ঋণের কারণে ২৮ হাজার ৬৭৫ কোটি টাকার সুদ আয় স্থগিত রাখা হয়েছে। এ বিপুল অঙ্কের আয় স্থগিত হয়ে যাওয়ায় কমে গেছে ব্যাংকের নিট আয়।

নানা ধরনের ছাড় দিয়েও ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ কমাতে সফল হয়নি বাংলাদেশ ব্যাংক। নানা লক্ষ্য বেঁধে দিয়েও ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির মূল কারণ ব্যাংক খাতে সুশানের অভাব। ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিরা প্রভাবশালী। তারা যাতে ঋণ শোধে আগ্রহী হন, সেজন্য কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ব্যাংক খাতে প্রতিষ্ঠা করতে হবে সুশাসন। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণ আদায়ে বিদ্যমান আইনের বাস্তবায়নও জরুরি।

সংবাদটি শেয়ার করুন।