প্রকাশনার ১৫ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
১১ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
১৪ই শাবান, ১৪৪৫ হিজরি

আমি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত, বলেছিলেন এমপি বাদল

admin
প্রকাশিত
আমি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত, বলেছিলেন এমপি বাদল

হঠাৎ করেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন চট্টগ্রাম-৮ আসন থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য (এমপি) মঈন উদ্দীন খান বাদল।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে ভারতের বেঙ্গালুরুর নারায়ণ হৃদরোগ রিসার্চ ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে তিনি মারা যান।

মৃত্যুর জন্য সর্বদা প্রস্তুত ছিলেন এমপি বাদল। সে কথাই তিনি জানিয়েছিলেন চট্টগ্রামের এক গণমাধ্যমে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোট অংশ নেবে কিনা এমন এক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল সে সময়।

সেই বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই মঈন উদ্দীন খান বাদলের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন গণমাধ্যমটির সাংবাদিক।

এ সময় রাজনীতিবিদ হিসেবে নিজেকে কতটুকু সফল বলে মনে করেন, জবাবে বাদল বলেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের জেনারেল সুজন সিংহবানের কাছে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম আমরা। উনি হেডকোয়ার্টার করেছিলেন রাঙামাটি। আমি আর প্রয়াত ছাত্রনেতা এসএম ইউসুফ তার কাছে গেলাম একদিন। তিনি বললেন, বাচ্চা ‘চা পিয়ো’(চা খাও)।

চা খেতে খেতে জেনারেল সুজন সিংহবানে বলছিলেন, দেখো নিজেকে এমনভাবে তৈরি করবে যেন যেকোনো পরিস্থিতিতে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার মানসিকতা থাকে। তবেই তুমি একজন ভালো যোদ্ধা হবে। তোমাকে প্রস্তুত থাকতে হবে। তোমার মৃত্যুতে কেউ চোখের পানি ফেলবে না। কেউ শোকবার্তা দেবে না। এ রকম নীরবে যদি মরে যেতে পার, তবেই তুমি একজন আসল যোদ্ধা।

সিংহবানের সেই নিদের্শনাটি তার কানে এখনও বাজে বলে জানিয়েছিলেন এমপি বাদল।

তিনি বলেছিলেন, সুজন সিংহবানের কথাটি আমার হৃদয়ে দাগ কেটেছে। মুক্তিযুদ্ধকালীন সেই মানসিকা নিয়েই যুদ্ধ করেছি। জয়লাভ করেছি। সেই থেকেই আমি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত। খালি হাতে এসেছিলাম। খালি হাতেই যাব।

উল্লেখ্য, গত ১৮ অক্টোবর থেকে ভারতে প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ দেবী শেঠির তত্ত্বাবধানে ছিলেন মঈন উদ্দীন খান বাদল। চিকিৎসাধীন হার্টফেল করে মৃত্যুবরণ করেন।

এ তথ্য নিশ্চিত করে তার ভাই মনির উদ্দীন খান বলেন, মরহুমের মরদেহ দ্রুত বাংলাদেশে আনা হবে।

প্রসঙ্গত ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি জন্ম নেয়া মঈন উদ্দীন খান বাদল বোয়ালখালী উপজেলা জাসদের সভাপতি ছিলেন। তিনি চট্টগ্রাম-৮ আসনের তিন বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন। তার তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

সংসদেও বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর ছিল তার। প্রতিটি সংসদ অধিবেশনেই সপ্রতিভ ক্ষুরধার বক্তব্য রাখতেন তিনি।

একাত্তরের রণাঙ্গনে জীবনবাজি রেখে লড়েছেন দেশমাতৃকার জন্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন।